সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে অভিযান, ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বুধবার (১ অক্টোবর) থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় এই অভিযান শুরু হয়েছে।

অভিযানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি, মজুতদারি এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে একাধিক ডিলারের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয়েছে। কোথাও কোথাও প্রতিষ্ঠানকে সিল করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বুধবার সচিবালয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে এক অনলাইন বৈঠকে এই অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম সংকট তৈরি করা বা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বর্তমান বাজার পরিস্থিতি

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন চলতি সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করে। কিন্তু বাজারে সেই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। কোথাও কোথাও বাড়তি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

অনেক এলাকায় বাড়তি দাম দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলাররা বলছেন, সরবরাহ কমে গেছে। তবে সরকার বলছে, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ টেলিটকের জেন-জি সিমে বিশেষ সুবিধা | কম খরচে কথা ও ডেটা

জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা

জ্বালানি মন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন, কেন সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও এলপিজি সংকটের অভিযোগ উঠছে এবং কেন নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে—তার তথ্য ও প্রমাণসহ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব এলাকায় সরবরাহ কম পাওয়া যাবে, সেখানে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভোক্তা অধিকারের অভিযান

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে। জেলা প্রশাসনগুলোকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মজুতদারি ধরা পড়লে জরিমানা ও প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হচ্ছে।

ভোক্তা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েকটি ডিলারের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয়েছে। অভিযান আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুনঃ অবৈধ অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মে লেনদেন থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা

আমদানি কমার কারণ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ টন এলপিজি আমদানি হয়। সেপ্টেম্বর মাসের ২২ তারিখ পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ টন। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে এলপিজির আমদানি কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কার্গো প্রিমিয়াম ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে ঠেকেছে।

আরও পড়ুনঃ টেলিটকের জেন-জি সিমে বিশেষ সুবিধা | কম খরচে কথা ও ডেটা

অপারেটরদের বক্তব্য

সোমবার জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে এক সভায় আমদানিকারক ও অপারেটররা জানান, দেশে এলপিজির কোনো সংকট নেই। তবে তারা স্বীকার করেছেন, চুক্তির পরিমাণের তুলনায় ২০ থেকে ৪০ শতাংশ কম পণ্য পাচ্ছেন।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আমিরুল হক বলেছেন, খুচরা বাজারে দাম বৃদ্ধির দায় আমদানিকারকদের নয়। কারা সংকট তৈরি করছে তাদের চিহ্নিত করা উচিত।

আরও পড়ুনঃ নারী গ্রাহকদের জন্য টেলিটকের অপরাজিতা সিমে বিশেষ কলরেট

নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

WhatsApp Group Join Now
ALL SIM Offer Update Group Join Now
Telegram Group Join Now
আপনি কি কমদামে মিনিট, ইন্টারনেট ও বান্ডেল অফার খুঁজছেন!

ভিজিট করুন 👉

━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━

ডিজিটাল টাচ
ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।
ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।
Sharing Is Caring:

আমি শেখ মোঃ আমিনুল ইসলাম (সুজন)। ডিজিটাল টাচ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। এইচএসসি (বিজ্ঞান); চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Comment