দেশে ওষুধ গবেষণা ও নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের যৌথ পরিকল্পনায় কেন্দ্রীয় সিনথেটিক ল্যাব প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই কেন্দ্রীয় সিনথেটিক ল্যাব চালু হলে গবেষণার ব্যয় কমানোর পাশাপাশি উন্নত গবেষণার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় আলাদাভাবে গবেষণাগার স্থাপন করতে গিয়ে উচ্চ ব্যয়ের মুখে পড়ে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আধুনিক গবেষণা সরঞ্জাম সংগ্রহ ও ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। কেন্দ্রীয় সিনথেটিক ল্যাব প্রতিষ্ঠিত হলে একই অবকাঠামো ব্যবহার করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান গবেষণা পরিচালনা করতে পারবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উদ্যোগ শুধু গবেষণা ব্যয় কমাবে না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং দেশের ওষুধ শিল্পের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি বাংলাদেশের ওষুধ গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
কেন্দ্রীয় সিনথেটিক ল্যাব কেন গুরুত্বপূর্ণ
দেশের গবেষণা অবকাঠামোকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে আন্তর্জাতিক মানের একটি কেন্দ্রীয় সিনথেটিক ল্যাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এখানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং ফার্মাসিউটিক্যাল গবেষকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী গবেষণা ও পরীক্ষা পরিচালনার সুযোগ পাবেন।
একটি কেন্দ্রীয় গবেষণা সুবিধা থাকলে একই ধরনের ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি বারবার কেনার প্রয়োজন হবে না। এতে গবেষণার পুনরাবৃত্ত ব্যয় কমবে এবং মূল্যবান গবেষণা সরঞ্জামের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
নতুন ওষুধ উদ্ভাবনে ব্যয় কমবে
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ওষুধ তৈরির সবচেয়ে ব্যয়বহুল ধাপগুলোর একটি হলো নতুন রাসায়নিক যৌগ বা মলিকিউল তৈরি এবং তার প্রাথমিক পরীক্ষা। কেন্দ্রীয়ভাবে এই সুবিধা নিশ্চিত হলে গবেষকরা একই অবকাঠামো ব্যবহার করে দ্রুত ও কম খরচে গবেষণা সম্পন্ন করতে পারবেন।
এর ফলে গবেষণার গতি বাড়বে এবং নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের প্রক্রিয়াও আরও কার্যকর হবে।
আরও পড়ুনঃ হাসপাতালে দালাল ও টেস্ট বাণিজ্য স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
বিশ্ববিদ্যালয় ও ওষুধ শিল্পের মধ্যে সমন্বয় বাড়বে
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ল্যাব শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রয়োজনে সরকারি গবেষণা সংস্থা, বিশেষায়িত গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং দেশের ওষুধ শিল্পও এর সুবিধা নিতে পারবে।
গবেষণার ফল দ্রুত শিল্পে প্রয়োগ করা গেলে দেশীয় ওষুধ উৎপাদন আরও আধুনিক হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।
ভবিষ্যতের গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা
বাংলাদেশ বর্তমানে দেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ ওষুধ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে। তবে নতুন ওষুধ উদ্ভাবন, উন্নত কাঁচামাল তৈরি এবং উদ্ভাবনী গবেষণার ক্ষেত্রে এখনো আরও শক্তিশালী গবেষণা অবকাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে।
গবেষকদের মতে, আধুনিক গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দক্ষ গবেষক তৈরি, পর্যাপ্ত গবেষণা তহবিল, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং গবেষণা যন্ত্রপাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। এসব বিষয় একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের ওষুধ গবেষণা আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে পেপাল ও পেওনিয়ার সেবা চালুর পথ সুগম করল বাংলাদেশ ব্যাংক
শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য বাড়বে সুযোগ
কেন্দ্রীয় সিনথেটিক ল্যাব চালু হলে দেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের বিদেশের গবেষণাগারের ওপর নির্ভরতা কমবে। দেশেই আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত গবেষণার ফল দ্রুত শিল্প খাতে ব্যবহার করা সম্ভব হলে নতুন প্রযুক্তি ও ওষুধ উদ্ভাবনের পথ আরও সহজ হবে।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ৪ ক্যাটাগরির পদে চাকরির সুযোগ
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


