পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য সরকার একটি নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে রোববার (১ নভেম্বর) গেজেট প্রকাশ করেছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন। এর আগে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
বোর্ডে কারা রয়েছেন
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০২৬ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী এই বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান।
বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। মালিকপক্ষের সাধারণ প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে মনোনীত করা হয়েছে।
পোশাক খাতের জন্য বোর্ডে আলাদা দুজন প্রতিনিধি রয়েছেন। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বিজিএমইএ’র পরিচালক এবিএম শামসুদ্দিন এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তারকে রাখা হয়েছে।
মজুরি বোর্ডের দায়িত্ব
শ্রম আইনের ১৩৯ ধারা অনুযায়ী, মজুরি বোর্ড সংশ্লিষ্ট খাতের মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করবে। এই বোর্ডকে পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কাঠামো পর্যালোচনা করে নতুন মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।
সরকার এ বছর শ্রম আইন সংশোধন করে ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করেছে। পোশাক খাতের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ২০২৩ সালের নভেম্বরে ঘোষণা করা হয়েছিল, যা ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। ওই সময় মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছিল।
শ্রমিকদের আন্দোলন ও পরিস্থিতি
বোর্ড গঠনের আগে রাজধানী ঢাকা ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকায় পোশাক শ্রমিকরা ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করছিলেন। রোববারও মিরপুর-১০ মোড় এবং গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কয়েকটি পয়েন্ট অবরোধ করেন শ্রমিকরা।
গাজীপুরে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই এলাকার বেশিরভাগ কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শ্রম প্রতিমন্ত্রী শ্রমিকদের শান্ত থাকার এবং কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


