ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে টাকা চাইলে তা যৌতুক হিসেবে গণ্য হবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, যৌতুকের সংজ্ঞায় এমন দাবি পড়ে না।
বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি মো. রিয়াদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সম্প্রতি এই রায় দেন। রায়ে বলা হয়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(ক) ধারায় যৌতুকের যে সংজ্ঞা দেওয়া আছে, তাতে ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে টাকা চাওয়া যৌতুকের অন্তর্ভুক্ত নয়।
মামলার ঘটনা
মামলার অভিযোগে বলা হয়, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা চাইলে স্ত্রী তা দিতে অস্বীকার করেন। এ নিয়ে পারিবারিক বিরোধ তৈরি হয়।
স্ত্রী থানায় যৌতুকের অভিযোগ করেন। পুলিশ মামলা দায়ের করে। মামলাটি প্রথমে বিচারিক আদালতে যায়। সেখান থেকে হাইকোর্টে আপিল করা হয়।
হাইকোর্ট মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখেন, অভিযোগটি যৌতুকের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
আদালত বলেন, যৌতুক মানে হলো বিয়ের সময় বা বিয়ের পর সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বর বা বরের পরিবারের কাছ থেকে কনের বা কনের পরিবারের কাছে কোনো ধরনের সম্পদ বা টাকা দাবি করা।
ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে টাকা চাওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। এটি যৌতুকের সংজ্ঞায় পড়ে না।
আদালত আরও বলেন, যদি স্বামী স্ত্রীর কাছে টাকা চেয়ে তা না পেয়ে নির্যাতন করে, তাহলে সেটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অন্য ধারায় অভিযোগ করা যাবে। কিন্তু তা যৌতুকের অভিযোগ হবে না।
আইনি ব্যাখ্যা
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(ক) ধারায় যৌতুকের সংজ্ঞা দেওয়া আছে। এই ধারা অনুযায়ী, বিয়ের সময় বা বিয়ের পর যৌতুক হিসেবে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কোনো সম্পদ দাবি করলে তা অপরাধ।
আইনজীবীরা বলছেন, হাইকোর্টের এই রায় যৌতুকের মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করল। এতে ভবিষ্যতে বিচারিক আদালতগুলো এই বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাবে।
প্রতিক্রিয়া
এই রায় নিয়ে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ বলছেন, এটি যৌতুকবিরোধী আইনের অপব্যবহার রোধে সহায়ক হবে। আবার কেউ বলছেন, এতে নারীরা আরও অসহায় হয়ে পড়বেন।
নারীর অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই রায়ের ফলে যৌতুকের মামলায় প্রমাণের মান আরও কঠিন হয়ে যাবে।
আরও পড়ুনঃ
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


