বাংলাদেশে আসছে ২৫০ কিমি রেঞ্জের Durbar ইলেকট্রিক বাইক

বাংলাদেশে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল বা ই-বাইক। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, কম খরচে যাতায়াত এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির কারণে এখন অনেকেই ইলেকট্রিক বাইকের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে প্রতিদিন অফিস, ব্যবসা বা ডেলিভারি সেবায় যুক্ত মানুষের কাছে এই ধরনের যানবাহন হয়ে উঠছে বেশ কার্যকর।

এই পরিস্থিতিতে বাজারে আলোচনায় এসেছে নতুন ইলেকট্রিক বাইক “Durbar”। আধুনিক ডিজাইন, দীর্ঘ ব্যাটারি রেঞ্জ এবং শক্তিশালী মোটরের কারণে বাইকটি ইতোমধ্যে প্রযুক্তিপ্রেমী ও তরুণদের আগ্রহের কেন্দ্রে এসেছে।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের দাবি অনুযায়ী, একবার পূর্ণ চার্জে বাইকটি সর্বোচ্চ ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম, যা বাংলাদেশের বাজারে ই-বাইকের ক্ষেত্রে বড় ধরনের আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।

শক্তিশালী মোটর ও পারফরম্যান্স

নতুন Durbar ইলেকট্রিক বাইকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ২৫০০ ওয়াটের শক্তিশালী মোটর। এই মোটরের সাহায্যে বাইকটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে বলে জানানো হয়েছে।

শহরের ট্রাফিক পরিস্থিতিতে দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য এটি বেশ উপযোগী হতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘ দূরত্বে চলাচলের ক্ষেত্রেও বাইকটি ভালো পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যারা প্রতিদিন অফিস কিংবা ব্যবসার কাজে দূরে যাতায়াত করেন, তাদের জন্য এটি একটি কম খরচের বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা হতে পারে।

এক চার্জে ২৫০ কিলোমিটার রেঞ্জ

Durbar বাইকের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে এর দীর্ঘ রেঞ্জ সুবিধা। এতে ৭২ ভোল্টের ২৩ থেকে ১০০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি অপশন রাখা হয়েছে। ব্যবহারকারীরা VRLA অথবা লিথিয়াম ব্যাটারির মধ্যে পছন্দ অনুযায়ী নির্বাচন করতে পারবেন।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, একবার পূর্ণ চার্জে বাইকটি ৫০ কিলোমিটার থেকে সর্বোচ্চ ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম। ফলে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলেও বারবার চার্জ দেওয়ার ঝামেলা কম হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক ব্যবহারকারী ইলেকট্রিক বাইকের সীমিত রেঞ্জ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। তবে এই দীর্ঘ রেঞ্জ সুবিধা ই-বাইক ব্যবহারে নতুন আগ্রহ তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুনঃ জন্মের পরই হবে ডিজিটাল আইডি ও ওয়ালেট দেশের নতুন ডিজিটাল পরিকল্পনা

চার্জিং সুবিধা ও বিদ্যুৎ খরচ

বাইকটির চার্জিং সময় ধরা হয়েছে প্রায় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা। এটি AC 110-220 ভোল্ট ইনপুট সাপোর্ট করে। অর্থাৎ সাধারণ বাসাবাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করেই সহজে চার্জ দেওয়া যাবে।

ব্যবহারকারীরা রাতে চার্জে রেখে সকালে পূর্ণ চার্জ অবস্থায় বাইক ব্যবহার করতে পারবেন। যেহেতু এতে পেট্রোল বা অকটেনের প্রয়োজন নেই, তাই মাসিক যাতায়াত খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

বর্তমান জ্বালানি সংকট ও বাড়তি তেলের দামের সময়ে এটি অনেকের জন্য অর্থ সাশ্রয়ের একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে।

