যৌথ মালিকানাধীন জমির ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা ও হয়রানি কমাতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো একজন মালিক যেন নিজের হিস্যা অনুযায়ী কর দিতে না পারার কারণে প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এতে জমির মালিকদের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরমেন্স অনুবিভাগ থেকে এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদের সই করা পরিপত্রে যৌথ খতিয়ানের জমি, নামজারি, বণ্টননামা এবং বকেয়া কর পরিশোধের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কর পরিশোধের নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, পুরো যৌথ খতিয়ানের কর একসঙ্গে দেওয়া সম্ভব না হলেও বণ্টননামার ভিত্তিতে পৃথক খতিয়ান তৈরির জন্য নামজারি করা যাবে। পরে নতুন খতিয়ানের মালিককে তার হিস্যা অনুযায়ী প্রযোজ্য বকেয়া ও হালদাবি পরিশোধ করে দাখিলা নিতে হবে। জনস্বার্থে জারি করা এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করার কথা জানিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
যৌথ খতিয়ানের ভূমি উন্নয়ন কর নিয়ে যে পরিবর্তন
যৌথ মালিকানায় কর পরিশোধের জটিলতা
বর্তমানে যৌথ মালিকানার খতিয়ানে থাকা সম্পূর্ণ জমির ভূমি উন্নয়ন কর একসঙ্গে পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে খতিয়ানের এক বা একাধিক মালিক নিজেদের মালিকানাধীন অংশের হিস্যা অনুযায়ী আলাদাভাবে কর দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন না।
ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩ এর ৬(৩) ধারা অনুযায়ী, উত্তরাধিকার বা অন্য কোনোভাবে মালিকানা একাধিক ব্যক্তির কাছে গেলে এবং তারা পৃথক নামজারি না করলে জমিটি একই খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই অনুযায়ী পুরো জমির ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণ করা হয়।
এই ব্যবস্থায় কোনো মালিক নিজের অংশের কর দিতে না পারায় জমি হস্তান্তরসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে সমস্যায় পড়ছিলেন। আবার একজন মালিকের পক্ষে পুরো যৌথ খতিয়ানের কর পরিশোধ করাও অনেক ক্ষেত্রে কঠিন এবং যুক্তিসংগত নয়। এসব সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প উদ্বোধনের সম্ভাব্য সময় জানালেন পানিসম্পদমন্ত্রী
বণ্টননামার ভিত্তিতে পৃথক খতিয়ান করার সুযোগ
অনিবার্য কারণে যৌথ খতিয়ানের সম্পূর্ণ জমির ভূমি উন্নয়ন কর একসঙ্গে পরিশোধ করা সম্ভব না হলে রেজিস্টার্ড বণ্টননামা দলিল অথবা আদালতের মাধ্যমে সম্পাদিত বণ্টননামা করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ বা দাখিলা ছাড়াই বণ্টননামার ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
বণ্টননামার ভিত্তিতে যৌথ খতিয়ানের এক বা একাধিক মালিক কর পরিশোধ না করেও পৃথক খতিয়ান সৃষ্টির জন্য নামজারি আবেদন করতে পারবেন। সহকারী কমিশনার ভূমি মালিকানার সঠিকতা যাচাই করে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় বা দাখিলা ছাড়াই ওই নামজারি আবেদন অনুমোদন করতে পারবেন।
আরও পড়ুনঃ ৬৪ জেলায় বিনামূল্যে এআই প্রশিক্ষণ, মিলবে প্রতিদিন ২০০ টাকা ভাতা
নতুন খতিয়ানে বকেয়া কর পরিশোধের নিয়ম
নতুন খতিয়ান তৈরি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মালিককে তার মালিকানার হিস্যা অনুযায়ী পূর্বের যৌথ খতিয়ানের ভূমি উন্নয়ন করের প্রযোজ্য বকেয়া এবং হালদাবি পরিশোধ করতে হবে। এরপর তিনি ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা গ্রহণ করতে পারবেন।
তবে বণ্টননামার ভিত্তিতে নামজারি করে পৃথক খতিয়ান তৈরি না করা পর্যন্ত কোনো মালিক এককভাবে নিজের অংশের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে পারবেন না। এ ছাড়া পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ করতে অনলাইন বা অটোমেটেড ভূমিসেবা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন অথবা নতুন মডিউল সংযোজনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, এসব নির্দেশনা জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
আরও পড়ুনঃ ইউনিয়ন পর্যায়েও বসছে ভ্যাট, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাসে ৫০০ টাকা
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


