সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ বাড়াতে নতুন কিছু সুবিধা যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়া এবং স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনা।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান জানিয়েছেন, জনআগ্রহ বাড়াতে বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাব পর্ষদ সভায় উপস্থাপন করা হবে। পর্ষদ অনুমোদন ও বিধিমালা সংশোধন হলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন সুবিধাগুলো চালু হতে পারে।
স্বামী বা স্ত্রী পাবেন আজীবন পেনশন
বর্তমানে পেনশনভোগীর মৃত্যু হলে নমিনি পেনশনারের ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত মাসিক পেনশন পান। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, নমিনির পরিবর্তে পেনশনারের স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়া হবে।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চারটি স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন। তাঁদের জমার পরিমাণ ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
স্বাস্থ্যবীমা যুক্ত হচ্ছে
পেনশনারদের স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনার জন্য খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে মাসে ১০ থেকে ২০ টাকা প্রিমিয়াম নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
স্বাস্থ্যবীমা চালু হলে পেনশনাররা চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা পাবেন। এতে পেনশন স্কিমটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঋণ সুবিধা চালু হচ্ছে
আইনে থাকা ঋণ সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ প্রয়োজনে গ্রাহক তাঁর জমা অর্থের একটি অংশ ঋণ হিসেবে নিতে পারবেন।
ঋণের সুদ পেনশন হিসাবে জমা হবে। এতে গ্রাহকের পেনশন তহবিল বাড়তে থাকবে।
স্কিম থেকে বের হওয়ার সুযোগ
পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক অক্ষমতার কারণে কেউ স্কিম থেকে বের হতে চাইলে বিশেষ বিবেচনায় পুরো জমা অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
এটি চালু হলে জরুরি প্রয়োজনে গ্রাহকরা তাদের জমা অর্থ ফেরত পাবেন।
পেনশনের বয়সসীমা পরিবর্তনের চিন্তা
বর্তমানে ৬০ বছর বয়সে পেনশন পাওয়ার নিয়ম রয়েছে। নতুন প্রস্তাবে এই বয়সসীমা ৫৫ বছরে নামিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
তবে এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পর্ষদ সভায় হবে।
সরকারি গ্যারান্টি ও কর সুবিধা
সর্বজনীন পেনশন স্কিমে বিনিয়োগের সম্পূর্ণ অর্থ সরকারি গ্যারান্টির আওতায় থাকে। পেনশন থেকে প্রাপ্ত আয় আয়কর মুক্ত।
চাঁদা বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য হয়, যা কর রেয়াতের জন্য বিবেচিত হয়। ৬০ বছর বয়সে পেনশন পাওয়ার সময় এককালীন গ্র্যাচুইটি হিসেবে জমা অর্থের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত তোলা যায়।
স্কিমের বর্তমান অবস্থা
২০২৩ সালের আগস্টে চালু হওয়া সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় প্রায় তিন বছরেও প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি। ব্যাংকের আমানতের তুলনায় রিটার্ন কম এবং তাৎক্ষণিক সুবিধা সীমিত থাকাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন সুবিধাগুলো চালু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে পেনশন স্কিমের প্রতি আগ্রহ বাড়বে বলে আশা করছেন কর্তৃপক্ষ। পর্ষদ সভায় অনুমোদন পেলে এবং বিধিমালা সংশোধন হলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন সুবিধাগুলো বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


