বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ভাতা ও সহায়তা কার্যক্রমকে এক প্ল্যাটফর্মে আনতে চালু হতে যাচ্ছে নতুন ডিজিটাল নেটওয়ার্কিং সিস্টেম ‘ফ্যামিলি ট্রি’।
সরকারের দাবি, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একই ব্যক্তি বা পরিবারের একাধিক ভাতা গ্রহণের সুযোগ বন্ধ হবে এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা সহজে সরকারি সুবিধা পাবেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ‘ফ্যামিলি ট্রি’ হবে একটি সমন্বিত ডিজিটাল তথ্যভান্ডার। এখানে একটি পরিবার কোন কোন সরকারি সুবিধা পাচ্ছে, সেটি একটি ইউনিক ডিজিটাল আইডির মাধ্যমে দেখা যাবে। একই সঙ্গে একটি কার্ড ও কিউআর কোড ব্যবহার করেই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
ফ্যামিলি ট্রি কার্ডে কি কি সুবিধা থাকবে?
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন “ফ্যামিলি ট্রি” কার্ড শুধু একটি সাধারণ ভাতা কার্ড নয়, এটি হবে একটি সমন্বিত ডিজিটাল সামাজিক নিরাপত্তা পরিচয় ব্যবস্থা। এই কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবার কোন কোন সরকারি সুবিধা পাচ্ছে, তা এক জায়গা থেকেই নিয়ন্ত্রণ ও যাচাই করা যাবে।
এক কার্ডেই একাধিক সরকারি সুবিধা
ফ্যামিলি ট্রি কার্ডের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, কৃষক সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে আলাদা আলাদা কার্ড বহনের প্রয়োজন কমে যাবে।
মাসিক ভাতা পাওয়ার সুযোগ
সরকার জানিয়েছে, নতুন ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় যোগ্য পরিবারগুলো মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারে। তবে একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা নিতে পারবেন না।
ডাবল ভাতা বন্ধ হবে
একই ব্যক্তি বা পরিবার একাধিক সরকারি ভাতা নিচ্ছে কিনা, সেটি ডিজিটালি যাচাই করা হবে। এতে অনিয়ম ও ভুয়া সুবিধাভোগী কমবে বলে মনে করছে সরকার।
কিউআর কোড ও ডিজিটাল আইডি সুবিধা
কার্ডে থাকবে কিউআর কোড ও ডিজিটাল তথ্যভান্ডার সংযোগ। স্ক্যান করলেই উপকারভোগীর তথ্য যাচাই করা যাবে। এতে সেবা গ্রহণ আরও দ্রুত ও সহজ হবে।
আরও পড়ুনঃ টিসিবি লাইসেন্স করার নিয়ম ২০২৬: আবেদন, কাগজপত্র ও সম্পূর্ণ গাইড
দ্রুত সরকারি সেবা পাওয়ার সুযোগ
ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা, কৃষি সহায়তা ও অন্যান্য সরকারি সেবা এই কার্ডের মাধ্যমে দ্রুত দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি কমবে
সরকারের দাবি, ডিজিটাল তথ্যভান্ডারের কারণে মধ্যস্বত্বভোগী ও কার্ড বাণিজ্য কমে যাবে। প্রকৃত দরিদ্র পরিবার সহজে সরকারি সুবিধা পাবে।
ভবিষ্যতে আরও সেবা যুক্ত হতে পারে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে এই কার্ডের সঙ্গে ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যবীমা, শিক্ষা সহায়তা এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমও যুক্ত করা হতে পারে।
কারা পাবেন ফ্যামিলি ট্রি কার্ড?
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মূলত দরিদ্র, অতিদরিদ্র এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপযুক্ত পরিবারগুলো ধাপে ধাপে “ফ্যামিলি ট্রি” কার্ড পাবেন। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীদের একটি ডিজিটাল তথ্যভান্ডারের আওতায় আনা হবে।
যেসব পরিবার অগ্রাধিকার পাবে
প্রথম ধাপে যেসব পরিবারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে:
- বয়স্ক ভাতা পাওয়া পরিবার
- বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারী
- অতিদরিদ্র পরিবার
- প্রতিবন্ধী সদস্য থাকা পরিবার
- নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী পরিবার
- সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা তালিকাভুক্ত পরিবার
আরও পড়ুনঃ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের নতুন নাম ঘোষণা
কিভাবে পরিবার নির্বাচন করা হবে
সরকার জানিয়েছে, “প্রক্সি মিনস টেস্ট” বা পিএমটি পদ্ধতিতে পরিবার যাচাই করা হবে। অর্থাৎ পরিবারের আয়, সম্পদ, বসবাসের অবস্থা ও আর্থিক সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে স্কোর নির্ধারণ করা হবে।
যাদের স্কোর কম এবং আর্থিক অবস্থা দুর্বল, তারা অগ্রাধিকার পাবেন।
সবার জন্য কি এই কার্ড হবে?
প্রাথমিকভাবে না। প্রথমে নির্দিষ্ট সংখ্যক দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। পরে ধাপে ধাপে আরও পরিবার যুক্ত করা হতে পারে।
বর্তমানে যারা ভাতা পাচ্ছেন
যারা এখন বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা বা অন্য সামাজিক সহায়তা পাচ্ছেন, তারা নতুন ফ্যামিলি ট্রি কার্ডের জন্য বিবেচিত হতে পারেন। তবে একই সঙ্গে একাধিক ভাতা নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
কোথা থেকে তালিকা তৈরি হবে
স্থানীয় প্রশাসন, সমাজসেবা অফিস এবং সরকারি তথ্যভান্ডারের মাধ্যমে উপকারভোগীর তথ্য যাচাই করা হবে। ডিজিটাল ডেটাবেজের মাধ্যমে পরিবারগুলোর তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।
আরও পড়ুনঃ ভূমিসেবা মেলা ২০২৬ শুরু হচ্ছে, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
সরকারের লক্ষ্য কি
সরকারের লক্ষ্য হলো প্রকৃত দরিদ্র পরিবারকে দ্রুত ও স্বচ্ছ উপায়ে সহায়তা দেওয়া এবং ভুয়া সুবিধাভোগী ও অনিয়ম কমানো।
বর্তমানে সরকার ধাপে ধাপে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। জুন মাসের মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার মানুষকে নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের কাজও চলছে।
সরকার জানিয়েছে, নতুন ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত ভাতা দেওয়া হবে। তবে যারা আগে থেকেই বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতা পাচ্ছেন, তাদের নতুন কার্ড নিতে চাইলে আগের ভাতা ত্যাগ করতে হবে। এর মাধ্যমে ডাবল বুকিং বা একই ব্যক্তি একাধিক সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং দুর্নীতি কমবে। একই সঙ্গে প্রকৃত দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী দ্রুত সরকারি সহায়তা পেতে পারবেন। সরকারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভবিষ্যতে কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ডসহ অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকেও একীভূত করা হতে পারে।
উপসংহার,
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকবে না। কোথাও টাকা নেওয়া বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে ‘ফ্যামিলি ট্রি’ প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি ও সমাজনীতি বিশ্লেষকরা।
তাদের মতে, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এটি দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
আরও পড়ুনঃ অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কিনেছেন? আসল না নকল চেক করার সহজ নিয়ম
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
তথ্যসুত্রঃ আরটিভি অনলাইন
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


