বাংলাদেশে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এলপি গ্যাস লিমিটেড। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী ১২.৫ কেজি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৪১০ টাকা বাড়িয়ে ১২৩৫ টাকা করার আবেদন করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় কোম্পানির দাবি, বেসরকারি এলপিজির তুলনায় সরকারি গ্যাসের দাম কম হওয়ায় বাজারে ক্রসফিলিং সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
Content Summary
এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণ
রাষ্ট্রীয় কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি এলপি গ্যাসের দাম কম হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে বেসরকারি কোম্পানির সিলিন্ডারে সরকারি গ্যাস ভরে বিক্রি করা হচ্ছে।
একে বলা হয় ক্রসফিলিং।
এই সমস্যার কারণে:
- বাজারে মূল্য ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে
- সরকারি কোম্পানি ক্ষতির মুখে পড়ছে
- সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়ম তৈরি হচ্ছে
এই পরিস্থিতি সমাধানে দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ রবি ইন্টারনেট অফার ৩৬৫ দিন মেয়াদ
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী দাম কত হতে পারে
বর্তমানে ১২.৫ কেজি এলপি গ্যাসের দাম তুলনামূলক কম।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী:
- বর্তমান দাম: প্রায় ৮২৫–৯২৫ টাকার মধ্যে (প্রস্তাব অনুযায়ী পরিবর্তনশীল)
- প্রস্তাবিত নতুন দাম: ১২৩৫ টাকা
অর্থাৎ সিলিন্ডার প্রতি ৪১০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।
বিপিসির মূল্য নির্ধারণ কমিটির সুপারিশ
রাষ্ট্রীয় কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউসুফ হোসেন ভুঁইয়া জানিয়েছেন, এই প্রস্তাব বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এর মূল্য নির্ধারণ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী করা হয়েছে।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, বাজারের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ফ্যামিলি কার্ড পাইলট কার্যক্রম শুরু: প্রতি পরিবার পাবে মাসে ২৫০০ টাকা
আগের প্রস্তাব কেন বাতিল হয়েছিল
এর আগে ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রীয় কোম্পানি এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানোর আরেকটি প্রস্তাব দিয়েছিল।
সেই সময়:
- ১২.৫ কেজির দাম ৮২৫ টাকা থেকে ৯২৫ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
তবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়।
কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল:
- পর্যাপ্ত যুক্তি উপস্থাপন করা হয়নি
- বাজার পরিস্থিতি আরও পর্যালোচনা প্রয়োজন
এলপিজি বাজারে ক্রসফিলিং সমস্যা
বাংলাদেশে এলপিজি বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ক্রসফিলিং একটি বড় সমস্যা।
এর অর্থ হলো:
- একটি কোম্পানির সিলিন্ডারে অন্য কোম্পানির গ্যাস ভরা
- সিলিন্ডার ব্র্যান্ড অনুযায়ী সঠিক গ্যাস সরবরাহ না করা
এতে:
- নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে
- বাজারে প্রতিযোগিতা নষ্ট হয়
- গ্রাহক প্রতারিত হতে পারে
আরও পড়ুনঃ ৬০০ টাকায় বাইকারদের হেলথ কার্ড: ২ লাখ টাকার বিমা ও চিকিৎসা সুবিধা
FAQ (প্রশ্ন ও উত্তর)
প্রস্তাব অনুযায়ী ১২.৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১২৩৫ টাকা হতে পারে।
বেসরকারি গ্যাসের তুলনায় দাম কম হওয়ায় ক্রসফিলিং সমস্যা তৈরি হওয়ায় এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
না। এটি শুধু প্রস্তাব। অনুমোদন দিলে নতুন দাম কার্যকর হবে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
হ্যাঁ। ২০২৫ সালে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা বিইআরসি বাতিল করে দেয়।
উপসংহার
বাংলাদেশে রান্নার গ্যাস হিসেবে এলপিজি ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তাই এলপিজি বাজারে সঠিক মূল্য নির্ধারণ এবং ক্রসফিলিং সমস্যা সমাধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের ব্যয়ও বাড়তে পারে। এখন দেখা বিষয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই প্রস্তাব অনুমোদন দেয় কি না।
আরও পড়ুনঃ ইমাম মোয়াজ্জিন ভাতা ২০২৬: ১৪ মার্চ সারাদেশে মাসিক সম্মানী কার্যক্রম উদ্বোধন
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


