৪৬ বছর পর ফিরছে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা। স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০২৬’ এর একটি খসড়া তৈরি করেছে। এই আইন কার্যকর হলে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে ১৭ সদস্যের গ্রাম সরকার গঠিত হবে।
খসড়া অনুযায়ী, গ্রাম সরকারে একজন প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৫ জন সদস্য থাকবেন। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি সদস্য হবেন গ্রাম সরকারের প্রধান। সংরক্ষিত আসনের নারী ইউপি সদস্য হবেন উপদেষ্টা। গ্রাম সরকারের মেয়াদ হবে প্রথম সভা থেকে পাঁচ বছর।
কে কে থাকছেন গ্রাম সরকারে
১৫ সদস্যের মধ্যে থাকবেন দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সমাজসেবক, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একজন পুরুষ ও একজন নারী সদস্য, দুজন কৃষক, একজন নিকাহ রেজিস্ট্রার, সমবায় সমিতির সদস্য, পল্লিচিকিৎসক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শ্রমিক ও যুব প্রতিনিধি। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস থাকলে তাদের একজন প্রতিনিধিও থাকবেন।
গ্রাম সরকার শুধু উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নয়, নারী ও শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাস, চুরি, মাদক ও জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখবে। স্থানীয় বিরোধ মীমাংসা ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও তারা উদ্যোগ নেবেন।
বিএনপির ত্যাগীদের মূল্যায়নের ভাবনা
গ্রাম সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের সঙ্গে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের পরিকল্পনার কথা জানা গেছে। দলটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, গত ১৭ বছরের আন্দোলনে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, গ্রাম সরকারে তাদের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
এর আগে গত জুলাইয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ শুরু করে বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, মিছিলের শেষ প্রান্তে থাকা দলের নিবেদিত ও সক্রিয় থাকা লোকদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।’
সমালোচনা ও উদ্বেগ
গ্রাম সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ‘গ্রাম সরকার বর্তমান বাস্তবতায় প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। এ ধরনের ব্যবস্থা সাধারণত ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করতে করা হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সেটা না হয়ে বরং সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের বসানো হবে। এটি কার্যকর হলে ভালোর চেয়ে মন্দ হওয়ার আশঙ্কা বেশি।’
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এজাজ বলেছেন, ‘স্থানীয় সরকারের মূল দর্শন ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করা। এ প্রতিষ্ঠানগুলো সামাজিক, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এর দেখা মিলছে না।’
খসড়াটি স্থানীয় সরকার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। জনসাধারণের মতামতের ভিত্তিতে আইনের চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


