বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হলেও সেই ম্যাচ ঘিরে বিতর্ক এখনো থামেনি। এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক অনলাইন পিটিশন প্ল্যাটফর্মে আর্জেন্টিনাকে ভবিষ্যতের সব বিশ্বকাপ থেকে আজীবন বহিষ্কারের দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই গণস্বাক্ষরে ইতোমধ্যে ২৩ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ফাইনালে রেফারিং নিয়ে অসন্তুষ্ট আর্জেন্টিনা সমর্থকদের একটি অংশও ম্যাচটি পুনরায় আয়োজনের দাবিতে আলাদা গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।
ফলে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচকে কেন্দ্র করে দুই বিপরীতমুখী প্রচারণা আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
Content Summary
কেন আর্জেন্টিনাকে বহিষ্কারের দাবি উঠেছে
আন্তর্জাতিক গণস্বাক্ষর প্রচারণাটির শিরোনাম ছিল “Leave Argentina”। আবেদনকারীদের অভিযোগ, বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচে বিশেষ করে ফাইনালে আর্জেন্টিনা এবং দলটির অধিনায়ক লিওনেল মেসি বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন। তাদের দাবি, প্রতিযোগিতার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ফিফার উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, যদি কোনো দলের জন্য আলাদা সুবিধা থাকে, তাহলে অন্য দেশগুলোর জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয় না। সেই যুক্তিতেই তারা ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনাকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই গণস্বাক্ষর একটি জনসাধারণের অনলাইন উদ্যোগ। এটি কোনোভাবেই ফিফার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ার অংশ নয়।
২৩ মিলিয়নের বেশি স্বাক্ষর, কেন আলোচনায় এই পিটিশন
শুরুর দিকে এই প্রচারণার লক্ষ্য ছিল ৫০ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করা। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি কয়েক গুণ ছাড়িয়ে যায়।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্বাক্ষরের সংখ্যা ২ কোটি ৩৩ লাখেরও বেশি হয়েছে। ফলে এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত আন্তর্জাতিক অনলাইন পিটিশনগুলোর একটি হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও এই গণস্বাক্ষরের বিষয়টি প্রকাশ করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্বকাপ ফাইনালে কী ঘটেছিল
যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন অতিরিক্ত সময়ে ১ ০ ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয়।
ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন ফেরান তোরেস। তবে ম্যাচ চলাকালে রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যেই বিতর্ক দেখা দেয়।
কেউ কেউ অভিযোগ করেন, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফাউলের ক্ষেত্রে সমানভাবে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। আবার স্পেনের বাতিল হওয়া গোল নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এসব কারণেই ম্যাচ শেষ হওয়ার পর বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুনঃ ঢাকার আরও ৫০ পয়েন্টে অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
আর্জেন্টিনা সমর্থকদের অবস্থান কী
শুধু আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধেই নয়, অন্য দিক থেকেও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
আর্জেন্টিনা সমর্থকদের একটি অংশ দাবি করছে, ফাইনালে তাদের দল অবিচারের শিকার হয়েছে। তাদের মতে, ম্যাচ পরিচালনায় কিছু সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না। এজন্য তারা ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের দাবিতে আলাদা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন।
অর্থাৎ একই ম্যাচকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষই ভিন্ন ভিন্ন দাবি নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
ফিফা কি কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে
এ পর্যন্ত ফিফা আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
এ ধরনের অনলাইন পিটিশন জনমত প্রকাশের একটি মাধ্যম হলেও, কোনো দেশকে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কার করার ক্ষমতা কেবল ফিফার নিজস্ব নিয়ম ও শৃঙ্খলা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কার্যকর হতে পারে।
সুতরাং বর্তমানে গণস্বাক্ষরটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও, এটি নিজে থেকে কোনো শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত কার্যকর করে না।
আরও পড়ুনঃ পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি
অনলাইন গণস্বাক্ষর কতটা কার্যকর
বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে জনমত প্রকাশের জন্য অনলাইন পিটিশনের ব্যবহার বেড়েছে। অনেক সময় এসব প্রচারণা বিশ্বব্যাপী আলোচনার সৃষ্টি করলেও সব ক্ষেত্রে বাস্তব সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রীড়া সংক্রান্ত যেকোনো শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্ত, প্রমাণ এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার
বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হলেও সেটিকে ঘিরে বিতর্ক এখনো আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে। আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের দাবিতে ২৩ মিলিয়নের বেশি গণস্বাক্ষর সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
তবে মনে রাখতে হবে, অনলাইন গণস্বাক্ষর জনমত প্রকাশের একটি মাধ্যম মাত্র।
কোনো দলকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার শুধুমাত্র ফিফার। তাই এ ধরনের দাবির বাস্তবতা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর।
আরও পড়ুনঃ ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে হাইকোর্টে রুল
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


