বাংলাদেশে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সহায়তা দিতে চালু হচ্ছে নতুন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’। পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৩৭ হাজার ৫৬৪ জন নারীকে পরিবারপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার মাসিক আর্থিক সহায়তা পাবে।
Content Summary
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন কবে
আগামী মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মসূচি চালুর মূল লক্ষ্য হলো নারীর ক্ষমতায়ন এবং দরিদ্র পরিবারের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
প্রথম ধাপে কতজন এই সুবিধা পাবেন
সরকারের তথ্য অনুযায়ী পাইলট পর্যায়ে:
- মোট তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে: ৬৭,৮৫৪ নারীপ্রধান পরিবার
- যাচাইয়ের পর সঠিক পাওয়া যায়: ৪৭,৭৭৭ পরিবার
- চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত: ৩৭,৫৬৭ নারীপ্রধান পরিবার
এই পরিবারগুলোই প্রথম ধাপে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ভাতা পাবেন।
আরও পড়ুনঃ ৪১০ টাকা বাড়তে পারে এলপি গ্যাসের দাম – নতুন প্রস্তাব জমা
প্রতিটি পরিবার কী সুবিধা পাবে
ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের ৫ জন সদস্য পর্যন্ত সুবিধা পাবে।
প্রাথমিকভাবে:
- মাসিক ভাতা: ২,৫০০ টাকা
- ভবিষ্যতে খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে
যদি কোনো পরিবার যৌথ বা বড় পরিবার হয়, তাহলে সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনা করা হবে।
কারা এই ভাতা পাবেন না
সরকার কিছু শর্ত নির্ধারণ করেছে। নিচের ক্ষেত্রে পরিবার এই ভাতার জন্য অযোগ্য হবে:
- পরিবারের কেউ সরকারি চাকরিজীবী হলে
- কেউ পেনশন বা বড় সরকারি ভাতা পেলে
- বড় ব্যবসা বা বাণিজ্যিক লাইসেন্স থাকলে
- বিলাসবহুল সম্পদ যেমন গাড়ি বা এসি থাকলে
- ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র থাকলে
আরও পড়ুনঃ ৬০০ টাকায় বাইকারদের হেলথ কার্ড: ২ লাখ টাকার বিমা ও চিকিৎসা সুবিধা
কীভাবে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে
উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে একটি ডিজিটাল সফটওয়্যার সিস্টেমের মাধ্যমে।
এই প্রক্রিয়ায়:
- পরিবারের আয়
- সদস্যসংখ্যা
- বাসস্থান
- শিক্ষা
- গৃহস্থালি সামগ্রী
- রেমিট্যান্স
এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রক্সি মিনস টেস্ট (দারিদ্র্য সূচক) অনুযায়ী পরিবারগুলোকে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে।
কীভাবে ভাতা দেওয়া হবে
এই কর্মসূচির আওতায় ভাতা দেওয়া হবে জি-টু-পি (Government to Person) পদ্ধতিতে।
অর্থাৎ:
- ভাতা সরাসরি উপকারভোগী নারীর
- মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।
এর ফলে কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী বা অনিয়মের সুযোগ কমবে।
আরও পড়ুনঃ ইমাম মোয়াজ্জিন ভাতা ২০২৬: ১৪ মার্চ সারাদেশে মাসিক সম্মানী কার্যক্রম উদ্বোধন
FAQ (প্রশ্ন ও উত্তর)
এটি একটি সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, যার মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারকে মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
পাইলট পর্যায়ে প্রতি পরিবার মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে।
প্রথম ধাপে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারীপ্রধান পরিবার এই সুবিধা পাবেন।
একটি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারের ৫ জন সদস্য সুবিধা পাবে।
ভাতা সরাসরি মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।
উপসংহার
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
এর মাধ্যমে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পাবে এবং নারীকে পরিবারপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নও বাড়বে।
পাইলট প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে এই কর্মসূচি আরও বড় পরিসরে চালু করা হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার নিয়ম ২০২৬ সহজ গাইড
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


