ঢাকা’র ১০৫ কিমি সড়কে চালু হচ্ছে জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ব্যবস্থা

রাজধানী ঢাকার যানজট সমস্যা বহু বছরের। অফিস টাইমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকা এখন অনেকটাই স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তবে এবার সেই চিত্র বদলাতে বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। “জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট” প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকার প্রায় ১০৫ কিলোমিটার সড়কে নিরবচ্ছিন্ন যান চলাচল নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর ব্যস্ত মোড়গুলোতে আর আগের মতো দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না।

একবার এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্কে প্রবেশ করলে মাঝপথে ট্রাফিক সিগন্যাল ছাড়াই গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কেন প্রয়োজন জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ব্যবস্থা

বর্তমানে ঢাকায় যানবাহনের গড় গতি ঘণ্টায় মাত্র ৪ কিলোমিটার বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। প্রতিদিন লাখ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে যানজটের কারণে। এর সঙ্গে বাড়ছে জ্বালানি অপচয় ও বায়ুদূষণ।

আমার দৃষ্টিতে, শুধু নতুন সড়ক তৈরি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার, সঠিক পরিকল্পনা এবং নাগরিক সচেতনতা একসঙ্গে নিশ্চিত করতে পারলেই প্রকল্পটি কার্যকর হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ ঢাকা সহ ৬৪ জেলায় টিসিবি ডিলার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬

কীভাবে কাজ করবে জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক

এই প্রকল্পে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোকে একটি বিশেষ এক্সপ্রেস নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হবে। এখানে থাকবে না প্রচলিত ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

পরিকল্পনায় রয়েছে:

  • ১৬টি নতুন ওভারপাস ও আন্ডারপাস
  • ১৩টি ইউ-লুপ
  • ৭টি ইন্টারচেঞ্জ সার্কেল
  • ৩০টি নতুন ফুটওভারব্রিজ
  • ধীরগতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেন

ফলে যানবাহন থেমে না গিয়ে ধারাবাহিকভাবে চলাচল করতে পারবে।

যেসব এলাকায় পরিবর্তন আসবে

এই প্রকল্পের আওতায় ঢাকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা আনা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • শাহবাগ
  • বাংলামোটর
  • কারওয়ান বাজার
  • মহাখালী
  • বনানী
  • মিরপুর ১০
  • সায়েন্সল্যাব
  • নীলক্ষেত
  • রামপুরা
  • নতুনবাজার

এসব এলাকায় প্রতিদিন সবচেয়ে বেশি যানজট তৈরি হয়। তাই এখান থেকেই পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যেতে পারে।

আরও পড়ুনঃ বুয়েটের নকশায় দেশের প্রথম ই-রিকশা চালু | কী কী সুবিধা থাকছে আরবা মিনিতে

ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে প্রকল্প

সরকার তিন ধাপে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে।

প্রথম ধাপে অভ্যন্তরীণ সড়কে অটোমেটেড ট্রাফিক সিস্টেম চালু করা হবে।

দ্বিতীয় ধাপে ১০৫ কিলোমিটার সড়কে জিরো সিগন্যাল ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।

তৃতীয় ধাপে শহরের বাইরে বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, দিনের বেলায় ট্রাক চলাচল সীমিত করা এবং ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আগের প্রকল্পগুলো কেন সফল হয়নি

এর আগে ঢাকায় আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, নিয়ম না মানা এবং অতিরিক্ত ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণের কারণে সেগুলো কার্যকর হয়নি।

এবারও যদি শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করা হয় কিন্তু সঠিকভাবে পরিচালনা না করা হয়, তাহলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ রাজধানীতে আরও ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা বসাচ্ছে ডিএমপি, বাড়ছে নজরদারি

ঢাকার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ

যদি প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ঢাকার যানজট পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। অফিসগামী মানুষ কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন, জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং দূষণও কমবে।

তবে বাস্তবতা হলো, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে এমন প্রকল্প সফল করতে হলে কঠোর ট্রাফিক আইন প্রয়োগ এবং নাগরিক সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার

ঢাকায় আসছে জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক প্রকল্প রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

১০৫ কিলোমিটার সড়কে নিরবচ্ছিন্ন যান চলাচল নিশ্চিত করা গেলে নগরবাসীর সময়, জ্বালানি ও ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।

এখন দেখার বিষয়, পরিকল্পনাগুলো কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।

আরও পড়ুনঃ ঢাকার AI ট্রাফিক ক্যামেরায় কোন অপরাধে কত টাকা জরিমানা

এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ

WhatsApp Group Join Now
WhatsApp Group 1 Join Now
Telegram Group Join Now
আপনি কি কমদামে মিনিট, ইন্টারনেট ও বান্ডেল অফার খুঁজছেন!

ভিজিট করুন 👉

━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━

ডিজিটাল টাচ
ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে
Sharing Is Caring:

আমি শেখ মোঃ আমিনুল ইসলাম (সুজন)। ডিজিটাল টাচ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। এইচএসসি (বিজ্ঞান); চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।