নিরাপত্তা ও ব্রেকিং সিস্টেম

নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে Durbar ইলেকট্রিক বাইকে। সামনে এবং পেছনে ডিস্ক ব্রেক ব্যবহার করা হয়েছে, যা দ্রুতগতিতেও ভালো নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

এছাড়া এতে রয়েছে উন্নত হাইড্রোলিক ব্রেক সিস্টেম। বাইকের সামনের টায়ারের মাপ ২.৭৫-১৮ এবং পেছনের টায়ার ১১০/৯০-১৬ হওয়ায় রাস্তার সঙ্গে ভালো গ্রিপ বজায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের শহর ও মহাসড়কের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় এই নিরাপত্তা ফিচারগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুনঃ ট্রাভেল এজেন্সি নিয়ে সরকারের জরুরি সতর্কবার্তা

আধুনিক ডিজাইন ও কম রক্ষণাবেক্ষণ খরচ

Durbar বাইকটিতে আধুনিক ডিজাইন ব্যবহার করা হয়েছে। এতে রয়েছে অ্যালয় রিম এবং চেইন স্প্রকেটবিহীন প্রযুক্তি। ফলে প্রচলিত মোটরসাইকেলের তুলনায় রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম হতে পারে।

এছাড়া ইলেকট্রিক মোটরের কারণে শব্দও কম হবে, যা শহরের শব্দ দূষণ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। বাইকটির লোড ক্যাপাসিটি ১৬০ কেজি পর্যন্ত রাখা হয়েছে। ফলে দুইজন যাত্রী নিয়েও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশে ইলেকট্রিক বাইকের ভবিষ্যৎ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্রুত বাড়ছে ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার। পরিবেশ দূষণ কমানো এবং জ্বালানি নির্ভরতা হ্রাসের কারণে বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে এই খাত বিস্তৃত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি চার্জিং অবকাঠামো আরও উন্নত করা যায় এবং ইলেকট্রিক বাইকের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা সম্ভব হয়, তাহলে আগামী কয়েক বছরে দেশের সড়কে ই-বাইকের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে।

বিশেষ করে রাইড শেয়ারিং, অনলাইন ডেলিভারি এবং স্বল্প খরচে ব্যক্তিগত যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই খাতকে সম্ভাবনাময় মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুনঃ ঈদে টিসিবির ট্রাকসেল শুরু, কত দামে মিলবে তেল চিনি ও ডাল

ওয়ারেন্টি ও যোগাযোগ

নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, শর্তসাপেক্ষে ব্যাটারি, মোটর এবং কন্ট্রোলারের জন্য ৬ মাসের ওয়ারেন্টি সুবিধা রাখা হয়েছে। এতে নতুন ব্যবহারকারীরা কিছুটা নিশ্চিন্ত থাকতে পারবেন।

বাইকটির মূল্য এবং বিস্তারিত তথ্য জানতে যোগাযোগ করা যাবে এই নম্বরে:

+88 01777-773452

উপসংহার

দীর্ঘ রেঞ্জ, কম খরচ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব সুবিধার কারণে Durbar ইলেকট্রিক বাইক বাংলাদেশের বাজারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

জ্বালানি তেলের বাড়তি খরচের এই সময়ে অনেক ব্যবহারকারীর জন্য এটি হতে পারে সাশ্রয়ী এবং স্মার্ট পরিবহন সমাধান।

আগামী দিনে বাংলাদেশের সড়কে ইলেকট্রিক বাইকের ব্যবহার আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুনঃ সারাদেশের ভূমি মালিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ

WhatsApp Group Join Now
WhatsApp Group 1 Join Now
Telegram Group Join Now
আপনি কি কমদামে মিনিট, ইন্টারনেট ও বান্ডেল অফার খুঁজছেন!

ভিজিট করুন 👉

━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━

ডিজিটাল টাচ
ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে
Sharing Is Caring:

আমি শেখ মোঃ আমিনুল ইসলাম (সুজন)। ডিজিটাল টাচ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। এইচএসসি (বিজ্ঞান); চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।