ঢাকায় পরিবেশবান্ধব ভ্রমণে আসছে ইলেকট্রিক সাইটসিয়িং বাস

বাংলাদেশের নগর পরিবহন ও পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে ইলেকট্রিক সাইটসিয়িং বাস। পরিবেশ দূষণ কমানো এবং আধুনিক স্মার্ট পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান AKIJ Motors বাজারে এনেছে নতুন এই বৈদ্যুতিক বাস। বিশেষ করে শহরের স্বল্প দূরত্বে আরামদায়ক ও কম খরচে যাতায়াত নিশ্চিত করতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে মানুষ। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ছে। ইলেকট্রিক সাইটসিয়িং বাস শুধু পর্যটন পরিবহন নয়, বরং স্মার্ট সিটি ও টেকসই নগর ব্যবস্থার অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, পর্যটন এলাকা, পার্ক এবং আবাসিক জোনে এই ধরনের যানবাহনের ব্যবহার ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।

ইলেকট্রিক সাইটসিয়িং বাস কী

ইলেকট্রিক সাইটসিয়িং বাস হলো ব্যাটারিচালিত পরিবেশবান্ধব ছোট আকারের যাত্রীবাহী বাস। এটি মূলত স্বল্প দূরত্বে পর্যটন বা নির্দিষ্ট এলাকায় চলাচলের জন্য তৈরি করা হয়েছে। জ্বালানি তেলের পরিবর্তে বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় এতে ধোঁয়া বা শব্দ দূষণ অনেক কম হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের যানবাহন শহরের পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও টেকসই করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতেও সহায়ক হবে।

আরও পড়ুনঃ ফারাক্কার জবাবে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণে বড় উদ্যোগ সরকারের

বাসটির প্রযুক্তিগত ফিচার

নতুন এই ইলেকট্রিক সাইটসিয়িং বাসে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে প্রায় ৭৫০০ কিলোওয়াট মোটর পাওয়ার এবং ৭২ ভোল্ট ২০০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি সুবিধা রয়েছে। ব্যবহারকারীরা VRLA অথবা লিথিয়াম ব্যাটারি অপশন বেছে নিতে পারবেন।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

একবার পূর্ণ চার্জে বাসটি প্রায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম বলে জানা গেছে। শহরের ভেতরে পর্যটন বা নির্দিষ্ট রুটে চলাচলের জন্য এটি যথেষ্ট কার্যকর হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ বিআরটিএর নম্বর প্লেট ব্যাবহার না করলে ব্যবস্থা নিচ্ছে ডিএমপি

শহরের যানজট কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট আকারের এই ধরনের বৈদ্যুতিক বাস শহরের যানজট কমাতে সাহায্য করতে পারে। কারণ এটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমিত গতিতে যাত্রী পরিবহন করতে সক্ষম। বড় বাস বা প্রাইভেট কারের তুলনায় এটি কম জায়গা দখল করবে এবং পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সংগঠিত করতে সহায়তা করবে।

বিশেষ করে পর্যটন কেন্দ্র, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং বড় আবাসিক এলাকায় এটি কার্যকর পরিবহন সমাধান হতে পারে।

পরিবেশবান্ধব পরিবহনে নতুন সম্ভাবনা

বর্তমানে পরিবেশ দূষণ কমানো বিশ্বজুড়ে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। জ্বালানিচালিত যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া বায়ু দূষণের বড় কারণ। ইলেকট্রিক সাইটসিয়িং বাস ব্যবহারে কার্বন নিঃসরণ কম হবে এবং শহরের পরিবেশ আরও পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে।

এছাড়া কম শব্দে চলাচল করায় এটি শব্দ দূষণ কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুনঃ দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে এগোচ্ছে সরকার, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে

কম খরচে আধুনিক পরিবহন

এই বাসের অন্যতম বড় সুবিধা হলো কম পরিচালন ব্যয়। এতে তেল বা গ্যাসের প্রয়োজন নেই, ফলে দীর্ঘমেয়াদে খরচ অনেক কম হবে। একই সঙ্গে যন্ত্রাংশ তুলনামূলক কম থাকায় রক্ষণাবেক্ষণ খরচও কম হতে পারে।

ব্যবসায়িকভাবে পর্যটন খাতে ব্যবহার করলে এটি লাভজনক পরিবহন মাধ্যম হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রা

বাসটির গতি ঘণ্টায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার রাখা হয়েছে, যা শহুরে পরিবহনের জন্য নিরাপদ বলে মনে করা হচ্ছে। এতে একসঙ্গে প্রায় ১৪ জন যাত্রী বসতে পারবেন এবং মোট বহন ক্ষমতা প্রায় ১১২০ কেজি পর্যন্ত।

ছোট আকার হলেও যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণে এটি বেশ সুবিধাজনক হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ চালু হচ্ছে ই-লোন, ব্যাংকে না গিয়েও মিলবে ডিজিটাল ঋণ

বাংলাদেশের জন্য কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে

যদিও প্রযুক্তিটি সম্ভাবনাময়, তবে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। যেমন পর্যাপ্ত চার্জিং স্টেশন তৈরি, ব্যাটারি রক্ষণাবেক্ষণ এবং পর্যাপ্ত অবকাঠামো গড়ে তোলা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সমস্যা সমাধান করা গেলে ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন শহরে এই ধরনের যানবাহনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হলে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যেতে পারবে।

উপসংহার

বাংলাদেশে ইলেকট্রিক সাইটসিয়িং বাস চালু হওয়া পরিবহন ও পর্যটন খাতের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কম খরচ, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং আধুনিক ডিজাইনের কারণে এটি ভবিষ্যতে শহুরে যাতায়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সঠিক পরিকল্পনা এবং পর্যাপ্ত অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে এই ধরনের বৈদ্যুতিক যানবাহন বাংলাদেশের স্মার্ট পরিবহন ব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুনঃ এক চার্জে ৩৮০ কিমি চলবে স্যামসাং ইলেকট্রিক সাইকেল, সত্য নাকি গুজব

এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ

তথ্যসুত্রঃ আরটিভি অনলাইন

WhatsApp Group Join Now
WhatsApp Group 1 Join Now
Telegram Group Join Now
আপনি কি কমদামে মিনিট, ইন্টারনেট ও বান্ডেল অফার খুঁজছেন!

ভিজিট করুন 👉

━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━

ডিজিটাল টাচ
ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে
Sharing Is Caring:

আমি শেখ মোঃ আমিনুল ইসলাম (সুজন)। ডিজিটাল টাচ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। এইচএসসি (বিজ্ঞান); চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।