মোবাইল সিম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডির বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি নতুন সিম নিবন্ধন করা যাবে। বর্তমানে একজন গ্রাহকের নামে এর চেয়ে বেশি সিম থাকলেও ধাপে ধাপে সেই সংখ্যা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
নির্বাচন সামনে রেখে সিমের অপব্যবহার, ভুয়া নিবন্ধন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে মোবাইল সংযোগ ব্যবহারের ঝুঁকি কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি। বিশেষ করে গ্রাহকের অজান্তে বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহার করে অতিরিক্ত সিম নিবন্ধনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে।
এক এনআইডিতে পাঁচ সিমের নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর নতুন করে কোনো গ্রাহক পাঁচটির বেশি সিম নিবন্ধন করতে পারবেন না। যাদের নামে বর্তমানে ছয় থেকে ১০টি সিম রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে সিমের সংখ্যা কমিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এক এনআইডিতে পাঁচ সিমের নতুন নিয়ম কেন চালু হচ্ছে
বিটিআরসির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সিম বিক্রির সময় কিছু অসাধু বিক্রেতা গ্রাহকের অজান্তে তাদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করছেন। পরবর্তীতে সেই তথ্য ব্যবহার করে অতিরিক্ত সিম নিবন্ধনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, একজন গ্রাহক একই দিনে দুইটির বেশি সিম কেনার ঘটনাও স্বাভাবিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে এসব অতিরিক্ত সিম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, প্রতারণা বা অন্যান্য অনিয়মে ব্যবহারের আশঙ্কা থাকে।
এসব অনিয়ম কমিয়ে সিম নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আরও নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত করতেই এক এনআইডিতে সর্বোচ্চ পাঁচ সিমের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ টেলিটক স্বাধীন সিম এখন মাত্র ৯৯ টাকায়, সঙ্গে বিশেষ ৪৮ টাকার অফার
১ জানুয়ারি থেকে নতুন সিম নিবন্ধনে সর্বোচ্চ পাঁচটি সিম
বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত এমদাদ উল বারী জানিয়েছেন, আগামী পয়লা জানুয়ারি থেকে নতুন সিম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে একজন গ্রাহক পাঁচটির বেশি সিম রাখতে পারবেন না।
অর্থাৎ একটি জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নতুন করে পাঁচটির বেশি মোবাইল সিম নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে না।
এই সিদ্ধান্ত দেশের সব মোবাইল অপারেটরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও টেলিটকসহ সব অপারেটরের সিম মিলিয়ে একজন গ্রাহকের জন্য সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হবে।
আরও পড়ুনঃ টেলিটক পেশাজীবী সিমের দাম কত? কলরেট, বান্ডল ও ইন্টারনেট প্যাক
অতিরিক্ত সিম ধাপে ধাপে বন্ধ করা হবে
এর আগে বিটিআরসি এক ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি সক্রিয় সিম থাকলে অতিরিক্ত সিম বাতিল অথবা মালিকানা পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছিল।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্যমতে, সে সময় এক ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি সক্রিয় সিম ছিল প্রায় ৬৭ লাখ। গত তিন মাসে গ্রাহকরা স্বেচ্ছায় প্রায় ১৫ লাখ অতিরিক্ত সিম বাতিল করেছেন।
তবে এখনো প্রায় ৫০ থেকে ৫৩ লাখ অতিরিক্ত সিম বাতিল করা হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব সিম ডি-রেজিস্ট্রেশন না করায় মোবাইল অপারেটরদের মাধ্যমে সেগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার পরও যারা অতিরিক্ত সিম ডি-রেজিস্ট্রেশন করেননি, তাদের সক্রিয় সিম ধাপে ধাপে বাতিল করা হবে।
আরও পড়ুনঃ আঙুলের ছাপ চুরি করে সচল হাজারো সিম, কীভাবে চলছে প্রি অ্যাক্টিভেটেড সিম প্রতারণা
দেশে বর্তমানে কত সিম ব্যবহার হচ্ছে
বিটিআরসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরে দেশে মোবাইল সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক রয়েছে গ্রামীণফোনের। প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি ৫৯ লাখ।
রবির গ্রাহক প্রায় ৫ কোটি ৭৫ লাখ, বাংলালিংকের গ্রাহক প্রায় ৩ কোটি ৭৯ লাখ এবং টেলিটকের গ্রাহক প্রায় ৬৬ লাখ ৭০ হাজার।
দেশে বর্তমানে মোট নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা প্রায় ২৬ কোটি ৬৩ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ১৯ কোটি সিম সক্রিয় রয়েছে। বাকি সিমগুলো বর্তমানে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় আছে।
আরও পড়ুনঃ ফিজিক্যালি সিম ও ই-সিমের মধ্যে পার্থক্য কি? কোনটি ভালো
সিম ব্যবহারে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান
সিম ব্যবহারের দিক থেকে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে নবম বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো দেশ।
দেশে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার দ্রুত বাড়ার কারণে সিমের সংখ্যাও বেড়েছে। তবে বিপুল সংখ্যক সিম নিবন্ধনের পাশাপাশি অপব্যবহার ঠেকাতে এখন নিবন্ধন ব্যবস্থায় আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনছে সরকার।
আরও পড়ুনঃ মোবাইল সিম রিপ্লেসমেন্টের ৩০০ টাকার কর বাতিল হচ্ছে
যাদের নামে পাঁচটির বেশি সিম আছে তাদের কী হবে
বর্তমানে পাঁচটির বেশি সিম থাকা গ্রাহকদের জন্যও ধাপে ধাপে নতুন সীমা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে যাদের নামে ছয় থেকে ১০টি সিম রয়েছে, তাদের সংখ্যা ভবিষ্যতে কমিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচে নামিয়ে আনা হবে।
তবে নতুন সিদ্ধান্তের ফলে পুরোনো সিম একদিনে বন্ধ হয়ে যাবে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রক্রিয়া ও সময়সূচি বিটিআরসি পরবর্তী সময়ে জানাবে।
গ্রাহকদের নিজেদের নামে কতটি সিম নিবন্ধিত আছে তা নিয়মিত যাচাই করা উচিত। অপ্রয়োজনীয় বা নিজের ব্যবহার নয় এমন কোনো সিম নিজের এনআইডির অধীনে থাকলে তা বাতিল বা সঠিক মালিকের নামে স্থানান্তরের প্রয়োজন হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ সিম রিপ্লেসমেন্ট ও মালিকানা বদলে বড় পরিবর্তন, নতুন নির্দেশনা দিল বিটিআরসি
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


