মহিলাদের ই-পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে ও ফি কত টাকা?  

বাংলাদেশে ডিজিটাল সেবার বিস্তারের ফলে এখন ই-পাসপোর্ট আবেদন আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে। তবে এখনও অনেক নারী জানতে চান মহিলাদের ই-পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে এবং কীভাবে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হয়। সঠিক তথ্য না জানার কারণে অনেকেই ভুল কাগজপত্র জমা দেন, ফলে আবেদন বিলম্বিত হয়।

মহিলাদের ই-পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে বয়স, বৈবাহিক অবস্থা এবং পেশার ওপর। তবে সাধারণভাবে কিছু নির্দিষ্ট কাগজপত্র সবার জন্য বাধ্যতামূলক। সঠিক প্রস্তুতি থাকলে পুরো প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ ও ঝামেলামুক্ত হতে পারে।

ই-পাসপোর্ট কি?

ই-পাসপোর্ট হলো একটি আধুনিক ডিজিটাল পাসপোর্ট।

এতে একটি ইলেকট্রনিক চিপ থাকে, যেখানে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি ও বায়োমেট্রিক ডেটা সংরক্ষিত থাকে।

এটি আন্তর্জাতিকভাবে অধিক নিরাপদ ও দ্রুত যাচাইযোগ্য।

মহিলাদের ই-পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে?

  • প্রথমত অনলাইনে পূরণ করা আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপি প্রয়োজন।
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি ও ফটোকপি লাগবে।
  • বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে কাবিননামা বা বিবাহ সনদ দিতে হতে পারে।
  • পুরাতন পাসপোর্ট থাকলে সেটিও জমা দিতে হবে।
  • ফি জমার রশিদ বাধ্যতামূলক।

আরও পড়ুনঃ ফুয়েল পাস বাধ্যতামূলক ঢাকার ১১ ফিলিং স্টেশনে নতুন নিয়ম জানুন

মহিলাদের ই-পাসপোর্ট ফি কত? 

বাংলাদেশে মহিলাদের ই-পাসপোর্ট ফি আলাদা নয়। নারী-পুরুষ সবার জন্য একই সরকারি ফি প্রযোজ্য। ফি নির্ধারিত হয় মূলত মেয়াদ, পৃষ্ঠাসংখ্যা এবং ডেলিভারি ধরনের ওপর।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

বর্তমান হিসেবে সাধারণত ফি কাঠামো এমন:

৫ বছর মেয়াদি ৪৮ পৃষ্ঠা

  • রেগুলার: প্রায় ৪,০২৫ টাকা
  • জরুরি: প্রায় ৬,৩২৫ টাকা
  • এক্সপ্রেস: প্রায় ৮,৬২৫ টাকা

১০ বছর মেয়াদি ৪৮ পৃষ্ঠা

  • রেগুলার: প্রায় ৫,৭৫০ টাকা
  • জরুরি: প্রায় ৮,০৫০ টাকা
  • এক্সপ্রেস: প্রায় ১০,৩৫০ টাকা

৫ বছর মেয়াদি ৬৪ পৃষ্ঠা

  • রেগুলার: প্রায় ৬,৩২৫ টাকা
  • জরুরি: প্রায় ৮,৬২৫ টাকা
  • এক্সপ্রেস: প্রায় ১২,০৭৫ টাকা

১০ বছর মেয়াদি ৬৪ পৃষ্ঠা

  • রেগুলার: প্রায় ৮,০৫০ টাকা
  • জরুরি: প্রায় ১০,৩৫০ টাকা
  • এক্সপ্রেস: প্রায় ১৩,৮০০ টাকা

এই ফিগুলোর সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, তবে ব্যাংক চার্জ বা অনলাইন পেমেন্ট চার্জ আলাদা হতে পারে।

