জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডিতে ভুল তথ্য থাকলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম, স্বামী বা স্ত্রীর তথ্য, ঠিকানা, পেশা কিংবা জন্মস্থান সংশোধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট তথ্যের পক্ষে প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়। কোন তথ্য পরিবর্তন করা হচ্ছে, তার ওপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ধরনও নির্ভর করে।
নাম বা জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত সনদ, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন নথি প্রয়োজন হতে পারে। আবার স্বামী-স্ত্রীর তথ্য পরিবর্তনে কাবিননামা, বিবাহ সনদ ও সংশ্লিষ্ট এনআইডি লাগতে পারে। ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য বিদ্যুৎ বিল, করের রশিদ এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র চাওয়া হতে পারে।
এনআইডি সংশোধনের আবেদন যাচাইয়ের জটিলতার ভিত্তিতে চারটি ক্যাটাগরিতে বিবেচনা করা হয়। সাধারণ সংশোধন থেকে শুরু করে জটিল আবেদন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় যাচাই ও প্রমাণপত্রের মাত্রা ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে এনআইডি, জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ এবং অন্যান্য নথির তথ্য মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত থাকলে আবেদন যাচাইয়ের সময় তথ্য প্রমাণ করা সহজ হয় এবং জটিলতা কমতে পারে।
এনআইডি সংশোধনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
নাম ও বাবা-মায়ের নাম সংশোধনে যেসব নথি লাগে
এনআইডিতে নামের বানান বা আংশিক পরিবর্তনের জন্য এসএসসি, জেএসসি বা পিএসসি সনদ, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, সন্তানের জন্মসনদ বা শিক্ষাসনদ, কাবিননামা এবং স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি প্রয়োজন হতে পারে।
সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এসব নথির পাশাপাশি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করা হলফনামা চাওয়া হতে পারে। প্রয়োজন মনে করলে নির্বাচন কমিশন সরেজমিন তদন্তও করতে পারে।
বাবা বা মায়ের নামের বানান, পদবি কিংবা সম্পূর্ণ নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত সনদ, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন, বাবা-মায়ের এনআইডি, ভাই-বোনদের এনআইডি ও শিক্ষাসনদ এবং পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স জমা দিতে হতে পারে। সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিল বা করের রশিদের মতো অতিরিক্ত প্রমাণপত্রও প্রয়োজন হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ডিজিটাল হাজিরায় স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি মনিটর করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
জন্মতারিখ ও স্বামী-স্ত্রীর তথ্য পরিবর্তনে প্রয়োজনীয় কাগজ
জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য এসএসসি, জেএসসি বা পিএসসি সনদ, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন, ভাই-বোনদের এনআইডি, ওয়ারিশ সনদ, কাবিননামা, পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো নথি প্রয়োজন হতে পারে।
আবেদনের ধরন অনুযায়ী সিভিল সার্জনের বয়স নির্ধারণ প্রতিবেদন, সার্ভিস বুক, এমপিও শিট, অফিসের প্রত্যয়নপত্র, অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন বই এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সংশ্লিষ্ট সনদও চাওয়া হতে পারে।
স্বামী বা স্ত্রীর নাম সংযোজন কিংবা সংশোধনের ক্ষেত্রে কাবিননামা বা বিবাহ সনদ, স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি, সন্তানের জন্মসনদ বা এনআইডি এবং সন্তানের শিক্ষাসনদ প্রয়োজন হতে পারে। দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যু সনদ অথবা তালাকনামা এবং দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা জমা দিতে হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ চীন থেকে ৩৫০ কিলোমিটার গতির বুলেট ট্রেন আনার আলোচনা
ঠিকানা, জন্মস্থান, পেশা ও অন্যান্য তথ্য সংশোধন
জন্ম নিবন্ধন নম্বর সংশোধনের জন্য অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হতে পারে। লিঙ্গ সংশোধনে ভোটার নিবন্ধন ফরম, মেডিকেল সনদ এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকারের প্রত্যয়নপত্র লাগতে পারে।
জন্মস্থান সংশোধনের ক্ষেত্রে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্ট এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হতে পারে। পেশা পরিবর্তনের জন্য নিয়োগপত্র, পেশাসংক্রান্ত সনদ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হতে পারে।
দৃশ্যমান শনাক্তকরণ চিহ্ন সংশোধনে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার প্রতিবেদন ও মেডিকেল সনদ এবং রক্তের গ্রুপ সংযোজন বা সংশোধনের জন্য রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার রিপোর্ট প্রয়োজন হয়।
স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা সংশোধনে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন, বিদ্যুৎ বিল, চৌকিদারি ট্যাক্স বা পৌর করের রশিদ, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের প্রত্যয়নপত্র এবং টিআইএন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্ট নম্বরের তথ্য প্রয়োজন হতে পারে।
টিআইএন নম্বর সংযোজন বা সংশোধনের জন্য টিআইএন সার্টিফিকেটের সত্যায়িত কপি, ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বরের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের সত্যায়িত কপি এবং পাসপোর্ট নম্বরের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হতে পারে।
এনআইডি সংশোধনের আবেদন সাধারণত ক, খ, গ ও ঘ এই চার ক্যাটাগরিতে বিবেচনা করা হয়। ক ক্যাটাগরিতে সাধারণ ও কম জটিল সংশোধন, খ ক্যাটাগরিতে তুলনামূলক বেশি যাচাই, গ ক্যাটাগরিতে জটিল সংশোধন এবং অধিক প্রমাণপত্র এবং ঘ ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ মাত্রার যাচাই ও তদন্ত প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষ করে জন্মতারিখ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আগের তথ্য ও সংশোধিত তথ্যের পার্থক্য কতটা, তার ওপর ভিত্তি করে আবেদনটি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পড়তে পারে। আবেদন করার আগে এনআইডি, জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ এবং অন্যান্য নথির তথ্য পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুনঃ ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধে জরুরি নির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


