দেশের ভূমি সেবাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে নানা উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে সরকার। ডিজিটাল জরিপ, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ এবং ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর মতো কার্যক্রম ইতোমধ্যে ভূমি ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনছে। এবার মাঠপর্যায়ের প্রশাসনেও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
বিশেষ করে সহকারী কমিশনার ভূমি বা এসিল্যান্ডদের পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বদলির জন্য কোনো কর্মকর্তা তদবির করলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ। ফলে এসিল্যান্ডদের বদলির তদবিরের বিষয়টি এখন প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় এসেছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের মতে, মাঠ প্রশাসনে দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অযাচিত প্রভাব বন্ধ করা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এসিল্যান্ডদের বদলির তদবিরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বিবেচনা করা হচ্ছে।
ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা আনতে সরকারের নতুন উদ্যোগ
দেশের ভূমি খাত দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা, দুর্নীতি, হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রতার নানা সমস্যায় ভুগছে। এসব সমস্যা কমিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য ভূমি সেবা সহজ করতে ডিজিটাল পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
বর্তমানে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল জরিপের মাধ্যমে জমির সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও আধুনিক রেকর্ড ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার কাজও চলছে।
ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণের অর্থ সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগী ও অনিয়মের সুযোগ কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে সরকার।
আরও পড়ুনঃ সব নাগরিকের জন্য আসছে এক-আইডি কার্ড, জন্মের পরই মিলবে স্থায়ী ডিজিটাল পরিচয়
এসিল্যান্ডদের বদলির তদবির করলে হতে পারে বিভাগীয় মামলা
সহকারী কমিশনার ভূমি বা এসিল্যান্ডদের পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এর অন্যতম লক্ষ্য হলো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত বা অযাচিত প্রভাব বিস্তার বন্ধ করা।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ জানিয়েছেন, বদলির জন্য তদবিরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ডদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বদলি বা পদায়নের মতো প্রশাসনিক বিষয়ে তদবিরের সংস্কৃতি বন্ধ করতে এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুনঃ স্থানীয় নির্বাচনে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
ভূমি সেবাকে আরও জনবান্ধব করার পরিকল্পনা
ভূমি সেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নামজারি, খতিয়ান, খাজনা, জমির রেকর্ড সংশোধনসহ বিভিন্ন কাজে নাগরিকদের নানা ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়।
এসব সমস্যা সমাধানে ভূমি মন্ত্রণালয় ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। অনলাইনে বিভিন্ন ভূমি সেবা সহজলভ্য করার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ ভূমি সেবাকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও নাগরিকবান্ধব করতে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
আরও পড়ুনঃ মোবাইল ব্যালেন্স দিয়েই কেনা যাবে স্মার্টফোন, বাড়ল ডিওবি সীমা
প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতে গুরুত্ব
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, প্রশাসনিক ব্যবস্থার সংস্কারও গুরুত্ব পাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের কথা বলা হচ্ছে।
সরকারি দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অযাচিত চাপ বা প্রভাব যাতে কাজ না করে, সে বিষয়েও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে মন্ত্রণালয়। এসিল্যান্ডদের বদলির তদবিরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা সেই কঠোর অবস্থানেরই অংশ।
ভূমি খাতের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে ডিজিটাল সেবা, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং কর্মকর্তাদের জবাবদিহি একসঙ্গে নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ এক এনআইডিতে সর্বোচ্চ পাঁচ সিম, ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর নতুন নিয়ম
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


