বাংলাদেশে সরকারি অফিসে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকালে ৪০ মিনিট অফিসে থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নিজ নিজ অফিস কক্ষে উপস্থিত থাকতে হবে।
সরকারের মতে, অনেক সময় দেখা যায় অফিসে আসার পথে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন দাপ্তরিক বা ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
যেমন সেমিনার, প্রশিক্ষণ, ব্যাংক বা হাসপাতালের কাজে যাওয়ার কারণে তারা নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকেন না। এর ফলে সরকারি কাজের গতি কমে যায় এবং জনসেবা প্রদানেও বিলম্ব হয়।
এই পরিস্থিতি দূর করতে সরকার এই নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকালে ৪০ মিনিট অফিসে থাকা বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে অফিসের শৃঙ্খলা বৃদ্ধি, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নাগরিক সেবা সহজ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
Content Summary
নতুন নির্দেশনার মূল বিষয়
নতুন পরিপত্র অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে। এই সময়ের মধ্যে তারা অফিসের বাইরে কোনো ব্যক্তিগত বা দাপ্তরিক কাজে যেতে পারবেন না।
এছাড়া দাপ্তরিক সভা, সেমিনার বা অন্যান্য কর্মসূচিও এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে যাতে এই সময়টুকু বিঘ্নিত না হয়। অর্থাৎ এই ৪০ মিনিট অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করাই হবে প্রধান শর্ত।
সরকার মনে করছে, এর ফলে অফিসে কাজের গতি বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত সরকারি সেবা পাবেন।
কেন এই নিয়ম চালু করা হলো
সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে অনেক সময় দেখা যায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিস সময়ের শুরুতেই বাইরে চলে যান। কেউ সেমিনারে অংশ নিতে যান, কেউ আবার ব্যক্তিগত কাজের জন্য অফিস ছাড়েন।
এর ফলে অফিসে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া বা ফাইল অনুমোদনে বিলম্ব হয়। জনসাধারণের কাজও আটকে থাকে।
এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকালে ৪০ মিনিট অফিসে থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এই নিয়মের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও কার্যকর করা এবং জনসেবাকে দ্রুত ও স্বচ্ছ করা সরকারের মূল লক্ষ্য।
আরও পড়ুনঃ ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না যারা: নতুন নীতিমালায় কারা বাদ পড়ছেন
কোন প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই নিয়ম কার্যকর
এই নির্দেশনা শুধু সরকারি অফিসেই নয়, বরং আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
অর্থাৎ মন্ত্রণালয়, সরকারি দপ্তর, কর্পোরেশন, সরকারি সংস্থা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই নিয়ম মানতে হবে।
সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা ২০১৯ এবং সচিবালয় নির্দেশমালা ২০২৪ অনুযায়ী নির্ধারিত সময় মেনে অফিসে আসা ও যাওয়া বাধ্যতামূলক।
আরও পড়ুনঃ নারীদের জন্য বিআরটিসি বাস পরিষেবা চালু হচ্ছে রাজধানীতে
যেসব ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না
তবে কিছু ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিল রাখা হয়েছে। যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অনুষদ সদস্য যারা প্রশাসনিক দায়িত্বে নেই, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
এছাড়া হাসপাতাল, জেলখানা, সংবাদমাধ্যম এবং নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যেসব কর্মীরা রোস্টার ডিউটিতে কাজ করেন, তারাও এই নিয়মের বাইরে থাকবেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য যারা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন বা জরুরি গ্রাহকসেবায় সরাসরি যুক্ত, তাদের ক্ষেত্রেও এই সময়সীমা প্রযোজ্য হবে না।
বিশেষ পরিস্থিতিতে অফিস ত্যাগের নিয়ম
সরকারি পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে অফিস ত্যাগ করা যেতে পারে।
যেমন ভিভিআইপি বা ভিআইপি প্রটোকল প্রদান, বড় দুর্ঘটনা মোকাবিলা অথবা গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৈঠকে অংশগ্রহণ।
এছাড়া অনুমোদিত সরকারি সফরের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম শিথিল থাকতে পারে। তবে সাধারণ পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অফিস ত্যাগ করা যাবে না।
এর মাধ্যমে অফিস চলাকালীন সময়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি কাজের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ কৃষক কার্ড চালু হচ্ছে পহেলা বৈশাখের আগেই
FAQs
এই নিয়ম চালু করা হয়েছে অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং সরকারি কাজের গতি বাড়ানোর জন্য। এর ফলে জনসেবা দ্রুত দেওয়া সম্ভব হবে।
প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ অফিস কক্ষে উপস্থিত থাকতে হবে।
সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য।
শিক্ষক, রোস্টার ডিউটিতে থাকা হাসপাতাল কর্মী, নিরাপত্তা বাহিনী এবং মাঠপর্যায়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা এই নিয়মের বাইরে থাকবেন।
ভিভিআইপি প্রটোকল, জরুরি দুর্ঘটনা মোকাবিলা, গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বা অনুমোদিত সরকারি সফরের ক্ষেত্রে অফিস ত্যাগ করা যেতে পারে।
উপসংহার
সরকারি প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও দক্ষতা বাড়াতে নতুন এই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকালে ৪০ মিনিট অফিসে থাকা বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে সরকারি অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত হবে এবং জনসেবার মানও উন্নত হবে।
এই নিয়ম কার্যকর হলে সরকারি দপ্তরগুলোর কাজের গতি বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
আরও পড়ুনঃ ই-হেলথ কার্ড চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর । স্বাস্থ্যসেবায় নতুন বিপ্লব
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