আমার দৃষ্টিতে, যারা ঘন ঘন বিদেশ ভ্রমণ করবেন বা দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা চান, তাদের জন্য ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট বেশি সাশ্রয়ী। আর যাদের ভ্রমণের প্রয়োজন সীমিত, তাদের জন্য ৫ বছর মেয়াদি যথেষ্ট।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদন করার আগে অফিসিয়াল ই-পাসপোর্ট পোর্টালে সর্বশেষ ফি যাচাই করা উচিত, কারণ সরকারি নীতিমালায় পরিবর্তন হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ ২৫০০ টাকার মধ্যে স্মার্টফোন দিতে চায় সরকার: ডিজিটাল বাংলাদেশের নতুন লক্ষ্য

মহিলাদের ই-পাসপোর্ট আবেদন করার নিয়ম

সরকারি ই-পাসপোর্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে।

সঠিক তথ্য দিয়ে সাবমিট করার পর প্রিন্ট কপি সংগ্রহ করতে হবে।

এরপর নির্ধারিত তারিখে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করতে হবে।

অনলাইনে আবেদন করা যায় কি?

হ্যাঁ, বর্তমানে পুরো আবেদন প্রক্রিয়ার বড় অংশ অনলাইনে করা যায়।

ফরম পূরণ, ফি পরিশোধ এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং সবই অনলাইনে সম্ভব।

আমার মতে, এটি সরকারি সেবার ডিজিটাল রূপান্তরের একটি সফল উদাহরণ।

আরও পড়ুনঃ ১০০ টাকার মোবাইল রিচার্জে ৩৮ টাকা কর: কী বললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, কমবে কি ট্যাক্স?

ই-পাসপোর্ট আবেদন করার কতদিন পর হাতে পাওয়া যায়

নিয়মিত ডেলিভারিতে সাধারণত ১৫ থেকে ২১ কর্মদিবস সময় লাগে।

জরুরি ও এক্সপ্রেস সেবায় আরও দ্রুত পাওয়া যায়।

তবে কাগজপত্রে ভুল থাকলে বিলম্ব হতে পারে।

অনলাইনে ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করার নিয়ম

ই-পাসপোর্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে Application Status অপশনে ক্লিক করতে হবে।

Application ID বা Online Registration ID দিয়ে স্ট্যাটাস দেখা যায়।

এতে আবেদন কোন ধাপে আছে তা সহজেই জানা যায়।

আরও পড়ুনঃ আপনার ফোনে LTE নাকি 4G কোনটি ভালো ।LTE ও 4G এর মধ্যে পার্থক্য

FAQs- 

মহিলাদের জন্য NID ছাড়া কি পাসপোর্ট করা যায়?

১৮ বছরের নিচে হলে জন্ম নিবন্ধন দিয়ে আবেদন করা যায়।

বিবাহিত নারীদের কি কাবিননামা লাগবে?

তথ্য পরিবর্তন বা যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে লাগতে পারে।

ছবি নিয়ে যেতে হয় কি?

না, পাসপোর্ট অফিসেই ছবি তোলা হয়।

ফি কত?

মেয়াদ ও জরুরিতার ভিত্তিতে ফি নির্ধারিত হয়।

আবেদন বাতিল হওয়ার কারণ কি?

ভুল তথ্য, অসম্পূর্ণ কাগজপত্র বা তথ্যের অমিল।

উপসংহার

মহিলাদের ই-পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে তা আগে থেকে জানলে পুরো প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এবং অনলাইনে নির্ভুলভাবে আবেদন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আমার দৃষ্টিতে, ডিজিটাল আবেদন ব্যবস্থা অনেক সুবিধাজনক হলেও তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও ব্যবহারবান্ধব হওয়া উচিত। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।

আরও পড়ুনঃ ভূমিহীন পরিবারকে খাসজমি দেওয়ার ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর

এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ

WhatsApp Group Join Now
WhatsApp Group 1 Join Now
Telegram Group Join Now
আপনি কি কমদামে মিনিট, ইন্টারনেট ও বান্ডেল অফার খুঁজছেন!

ভিজিট করুন 👉

━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━

ডিজিটাল টাচ
ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে
Sharing Is Caring:

আমি শেখ মোঃ আমিনুল ইসলাম (সুজন)। ডিজিটাল টাচ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। এইচএসসি (বিজ্ঞান); চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।