স্ত্রী চাইলে বকেয়া দেনমোহর স্বামীকে তাত্ক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিয়ের সময় বকেয়া রাখা দেনমোহর পরবর্তীতে স্ত্রী দাবি করা মাত্রই তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে হবে বলে ঐতিহাসিক এই রায় দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি আব্দুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।
দেনমোহরের জন্য তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর অপেক্ষা করতে হবে না
রায়ে হাইকোর্ট স্পষ্ট করেন, দেনমোহর পাওয়ার জন্য স্ত্রীকে বিবাহবিচ্ছেদ কিংবা স্বামীর মৃত্যুর মতো ঘটনার জন্য আর অপেক্ষা করতে হবে না। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ১০ ধারা অনুযায়ী, কাবিননামায় দেনমোহর পরিশোধের পদ্ধতি উল্লেখ না থাকলে সম্পূর্ণ দেনমোহর চাহিবামাত্র পরিশোধযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
আদালত বলেন, ইসলামে দেনমোহর ফেলে রাখা বা বকেয়া রাখার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। এটি স্ত্রীর তাৎক্ষণিক ও অবিচ্ছেদ্য প্রাপ্য অধিকার।
আর্থিক সামর্থ্য থাকলেও গড়িমসি করলে ক্ষতিপূরণ
রায়ে আরও বলা হয়, আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোনো স্বামী যদি দেনমোহর পরিশোধে অযথা গড়িমসি বা কালক্ষেপণ করে এবং স্ত্রীকে দেনমোহর আদায়ের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য করে, তবে বিচারিক আদালত স্বামীকে মূল দেনমোহরের পাশাপাশি স্ত্রীকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবেন।
আদালতের এই পর্যবেক্ষণ দেনমোহর আদায়ে নারীর অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ভয়েস কলে আনলিমিটেড ইন্টারনেট দেবে বাংলালিংক, প্রতি মিনিটে ১০ এমবি ফ্রি
আদালতের দেনমোহর কমানোর এখতিয়ার নেই
হাইকোর্ট তার রায়ে স্পষ্ট করেন, দেওয়ানি চুক্তি বা আইনের সুস্পষ্ট ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো অবস্থাতেই দেনমোহরের কোনো অংশ কমানো, হ্রাস করা কিংবা মওকুফ করার আইনি এখতিয়ার কোনো আদালতের নেই।
তবে স্ত্রী স্বেচ্ছায়, সচেতনভাবে এবং কোনো ধরনের চাপ বা প্রভাব ছাড়া দেনমোহরের পুরো বা আংশিক অংশ মওকুফ করলে তা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। জোরপূর্বক, প্রতারণা বা অন্যায় প্রভাবের মাধ্যমে নেওয়া কোনো মওকুফ বৈধ বলে গণ্য হবে না।
আরও পড়ুনঃ স্টারলিংকের প্রযুক্তিতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্যাটেলাইট মোবাইল সেবা চালুর অনুমোদন পেল বাংলালিংক
সমাজে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণার অবসান
এর আগে সমাজে একটি ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত ছিল যে বিবাহবিচ্ছেদ কিংবা স্বামীর মৃত্যুর পরই কেবল বকেয়া দেনমোহর দাবিযোগ্য হয়। হাইকোর্টের এই রায়ের মাধ্যমে সেই দীর্ঘদিনের আইনি অস্পষ্টতা ও জটের অবসান ঘটল।
মামলার আইনজীবী ব্যারিস্টার ইশরাত হাসান এই রায়কে দেশের আইনি অঙ্গন ও নারীর অধিকার সুরক্ষায় অনন্য মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
আরও পড়ুনঃ বাংলালিংককে ইন্টারনেটের দাম আরও কমানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


