বাড়ি বা জমির উপর দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি বা বৈদ্যুতিক তার চলে গেলে জমির স্বাভাবিক ব্যবহার অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হয়। অনেক সময় কোটি টাকার জমিতেও বাড়ি নির্মাণ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা কৃষিকাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এছাড়া নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকিও তৈরি হয়। তবে সঠিক সরকারি নিয়ম অনুসরণ করলে সহজেই বিদ্যুতের খুঁটি বা তার স্থানান্তরের আবেদন করা সম্ভব।
বর্তমানে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, ডেসকো, নেসকো কিংবা পিডিবির মাধ্যমে নির্ধারিত আবেদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জমির উপর থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি বা লাইন সরানো যায়। এজন্য প্রয়োজন হয় কিছু কাগজপত্র, নির্ধারিত আবেদন ফি এবং টেকনিক্যাল যাচাই প্রক্রিয়া।
খুঁটি বা তার সরাতে কি করতে হবে?
বিদ্যুতের খুঁটি বা তার সরানোর জন্য প্রথমে আপনার এলাকার সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে লিখিত আবেদন করতে হবে। আবেদনে জমির অবস্থান, সমস্যার বিবরণ এবং কেন খুঁটি বা তার স্থানান্তর প্রয়োজন তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করতে হবে।
আবেদন জমা দেওয়ার পর বিদ্যুৎ বিভাগের টেকনিক্যাল টিম সরেজমিনে পরিদর্শনে আসবে। তারা পরিস্থিতি যাচাই করে খুঁটি বা তার সরানো সম্ভব কি না এবং কোথায় স্থানান্তর করা হবে তা নির্ধারণ করবে।
এরপর অফিস থেকে একটি সম্ভাব্য খরচপত্র বা কস্ট লেটার দেওয়া হবে। নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পর অফিসের অনুমোদিত কর্মীরা নিরাপদভাবে কাজ সম্পন্ন করবেন।
আরও পড়ুনঃ দলিল থাকলেই জমির মালিক নন জানুন ভূমি মালিকানার আসল নিয়ম ২০২৬
আবেদন করতে কি কি লাগবে?
খুঁটি বা বৈদ্যুতিক তার সরানোর আবেদন করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জমা দিতে হয়। সাধারণত প্রয়োজন হয়:
- জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
- জমির দলিল বা খতিয়ানের কপি
- এক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- সর্বশেষ বিদ্যুৎ বিলের কপি
- জমির ম্যাপ বা অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য
- বিদ্যুৎ মিটারের তথ্য
অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্যও চাওয়া হতে পারে, যা সংশ্লিষ্ট অফিস পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারণ করে।
কোথায় আবেদন করবেন?
আপনার এলাকার বিদ্যুৎ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে হবে। যেমন:
- পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি
- ডেসকো
- নেসকো
- বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)
শহর ও গ্রামের ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান আলাদা হতে পারে। তাই আগে নিশ্চিত হয়ে নিন কোন অফিস আপনার এলাকায় বিদ্যুৎ সেবা দিচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়ার নতুন নির্দেশনা
আবেদন প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে
১. ফরম সংগ্রহ
প্রথমে নিকটস্থ বিদ্যুৎ অফিস থেকে নির্ধারিত আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে হবে। অনেক অফিস অনলাইনেও ফরম সরবরাহ করে থাকে।
২. ফরম পূরণ
জমির মালিকের তথ্য, জমির অবস্থান, খুঁটি বা লাইনের সমস্যা এবং স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে ফরম পূরণ করতে হবে।
৩. আবেদন ফি জমা
সাধারণত প্রাথমিক আবেদন ফি জমা দিতে হয়। এটি এলাকা ও কোম্পানি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
৪. সাইট পরিদর্শন
বিদ্যুৎ অফিসের টেকনিক্যাল টিম সরেজমিনে গিয়ে জমি পরিদর্শন করবে এবং সম্ভাব্য সমাধান নির্ধারণ করবে।
৫. খরচ নির্ধারণ
পরিদর্শনের পর অফিস থেকে একটি কস্ট লেটার দেওয়া হবে, যেখানে মোট খরচ উল্লেখ থাকবে।
৬. খরচ পরিশোধ
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খরচ জমা দিতে হবে। এরপর ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু করা হবে।
৭. কাজ সম্পন্ন
অফিসের অনুমোদিত ঠিকাদার বা কর্মীরা নিরাপদভাবে খুঁটি বা তার স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করবেন।
আরও পড়ুনঃ ডিজিটাল ভূমি সেবায় বদলে যাচ্ছে পুরো ব্যবস্থা পাত্তা পাবে না দালালরা
ফরম কোথায় পাওয়া যাবে?
ফরম সংগ্রহ করা যাবে দুইভাবে।
অনলাইনে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিস বা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ওয়েবসাইট থেকে।
অথবা সরাসরি স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে।
বর্তমানে অনেক জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ওয়েবসাইটে “পোল স্থানান্তর আবেদন ফরম” ডাউনলোডের সুবিধা রয়েছে।
খুঁটি বা তার সরানোর খরচ ফি কত টাকা?
খুঁটি বা তার সরানোর খরচ নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর।
- খুঁটির সংখ্যা
- তারের দৈর্ঘ্য
- স্থানান্তরের দূরত্ব
- নতুন খুঁটি স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা
সাধারণত প্রাথমিক আবেদন ফি প্রায় ১৭২৫ থেকে ১৭৭০ টাকার মধ্যে হতে পারে। তবে চূড়ান্ত খরচ অনেক বেশি বা কম হতে পারে পরিস্থিতি অনুযায়ী।
বিদ্যুৎ বিভাগের টেকনিক্যাল টিম পরিদর্শনের পর সঠিক খরচ নির্ধারণ করে থাকে।
আরও পড়ুনঃ সারাদেশের ভূমি মালিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
নিজে থেকে কখনোই বিদ্যুতের খুঁটি বা বৈদ্যুতিক তার সরানোর চেষ্টা করবেন না। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং আইনগত অপরাধও হতে পারে।
সবসময় সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসের অনুমতি ও তত্ত্বাবধানে কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া খুঁটি অন্যের জমিতে স্থানান্তর করতে চাইলে তাদের অনুমতিও প্রয়োজন হতে পারে।
উপসংহার
জমির উপর দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি বা তার চলে গেলে সেটি বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। তবে সঠিক নিয়মে আবেদন করলে সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিরাপদভাবে এটি স্থানান্তর করা সম্ভব।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রেখে স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে আপনার জমির পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে।
আরও পড়ুনঃ ভূমি অফিসে নতুন নিয়ম চালু, দ্রুত হবে ভূমি উন্নয়ন কর সংক্রান্ত সেবা
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


