পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে প্রতি বছরই বাংলাদেশে এবার ঈদে নতুন টাকার দাম এবং এর প্রাপ্যতা নিয়ে মানুষের আগ্রহ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ছোটদের সালামি দেওয়ার জন্য নতুন নোট সংগ্রহ করা একটি দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা।
কিন্তু চলতি বছরে ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত নতুন নোট না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে খোলাবাজার থেকে বাড়তি দামে নতুন টাকা কিনছেন।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নতুন নোটের বান্ডিল কিনতে গ্রাহকদের ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দাম দিতে হচ্ছে।
Content Summary
ঈদে নতুন টাকার চাহিদা কেন বাড়ে
প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার আগে নতুন টাকার চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। পরিবারের ছোট সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের সালামি দেওয়ার জন্য অনেকেই আগেভাগে নতুন নোট সংগ্রহ করতে চান।
এই সময়ে ব্যাংকের কাউন্টার ও এটিএম বুথের বাইরে নতুন নোট পাওয়ার জন্য মানুষের ভিড় দেখা যায়।
কিন্তু যখন ব্যাংকে পর্যাপ্ত নতুন নোট পাওয়া যায় না, তখন অনেকেই খোলাবাজারের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
আরও পড়ুনঃ কৃষক কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা
এবার ঈদে নতুন টাকার বান্ডিলে কত বেশি দাম
রাজধানীর মতিঝিল, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন নোটের বান্ডিল কিনতে স্বাভাবিক দামের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে।
বর্তমানে বাজারে যে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে তা হলো:
- ১০ টাকার বান্ডিল: প্রায় ৪০০ টাকা বেশি
- ২০ টাকার বান্ডিল: প্রায় ৪০০ টাকা বেশি
- ৫০ টাকার বান্ডিল: প্রায় ৩০০ টাকা বেশি
- ১০০ টাকার বান্ডিল: প্রায় ৪০০ টাকা বেশি
- ৫০০ টাকার বান্ডিল: প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেশি
অর্থাৎ, নতুন টাকার চাহিদা বেশি হওয়ায় বাজারে এর মূল্য স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে গেছে।
ব্যাংকে নতুন নোটের সরবরাহ কম কেন
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাধারণত ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট বাজারে ছাড়ে। তবে চলতি বছরে এখনো পর্যন্ত নতুন নোট ছাড়ার বিষয়ে কোনো বড় ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
গত বছরও সীমিত পরিসরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার নতুন নোট বাজারে ছাড়া হয়েছিল। ফলে ব্যাংকগুলোতে নতুন নোটের সরবরাহ সীমিত থাকায় অনেক গ্রাহকই ব্যাংক থেকে নতুন টাকা সংগ্রহ করতে পারছেন না।
আরও পড়ুনঃ সরকারি অফিসে নতুন নিয়ম । প্রথম ৪০ মিনিট বাধ্যতামূলক উপস্থিত থাকতে হবে
খোলাবাজারে কেন দাম বেশি
খোলাবাজারের বিক্রেতাদের মতে, নতুন নোট সংগ্রহ করাই এখন কঠিন হয়ে গেছে। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে অল্প পরিমাণে নতুন নোট সংগ্রহ করতে তাদেরও বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।
ফলে তারা সেই খরচ পুষিয়ে নিতে অতিরিক্ত দামে নতুন নোট বিক্রি করছেন। এ কারণে সাধারণ মানুষের জন্য নতুন টাকার বান্ডিল কেনা কিছুটা ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা
রাজধানীর বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে নতুন নোট সংগ্রহ করতে আসা এক ক্রেতা জানান, তিনি বেশ কয়েকটি ব্যাংকে গিয়েও নতুন নোট পাননি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে খোলাবাজারে এসেছেন, কিন্তু এখানে যে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে তা অনেক বেশি।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, যদি দ্রুত নতুন নোট বাজারে ছাড়া হয় তাহলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না যারা: নতুন নীতিমালায় কারা বাদ পড়ছেন
FAQs
বর্তমানে খোলাবাজারে নতুন টাকার বান্ডিল কিনতে প্রায় ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দাম দিতে হচ্ছে।
অনেক ব্যাংকে নতুন নোটের সরবরাহ সীমিত থাকায় গ্রাহকদের চাহিদা পুরোপুরি পূরণ করা যাচ্ছে না।
১০, ২০, ৫০, ১০০ এবং ৫০০ টাকার নতুন নোটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
ব্যাংকে সরবরাহ কম এবং ঈদের আগে চাহিদা বেশি হওয়ায় খোলাবাজারে নতুন টাকার দাম বেড়েছে।
হ্যাঁ, সাধারণত ঈদের আগে বাংলাদেশ ব্যাংক হাজার হাজার কোটি টাকার নতুন নোট বাজারে ছাড়ে।
উপসংহার
ঈদকে কেন্দ্র করে নতুন টাকার চাহিদা বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের একটি সামাজিক বাস্তবতা।
তবে এ বছর ব্যাংকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় খোলাবাজারে নতুন টাকার দাম অনেকটাই বেড়ে গেছে।
যদি বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত নতুন নোট বাজারে ছাড়ে, তাহলে এই অতিরিক্ত দামের চাপ কিছুটা কমতে পারে এবং সাধারণ মানুষ সহজেই নতুন টাকা সংগ্রহ করতে পারবেন।
আরও পড়ুনঃ নারীদের জন্য বিআরটিসি বাস পরিষেবা চালু হচ্ছে রাজধানীতে
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


