জেল হত্যা দিবস কবে? | জেল হত্যা দিবস কেন পালন করা হয়

প্রিয় পাঠকগণ জেল হত্যা দিবস কবে সম্পর্কে জানার জন্য আপনাদের অনেকেরই আগ্রহ লক্ষনীয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের জানার আগ্রহ অনেক বেশি হয়ে থাকে।

তাই আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আপনাদের সাথে আলোচনা করব জেলহত্যা দিবস সম্পর্কে।

জেল হত্যা সম্পর্কে আমরা কমবেশি সকলেই শুনেছি কিন্তু এ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা আমাদের নেই। বাংলাদেশের ইতিহাসে আরও একটি কালো দিন বলা হয়ে থাকে জেলহত্যা কে।

এই দিনেই বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একজন নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা এই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করতে চলেছি।

জেল হত্যা দিবস

জেল হত্যা দিবস
জেল হত্যা দিবস

বাংলাদেশের জেল হত্যা দিবস হচ্ছে ৩ নভেম্বর।

১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর দ্বিতীয় কলঙ্ক জনিত অধ্যায় হচ্ছে জেল হত্যা।

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তার পুরো পরিবারকে হত্যা করার পর এর ৩ মাস না যেতেই আবারো হত্যাকাণ্ড চলে। 

মুক্তিযুদ্ধের সময় অন্যতম ভূমিকায় ছিলেন বীর সেনানী ও চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এএইচএম কামরুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলী।

ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে অভ্যন্তরে নির্মমভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছিল।

এর আগে জাতীয় চার নেতাকে ১৫ আগস্ট এর পর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

৩ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনা ও চার জাতীয় নেতাকে যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত এই অধ্যায়টি স্মরণ করা হয়।

আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠনের উদ্যোগে সারাদেশে এই শোক দিবস পালন করা হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিসভার সবচেয়ে ঘৃণিত বিশ্বাসঘাতক সদস্য হিসেবে পরিচিত তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

এবং বঙ্গবন্ধুর দুই খুনি কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান ও লেফট্যানেন্ট কর্নেল (অব.) খন্দকার আব্দুর রশীদ জেলখানায় জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যার এ পরিকল্পনা করেন।

এ কাজ করার জন্য তারা আগে থেকেই একটি দল গঠন করে তারপর তারা এ কাজ পরিচালনা করেছেন।

এই দলটির প্রধান ছিলেন রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন।

তিনি ছিলেন ফারুকের সবচেয়ে আস্থাভাজন একজন অফিসার।

১৫ ই আগস্ট শেখ মনির বাসভবনে যে ঘাতক দলটি হত্যাযজ্ঞ চালায় সে দলটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মুসলেহ উদ্দিন। 

আরও পড়ুনঃ

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা কে?

ROM এর পূর্ণরূপ কি?

সুন্দরবন সম্পর্কে ১০ টি বাক্য

৩রা নভেম্বর জেল হত্যা দিবস

অন্যতম সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস তার ‘বাংলাদেশ এ লিগ্যাসি অব ব্লাড’ গ্রন্থটির মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।

তিনি সেখানে উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পরপরই জেলের মধ্যে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

পরিকল্পনাটি এমনভাবে গ্রহণ করা হয়েছিল যাতে করে পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে আপনাআপনি এটি কার্যকর হয় যায়।

এবং এই কাজের জন্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি ঘাতক দল গঠন করা হয়েছিল।

এই ঘাতক দেওয়ালের প্রতি নির্দেশ ছিল পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটার সঙ্গে সঙ্গে যেন কোনো নির্দেশের অপেক্ষায় না থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারের মধ্যে গিয়ে তারা জাতীয় নেতাদের কে হত্যা করে।

এর পরে পচাত্তরের ৩ নভেম্বর খালেদ মোশারফ পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটানোর পর এই কেন্দ্রীয় কারাগারে এই জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল।

১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ বঙ্গবন্ধু যখন আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

এর পরেই পাকিস্তানের সামরিক জান্তা বঙ্গবন্ধুকে তার ঐতিহাসিক ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যান।

এর পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ নয় মাস যাবত বিশাল রক্ত ক্ষয় যুদ্ধ চলে।

এরমধ্যে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

জেল হত্যা দিবস কত তারিখে

জেল হত্যা দিবস কত তারিখে
জেল হত্যা দিবস কত তারিখে

বাংলাদেশের যখন মুক্তিযুদ্ধ চলতে থাকে সেই সময়ে মুজিবনগর সরকারের সমাধিক পরিচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দিন আহমেদ।

একটি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠায় কুটি বাংলাদেশী মানুষের স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

আমাদের বঙ্গবন্ধুর আর একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী এ এইচ এম কামরুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলী।

আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে নীতি ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট এ আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তার পুরো পরিবারের সদস্যদের।

এবং পরবর্তীতে তিন মাস যেতে না যেতেই তেসরা নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

এই সকল হত্যাকান্ডের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল লন্ডনে।

