সরকারি হাসপাতালের সেবাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে বড় ধরনের পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, হাসপাতালে দালাল ও টেস্ট বাণিজ্য স্থায়ীভাবে বন্ধে কঠোর নজরদারি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী প্রাইভেট ক্লিনিকে নেওয়ার অনিয়মও বন্ধ করা হবে।
বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা, বাজেট বাস্তবায়ন, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরা হয়। সেখানে হাসপাতালের দালাল চক্র, অপ্রয়োজনীয় টেস্ট এবং সরকারি অর্থের অপচয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শুধু দালাল চক্র নয়, টেন্ডার অনিয়ম, অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা, কমিশনভিত্তিক চিকিৎসা এবং অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জনগণের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম বন্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করে বাইরে ব্যক্তিগত ক্লিনিকে রোগী পাঠানো, কমিশনের বিনিময়ে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেস্ট করানো এবং সরকারি দায়িত্ব অবহেলা করার সুযোগ আর থাকবে না। এসব কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হবে।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালের দালাল চক্রের কারণে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই সরকারি হাসপাতালের ভেতরে ও আশপাশে সক্রিয় দালালদের বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে পেপাল ও পেওনিয়ার সেবা চালুর পথ সুগম করল বাংলাদেশ ব্যাংক
টেন্ডার অনিয়ম ও সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ
মন্ত্রী অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্য খাতে অনেক সময় এমন টেন্ডার শর্ত দেওয়া হয়, যাতে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কেউ অংশ নিতে না পারে। এতে প্রতিযোগিতা কমে যায় এবং সরকারি অর্থের অপচয় হয়।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, অতীতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ছাড়াই ব্যয়বহুল রেডিওথেরাপি মেশিন কেনা হয়েছিল। একইভাবে বিভিন্ন স্থানে কারিগরি জনবল ছাড়া চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনে ফেলে রাখা হয়েছে, যা কার্যত ব্যবহারের সুযোগ পায়নি।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ৪ ক্যাটাগরির পদে চাকরির সুযোগ
ডায়ালাইসিস, টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবায় নতুন পরিকল্পনা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ডায়ালাইসিস সেবার চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তা আর নবায়ন করা হবে না। সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডায়ালাইসিস মেশিন সংগ্রহ করবে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি কম খরচে রোগীরা সেবা পাবেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার এবং প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচিও আরও জোরদার করা হয়েছে এবং নতুন করে এক লাখের বেশি শিশুকে এর আওতায় আনা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ মাত্র ৩৮ টাকায় টেলিটক দিচ্ছে ২ জিবি ইন্টারনেট, মেয়াদ ৭ দিন
ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা ও সিজারিয়ান অপারেশন নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের ১০টি উপজেলা ও ৯০টি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের স্মার্টফোন, সাইকেল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কিট বক্স দেওয়া হবে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করবেন।
এছাড়া অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধে সারা দেশে বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শন বাড়ানো হয়েছে। যেসব ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও মানসম্মত লেবার রুম নেই, সেগুলোর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুনঃ সয়াবিন তেলে ভয়াবহ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


