বাংলাদেশে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন করে অগ্রিম আয়কর বা এআইটি চালুর আলোচনা এখন ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর আগামী বাজেটে মোটরসাইকেল ও কিছু যানবাহনের ওপর নতুন কর আরোপের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে দেশের লাখ লাখ মোটরসাইকেল মালিককে প্রতি বছর অতিরিক্ত কর দিতে হতে পারে।
বর্তমানে মোটরসাইকেলের জন্য ট্যাক্স টোকেন নবায়ন বাধ্যতামূলক থাকলেও এবার তার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে নতুন অগ্রিম আয়কর ব্যবস্থা।
এতে বিশেষ করে রাইড শেয়ারিং চালক, ডেলিভারি কর্মী এবং মধ্যবিত্ত মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
Content Summary
মোটরসাইকেলের ওপর নতুন কর কেন আনার পরিকল্পনা
এনবিআরের বিভিন্ন আলোচনায় বলা হচ্ছে, কর নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা যানবাহনগুলোকে করের আওতায় আনার জন্য এই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সরকার রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি কর সংস্কৃতি সম্প্রসারণ করতে চায়।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৯ লাখ নিবন্ধিত মোটরসাইকেল রয়েছে। এর বড় অংশই সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং জীবিকার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ঈদে টেলিটকের বিশেষ অফার ২০২৬ | কম টাকায় জিবি ইন্টারনেট, মিনিট ও এসএমএস
কোন সিসির বাইকে কত কর বসতে পারে
অভ্যন্তরীণ আলোচনায় সম্ভাব্য কর হার নিয়ে যেসব তথ্য এসেছে তা হলো
- ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল নতুন করের আওতায় আসতে পারে
- ১১১ থেকে ১২৫ সিসি পর্যন্ত বাইকে বছরে প্রায় ২০০০ টাকা কর
- ১৬৫ সিসি পর্যন্ত বাইকে বছরে ৫০০০ টাকা কর
- ১৬৫ সিসির বেশি বাইকে বছরে ১০০০০ টাকা পর্যন্ত কর
যদিও এখনো বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি, তবে আগামী বাজেটে এটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
যেভাবে অগ্রিম কর আদায় করা হতে পারে
এনবিআরের আলোচনায় টিন নম্বরের মাধ্যমে কর আদায়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
অর্থাৎ মোটরসাইকেল মালিকদের ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার নিতে হতে পারে এবং সেই টিনের বিপরীতে অগ্রিম কর কেটে নেওয়া হতে পারে।
এছাড়া লাইসেন্স নবায়ন, ট্যাক্স টোকেন বা নিবন্ধন প্রক্রিয়ার সঙ্গেও এই কর যুক্ত করা হতে পারে। ফলে প্রতিবছর কাগজপত্র নবায়নের সময় কর পরিশোধ বাধ্যতামূলক হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ২০ টাকায় আবেদন, ১০ দিনে নিষ্পত্তি, গ্রাম আদালতে বাড়ছে মানুষের আস্থা
কেন উদ্বেগ বাড়ছে বাইক মালিকদের মধ্যে
বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের দাম ইতোমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় বেশি। এর ওপর নতুন কর আরোপ হলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা আর্থিক চাপে পড়বেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে যারা ফুড ডেলিভারি, কুরিয়ার বা রাইড শেয়ারিং করে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের জন্য এই কর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। অনেকেই বলছেন, তারা আগে থেকেই ট্যাক্স টোকেন ফি দেন। নতুন অগ্রিম কর যুক্ত হলে সেটি দ্বৈত চাপ হয়ে দাঁড়াবে।
বিশেষজ্ঞরা কি বলছেন
অর্থনীতিবিদ ও কর বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার করের আওতা বাড়াতে চাইলেও বাস্তবতা বিবেচনা করা জরুরি। কারণ মোটরসাইকেল এখন আর বিলাসপণ্য নয়, বরং প্রয়োজনীয় পরিবহন ও আয়ের মাধ্যম।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কর আরোপ করা হলে সেটি ধাপে ধাপে এবং যৌক্তিক হারে হওয়া উচিত। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের বাইক ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ ছাড় বা আলাদা নীতিমালাও প্রয়োজন হতে পারে।
মোটরসাইকেল কর নিয়ে সামনে কী হতে পারে
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আগামী জাতীয় বাজেটে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তাই দেশের লাখো মোটরসাইকেল মালিক এখন সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