এইসকল হত্যার জন্য দায়ী সকল আসামির বিরুদ্ধে আইন ও বিচার প্রক্রিয়াকে যেসব কারণ বাধাগ্রস্থ করেছে,

সেগুলো তদন্ত করার জন্য ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৮০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

কিন্তু ঠিক সেইসময় বাংলাদেশ সরকারের অসহযোগিতার কারণে এবং কমিশনের একজন সদস্যকে ভিসা প্রদান না করায় এই উদ্যোগটি সফল হতে পারেনি। 

সেসময় বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

অধ্যাপক আবু সাইয়িদের গ্রন্থে এই সকল কমিটি গঠনের বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে।

তার গ্রন্থটির নাম ছিল ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ফ্যাক্টস অ্যান্ড ডকুমেন্টস।

এর মধ্যে বলা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই কন্যা বর্তমান বাংলাদেশ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ছোট বোন শেখ রেহানা,

মনসুর আলীর পুত্র মোঃ সেলিম এবং সৈয়দ নজরুল ইসলামের পুত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের আবেদনক্রমে স্যার থমাস উইলিয়ামস কিউ. সি. এমপি’র নেতৃত্বে এই কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ এবং বিদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত জনসভায় সমূহের এই আবেদনটি ব্যাপকভাবে সমর্থিত হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ

স্নাতকোত্তর মানে কি?

মেট্রোরেল সম্পর্কে ১০ টি বাক্য

ভাষা শহীদদের সম্পর্কে ১০টি বাক্য

জেল হত্যা দিবস পালন 

জেল হত্যা দিবস পালন
জেল হত্যা দিবস পালন

বাংলাদেশ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মধ্যে জাতীয় চার নেতা হত্যার ষড়যন্ত্র হয়েছিল তা প্রমাণিত হয়েছে বলে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে জানানো হয়েছে।

জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলায় পলাতক দুই জন আসামি এলডি (দফাদার) আবুল হাসেম মৃধা ও দফাদার মারফত আলী শাহকে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে।

আপিল বিভাগে দেয়া হয়েছে ২৩৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় ২০১৫ সালের ২ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হয়।

এর আগে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়।

এর পরদিনই তৎকালীন উপ-কারা মহাপরিদর্শক কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানা পুলিশের কাছে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলা দায়েরের ২৩ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

ওই ঘটনার মধ্যে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মোঃ আতাউর রহমান।

এবং এই রায় ঘোষিত হয় ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর।

সেদিনের রায়ে বিচারক ঘোষণা করেন রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন (পলাতক), দফাদার মারফত আলী শাহ  (পলাতক), ও এল ডি (দফাদার) আবুল হাসেম মৃধাকে (পলাতক) মৃত্যুদণ্ড দেন।

এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৪ আসামি সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন আহমেদসহ ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা কেএম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, নুরুল ইসলাম মঞ্জুর ও তাহেরউদ্দিন ঠাকুরকে খালাস দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ

নিজের সম্পর্কে ১০ টি বাক্য 

পহেলা বৈশাখ সম্পর্কে ১০টি বাক্য

পদার্থ বিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ কিভাবে ঘটেছে?

জেল হত্যা দিবস কবে FAQS

জেল হত্যা দিবস কবে?

বাংলাদেশে জেল হত্যা দিবস হচ্ছে ৩ নভেম্বর।

৩ নভেম্বর কাদের হত্যা করা হয়?

মুক্তিযুদ্ধের সময় অন্যতম ভূমিকায় ছিলেন বীর সেনানী ও চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এএইচএম কামরুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলী।

উপসংহার 

প্রিয় পাঠকগণ আজকের এই আর্টিকেল থেকে আমরা জেল হত্যা দিবস কবে এবং জেলহত্যা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আপনাদের সামনে উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি।

আশা করছি আপনাদের আজকের এই আর্টিকেলটি ভালো লেগেছে এবং আপনারা আজকের এই আর্টিকেল থেকে জেল হত্যা দিবস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

আপনাদের যদি এই বিষয়ে আরো কোনো প্রশ্ন অথবা মতামত থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন।

আমাদের সকলেরই আগ্রহ থাকে অনলাইনের মাধ্যমে কাজ করে টাকা আয় করার।

কিন্তু সঠিক প্ল্যাটফর্ম এবং সঠিক উপায় না জানার কারণে আমরা ঠিকঠাক ভাবে অনলাইনে কাজ করে টাকা আয় করতে সক্ষম নই।

আপনারা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইন থেকে ঘরে বসে টাকা আয় সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের আর্টিকেলগুলো পেয়ে যাবেন।

আপনারা চাইলে সে সকল আর্টিকেলগুলো করে নিজেদের অনলাইন ভিত্তিক কাজকে অগ্রসর করতে পারেন।

একই সাথে আমাদের রয়েছে সংক্রান্ত সকল আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের ফেসবুক পেইজে

Leave a Comment

eighteen + 13 =