সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে এলপিজি সিলিন্ডার মিলছে না। ভোক্তাদের সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৫৮৫ টাকার চেয়ে ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন বৈঠকে এই নির্দেশ দেন তিনি।
দাম বাড়ার ভয়াবহ চিত্র
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চলতি সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল।
কিন্তু বাজারে সেই সিলিন্ডার কিনতে ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত। কোথাও কোথাও নতুন সিলিন্ডারসহ ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে কয়েকদিন ধরে এই পরিস্থিতি চলছে। অনেক দোকানে সিলিন্ডারই পাওয়া যাচ্ছে না।
আরও পড়ুনঃ গ্যাস সিলিন্ডার নাই, তবে ২৩০০ দিলে বাসায় দিয়ে আসবো
সংকটের পেছনে আমদানি কমা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল।
সেপ্টেম্বর মাসের ২২ তারিখ পর্যন্ত আমদানি হয়েছে মাত্র ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ টন। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আমদানি কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ।
আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে কার্গো জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না এবং ভাড়া বেড়ে গেছে।
মন্ত্রীর নির্দেশনা ও সতর্কবার্তা
জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, দেশে এলপিজির সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।
তিনি বলেন, ‘তবে কিছু এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করা হতে পারে।’
সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও কোথাও কেন সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে এবং কেন অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে তথ্য ও প্রমাণসহ প্রতিবেদন পাঠাতে ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, ‘কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হলে কিংবা বিইআরসি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুনঃ টিসিবির কার্ড পাবেন যারা, নতুন নির্দেশিকায় যোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ
পরবর্তী পদক্ষেপ কী
জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যেসব এলাকায় সরবরাহ কম পাওয়া যাবে, সেখানে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসকদের আরও সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশও দিয়েছেন মন্ত্রী।
আরও পড়ুনঃ ঢাকায় মনোরেল চালুর পথে সরকারের প্রথম উদ্যোগ
অপারেটরদের দাবি ও উপদেষ্টার বক্তব্য
সোমবার জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে এক সভায় আমদানিকারক ও অপারেটররা জানিয়েছেন, দেশে এলপিজির কোনো সংকট নেই।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘দেশে এলপিজির কোনো সংকট নেই। অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ এলপিজি মজুত করে জনঅসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা করলে সরকার ব্যবস্থা নেবে।’
পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কোথাও কোথাও এলপিজির দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুনঃ টেলিটকে চাকরির সুযোগ, আবেদন চলবে ১ অক্টোবর পর্যন্ত
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


