বাংলাদেশে ডিজিটাল সেবা আরও সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী করতে ইন্টারনেটের মূল্য কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলালিংকের কাছে ইন্টারনেটের দাম আরও কমিয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওনের চেয়ারম্যান অগি ফাবেলার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই আহ্বান জানান।
বৈঠকে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ এবং সাধারণ মানুষের জন্য প্রযুক্তি সহজলভ্য করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
Content Summary
কেন ইন্টারনেটের দাম কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে
বর্তমান সময়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা, ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন ব্যাংকিং এবং সরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণের জন্য ইন্টারনেট অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু অনেক সাধারণ মানুষের জন্য এখনো ইন্টারনেট ব্যয় একটি বড় বিষয়।
প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, ইন্টারনেটের মূল্য আরও কমানো গেলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও সহজে ডিজিটাল সেবার আওতায় আসতে পারবেন। এতে ডিজিটাল বৈষম্য কমবে এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
বাংলালিংককে কী নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলালিংক কর্তৃপক্ষকে শুধু ইন্টারনেটের দাম কমানোর আহ্বানই জানাননি, পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য স্মার্টফোন আরও সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন।
তার মতে, কম দামে স্মার্টফোন এবং সাশ্রয়ী ইন্টারনেট নিশ্চিত করা গেলে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ডিজিটাল সেবার সুবিধা সমানভাবে ভোগ করতে পারবেন।
এটি স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুনঃ প্রিপেইড মিটারে ২০০ ডিজিটের টোকেন নম্বর যেভাবে রিচার্জ করবেন
বৈঠকে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল
- ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ
- ইন্টারনেট আরও সহজলভ্য করা
- প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি
- স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ানো
- সাধারণ মানুষের জন্য প্রযুক্তির খরচ কমানো
এছাড়া দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
বৈঠকে কারা উপস্থিত ছিলেন
এই সৌজন্য সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম
প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ
ভিওনের বোর্ড সদস্য মিশেল সোয়েটিং
বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইওহান হেনড্রিক মার্টিনাস বাস
তারা দেশের ডিজিটাল রূপান্তর, প্রযুক্তি বিনিয়োগ এবং গ্রাহকসেবার উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় করেন।
আরও পড়ুনঃ পরীক্ষায় নকল করলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, নতুন বিল সংসদে
সাধারণ গ্রাহকরা কী সুবিধা পেতে পারেন
যদি টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলো ইন্টারনেটের মূল্য আরও কমায়, তাহলে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে কোটি কোটি গ্রাহকের ওপর।
সম্ভাব্য সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে
কম খরচে ইন্টারনেট ব্যবহার
অনলাইন শিক্ষা আরও সহজ হবে
ফ্রিল্যান্সারদের ব্যয় কমবে
ডিজিটাল ব্যাংকিং ও ই-কমার্স ব্যবহারে উৎসাহ বাড়বে
গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে
স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়তে পারে
এতে দেশের সামগ্রিক ডিজিটাল অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।
উপসংহার
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সাশ্রয়ী ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি সহজলভ্য করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান বাস্তবায়িত হলে সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার এবং ব্যবসায়ী সবাই উপকৃত হবেন।
একই সঙ্গে কম দামে স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা গেলে দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের গতি আরও বাড়বে এবং প্রযুক্তির সুবিধা সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে যাবে।
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


