বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তিন ব্যক্তিকে নিয়োগপত্র প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই পদক্ষেপটি শুধু কর্মসংস্থান সৃষ্টি নয়, বরং সমাজের মূলধারায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে দিনের কর্মসূচির শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে তিনজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে নিয়োগপত্র তুলে দেন। এই আয়োজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য যেমন স্মরণীয় মুহূর্ত, তেমনি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক অবস্থানও তুলে ধরেছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তিন ব্যক্তিকে নিয়োগপত্র দেওয়ার এই উদ্যোগের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীলতা, মর্যাদাপূর্ণ কর্মজীবন এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও অনেক যোগ্য ব্যক্তিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে সহায়ক হবে।
কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে প্রবেশের সময় তিনজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির হাতে সরাসরি নিয়োগপত্র তুলে দেন। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা এবং সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার আয়শা আক্তার, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নীলা খাতুন এবং নড়াইল সদর উপজেলার মো. হাসমত আলী। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি নিয়োগপত্র পেয়ে তারা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুনঃ ওষুধ উৎপাদন ব্যয় কমাতে দেশে কেন্দ্রীয় সিনথেটিক ল্যাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ
নীলা খাতুন ও আয়শা আক্তারের অনুপ্রেরণার গল্প
জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকা নীলা খাতুন নিজের পা দিয়ে লিখে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তাকে রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে আয়শা আক্তারও পা দিয়ে লিখে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। দুই হাত না থাকায় তিনি মুখ দিয়ে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন। তাকে গাইবান্ধার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের সাফল্যের গল্প অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হাসমত আলীর নতুন কর্মজীবন
নড়াইল সদর উপজেলার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মো. হাসমত আলীকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এই নিয়োগের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরাও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে সক্ষম। তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হলে সমাজ ও রাষ্ট্র উভয়ই উপকৃত হয়।
আরও পড়ুনঃ হাসপাতালে দালাল ও টেস্ট বাণিজ্য স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যারা
নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলম এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা আবদুস সাত্তার দুলাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তিন ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান।
উপসংহার
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তিন ব্যক্তিকে নিয়োগপত্র প্রদান কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ। এই পদক্ষেপ সমাজে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও যোগ্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য এ ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে এবং তারা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে পেপাল ও পেওনিয়ার সেবা চালুর পথ সুগম করল বাংলাদেশ ব্যাংক
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


