দেশের সব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের হাট ও বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার বিভাগের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩১ জানুয়ারি ২০২৭ সালের মধ্যে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এসব স্থানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এর মাধ্যমে হাট-বাজারের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় হাটের স্থায়ী শেড এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্মিত বিভিন্ন বাজারের চার থেকে পাঁচতলা ভবনের ছাদকে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য বিবেচনায় নিতে বলা হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রথমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কাজে ব্যবহার করা হবে। এরপর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।
এ জন্য হাট-বাজারের ইজারা থেকে নির্ধারিত অর্থ ব্যবহার করার সুযোগ রাখা হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী, ইজারা আয়ের ১০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট হাটের রক্ষণাবেক্ষণ বা উন্নয়ন এবং আরও ১০ শতাংশ উপজেলার হাট-বাজারের কাজে ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত। সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পর প্যানেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২০ বছরের রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তিও করতে হবে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও রাজস্ব বাড়বে।
হাট-বাজারে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নতুন নির্দেশনা
স্থানীয় সরকার বিভাগ বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর দেশের সব উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের হাট ও বাজারে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে।
সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ নিজের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করবেন যেভাবে
যেসব স্থানে সৌর প্যানেল বসানো হবে
হাট ও বাজারের স্থায়ী শেডের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বিভিন্ন বাজারে নির্মাণ করা চার থেকে পাঁচতলা ভবনের ছাদ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের কাজে ব্যবহার করতে পারবে।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের স্থানীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিদ্যমান দাপ্তরিক ভবন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ভবনেও ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এসব সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ন্যূনতম দুই ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ রাখার কথাও নির্দেশনায় বলা হয়েছে।
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হবে
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পর সংশ্লিষ্ট হাট বা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করতে হবে। এরপর যে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকবে, তা নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।
‘নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫’ অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের বিপরীতে ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব আয় বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।
আরও পড়ুনঃ স্টারলিংকের প্রযুক্তিতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্যাটেলাইট মোবাইল সেবা চালুর অনুমোদন পেল বাংলালিংক
হাটের ইজারার অর্থে হবে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন
‘হাট ও বাজার স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী হাট ও বাজার থেকে পাওয়া ইজারার আয়ের একটি অংশ রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন কাজে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
বিধিমালার বিধি ১০-এর ঙ ও চ অনুযায়ী, ইজারা আয়ের ১০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট হাট বা বাজারের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে এবং আরও ১০ শতাংশ উপজেলার অন্তর্গত হাট ও বাজারের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে ব্যয় করার বিধান রয়েছে।
এই অর্থ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন এবং পরবর্তী সময়ে তা বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনকারী কোম্পানির সঙ্গে পরবর্তী ২০ বছর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করতে হবে সংশ্লিষ্ট হাট ও বাজার কর্তৃপক্ষকে।
আরও পড়ুনঃ এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধনে নতুন নিয়ম, মাঠপর্যায়ে আবেদন নিষ্পত্তির সুযোগ
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


