বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নতুনভাবে চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো নারীর ক্ষমতায়ন, দরিদ্র পরিবারের অর্থনৈতিক সহায়তা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। এই কর্মসূচির আওতায় নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে একটি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা মাসিক আর্থিক সহায়তা পাবেন।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন জেলার নির্বাচিত ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে এই কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রক্রিয়ায়। সফটওয়্যারভিত্তিক দারিদ্র্য সূচক বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে যাচাই করে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
এই কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যৌথ বা বড় পরিবার হলে একটি শর্তে একাধিক ফ্যামিলি কার্ডও দেওয়া হতে পারে। ফলে বড় পরিবারের সদস্যরাও এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবেন না।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি কী
ফ্যামিলি কার্ড হলো একটি আধুনিক সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড, যা মূলত নারীপ্রধান দরিদ্র পরিবারের জন্য চালু করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থাও যুক্ত করা হতে পারে।
কার্ডটি হবে একটি কন্টাক্টলেস স্মার্ট কার্ড, যেখানে থাকবে QR কোড এবং NFC প্রযুক্তি। এর ফলে কার্ডটি নিরাপদ, দীর্ঘস্থায়ী এবং ব্যবহার করা সহজ হবে।
এই কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগীরা সরাসরি সরকারের কাছ থেকে ভাতা পাবেন।
একটি শর্তে একাধিক ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার সুযোগ
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো একটি পরিবারের জন্য সাধারণত একটি কার্ড দেওয়া হবে। তবে যদি পরিবারটি যৌথ বা বড় পরিবার হয় এবং সদস্য সংখ্যা পাঁচের বেশি হয়, তাহলে বিশেষ ক্ষেত্রে একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী:
- একটি ফ্যামিলি কার্ডে সর্বোচ্চ ৫ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে
- সদস্য সংখ্যা বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়া হতে পারে
এর ফলে বড় পরিবারগুলোও এই কর্মসূচির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে না।
আরও পড়ুনঃ ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন মঙ্গলবার: প্রথম ধাপে ৩৭ হাজার নারী পাবেন ভাতা
ফ্যামিলি কার্ডের সদস্য বাছাই হচ্ছে যেভাবে
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে একটি বিস্তারিত ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
প্রথমে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়। এরপর তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে।
সংগ্রহ করা তথ্যের মধ্যে ছিল:
- পরিবারের সদস্য সংখ্যা
- আয় ও আর্থিক অবস্থা
- শিক্ষা
- বাসস্থান
- টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার ইত্যাদি গৃহস্থালী সামগ্রী
- বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স আসে কি না
এই সব তথ্য সফটওয়্যারভিত্তিক প্রক্সি মিনস টেস্ট (দারিদ্র্য সূচক) পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ৪১০ টাকা বাড়তে পারে এলপি গ্যাসের দাম – নতুন প্রস্তাব জমা
কত পরিবার এই সুবিধা পাচ্ছে
পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথমে সারা দেশে ৬৭,৮৫৪ নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়:
- সঠিক তথ্য পাওয়া যায়: ৪৭,৭৭৭ পরিবার
- ডাবল ভাতা, সরকারি চাকরি বা অন্যান্য কারণে বাদ দেওয়া হয় কিছু পরিবার
শেষ পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে ৩৭,৫৬৭ নারীপ্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ডে কত টাকা ভাতা দেওয়া হবে
এই কর্মসূচির আওতায় পাইলট পর্যায়ে প্রতিটি পরিবার মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে।
সরকার জানিয়েছে ভবিষ্যতে এই কর্মসূচির আওতায় সমমূল্যের খাদ্য সহায়তাও দেওয়া হতে পারে।
ভাতার টাকা দেওয়া হবে সরাসরি উপকারভোগীর:
- মোবাইল ওয়ালেট
- অথবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে
এই পদ্ধতিকে বলা হয় G2P (Government to Person) পেমেন্ট সিস্টেম।
আরও পড়ুনঃ ৬০০ টাকায় বাইকারদের হেলথ কার্ড: ২ লাখ টাকার বিমা ও চিকিৎসা সুবিধা
কারা ফ্যামিলি কার্ডের ভাতা পাবেন না
সরকার কিছু নির্দিষ্ট শর্ত নির্ধারণ করেছে। নিচের ক্ষেত্রে পরিবারগুলো এই ভাতা পাওয়ার যোগ্য হবে না।
- পরিবারের কেউ সরকারি চাকরিজীবী হলে
- কেউ পেনশন বা সরকারি ভাতা পেলে
- বড় ব্যবসা বা বাণিজ্যিক লাইসেন্স থাকলে
- বিলাসবহুল সম্পদ যেমন গাড়ি বা এসি থাকলে
- ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র থাকলে
ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ
পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকার মোট ৩৮.০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে।
এর মধ্যে:
- ২৫.১৫ কোটি টাকা সরাসরি নগদ ভাতা হিসেবে দেওয়া হবে
- ১২.৯২ কোটি টাকা তথ্য সংগ্রহ, সফটওয়্যার, কার্ড প্রস্তুত ইত্যাদিতে ব্যয় হবে
আরও পড়ুনঃ ইমাম মোয়াজ্জিন ভাতা ২০২৬: ১৪ মার্চ সারাদেশে মাসিক সম্মানী কার্যক্রম উদ্বোধন
FAQs
ফ্যামিলি কার্ড হলো একটি সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি যেখানে নারীপ্রধান দরিদ্র পরিবারকে মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
সাধারণত একটি পরিবার একটি কার্ড পাবে। তবে যৌথ পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশি হলে বিশেষ ক্ষেত্রে একাধিক কার্ড দেওয়া হতে পারে।
পাইলট পর্যায়ে প্রতিটি পরিবার মাসে ২৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে।
একটি কার্ডে সর্বোচ্চ ৫ জন সদস্য সুবিধা পেতে পারবেন।
ভাতা সরাসরি উপকারভোগীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।
উপসংহার
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন উদ্যোগ।
নারীপ্রধান দরিদ্র পরিবারকে কেন্দ্র করে তৈরি এই কর্মসূচি তাদের অর্থনৈতিক সহায়তা ও সামাজিক মর্যাদা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রযুক্তিনির্ভর যাচাই প্রক্রিয়া এবং সরাসরি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার কারণে এই প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ এনআইডি ও ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


