দেশের বৃহত্তম কৃত্রিম জলাশয় কাপ্তাই হ্রদের ছোট মাছ যেমন কাচকি, চাপিলা, মলা ও tengara প্রজাতির মাছের দেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পেয়েছেন গবেষকরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় হ্রদ থেকে সংগ্রহ করা পাঁচটি দেশীয় মাছের প্রজাতির শরীরে এই দূষণ শনাক্ত করা হয়েছে।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) Aquatic Ecology Laboratory-এর একদল গবেষক। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পাশে তিনটি বড় মাছের বাজার থেকে মোট ৭৫টি মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
কোন মাছগুলোতে পাওয়া গেছে
গবেষণায় পাঁচটি প্রজাতির মাছ পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে গুদুসিয়া চাপরা (চাপিলা), কোরিকা সোবোর্না (কাচকি), মিস্টাস টেঙ্গারা (টেংরা), অ্যাম্বলিফ্যারিংগোডন মোলা (মলা) এবং রোহটি কোটিও।
গবেষকরা দেখেছেন, এই পাঁচ প্রজাতির সব মাছের পেট, ফুলকা এবং মাংসে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। অর্থাৎ হ্রদের খাদ্য শৃঙ্খলে এই দূষণ ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে।
কী ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক
গবেষণায় predominantly fibrous (তন্তুযুক্ত) মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এছাড়া Fragments (টুকরো) এবং Pellets (গুটি) ধরনের কণাও শনাক্ত হয়েছে।
এই কণাগুলোর আকার সাধারণত ৫ মিলিমিটারের কম হয়ে থাকে। মাছের খাদ্য গ্রহণের ধরন এবং বসবাসের পরিবেশের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন প্রজাতিতে এর পরিমাণ ভিন্ন হয়েছে।
দূষণের উৎস কী
গবেষকদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের প্রধান উৎস মানব activities। হ্রদের আশপাশের বাসিন্দাদের গৃহস্থালি বর্জ্য, মাছ ধরার সময় ব্যবহৃত প্লাস্টিক সামগ্রী এবং পর্যটকদের ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বর্জ্য এই দূষণে বড় ভূমিকা রাখছে।
এছাড়া হ্রদে প্রবাহিত কার্নাফুলী নদীর উজান থেকেও প্লাস্টিক বর্জ্য এসে মিশছে। গবেষকরা বলছেন, প্লাস্টিকের প্যাকেজিং এবং সিনথেটিক পোশাকের তন্তুও এই দূষণের জন্য দায়ী।
মানব স্বাস্থ্যে প্রভাব
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক মাছের পেটের আস্তরণে শোষিত হয়ে শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। মানুষ যখন এই মাছ খায়, তখন মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে।
এতে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, বিপাকীয় সমস্যা এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গবেষকরা।
সমাধানের পথ
গবেষকরা বলছেন, এই দূষণ কমাতে হলে হ্রদের আশপাশে প্লাস্টিক ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মাছ ধরার কাজে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে বিকল্প সামগ্রী ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া গৃহস্থালি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং পর্যটন এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে। গবেষকদের মতে, নিয়মিত মনিটরিং এবং জনসচেতনতা ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
আরও পড়ুনঃ
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


