দরিদ্র ও অসহায় গর্ভবতী মায়েদের জন্য সরকারের মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্যক্রম চালু রয়েছে। এখন এই কর্মসূচি ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি (MCBP)’ নামে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি মাসে ৮০০ টাকা হারে এই ভাতা দেওয়া হয়।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বাজেটে মাতৃত্বকালীন ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে ৮৫০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বাস্তবায়ন পর্যায়ে এখনো ৮০০ টাকা হারে ভাতা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
গর্ভবতী মায়েরা এই ভাতার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে শুধু গর্ভবতী হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাতা পাওয়া যায় না। আবেদনের পর যাচাই-বাছাই করে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়।
মাতৃত্বকালীন ভাতার পরিমাণ ও মেয়াদ
বর্তমানে একজন নির্বাচিত উপকারভোগী প্রতি মাসে ৮০০ টাকা হারে ভাতা পান। এই ভাতা প্রতি ৬ মাস পরপর কিস্তিতে দেওয়া হয়।
প্রথম বা দ্বিতীয় গর্ভধারণের ক্ষেত্রে এই ভাতা পাওয়া যায়। ভাতার মেয়াদ ২৪ মাস থেকে বাড়িয়ে ৩৬ মাস করার প্রস্তাব রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ গ্রামীণ দরিদ্রদের কম দামে এলপিজি দেবে সরকার, ভর্তুকি পাবে যেসব পরিবার
ভাতার টাকা কীভাবে পাওয়া যায়
ভাতার টাকা সরাসরি সুবিধাভোগী মায়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ, রকেট) অ্যাকাউন্টে জিটুপি (G2P) পদ্ধতিতে পাঠানো হয়।
টাকা জমা হওয়ার পর মোবাইলে খুদে বার্তার মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়। আবেদনকারীর নিজের নামে নিবন্ধিত সক্রিয় মোবাইল নম্বর বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।
মাতৃত্বকালীন ভাতা কারা পাবেন?
আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক ও নিম্ন আয়ের গর্ভবতী নারী হতে হবে। প্রথম বা দ্বিতীয় গর্ভধারণের ক্ষেত্রে এই ভাতা প্রযোজ্য।
আবেদনকারীর বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। নিজের বা স্বামীর নামে ন্যূনতম জমি বা স্থায়ী আয়ের পর্যাপ্ত উৎস থাকা যাবে না।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, মাসিক আয় ১,৫০০ টাকার নিচে হলে এই ভাতার জন্য বিবেচিত হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত নির্বাচন স্থানীয় কমিটির যাচাই-বাছাইয়ের পর নির্ধারিত হয়।
আবেদন করতে কী কী কাগজপত্র লাগবে
আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) সত্যায়িত কপি লাগবে। ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ জমা দিতে হবে।
গর্ভাবস্থার ডাক্তারি সনদ বা কার্ড (হাসপাতাল বা কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে প্রাপ্ত) প্রয়োজন হবে। নিজের নামে নিবন্ধিত সক্রিয় মোবাইল নম্বর বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য দিতে হবে।
পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিও জমা দিতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শপত্র বা এএনসি (ANC) কার্ডও লাগবে।
আরও পড়ুনঃ অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করার নিয়ম
মাতৃত্বকালীন ভাতা আবেদন করবেন যেভাবে
আবেদনকারী নিজে অনলাইনে প্রাথমিক তথ্য পূরণ করে সংরক্ষণ করতে পারেন। এরপর সেটি স্থানীয় প্রতিনিধির সুপারিশের অপেক্ষায় থাকে।
অথবা সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা উদ্যোক্তার মাধ্যমে হার্ড কপিতে আবেদন জমা দিয়ে সেটি অনলাইনে এন্ট্রি করিয়ে নেওয়া যায়। ইউপি বা পৌরসভার সুপারিশ ছাড়া কোনো আবেদন চূড়ান্ত অনুমোদন পায় না।
আবেদন করার জন্য কোনো টাকা বা ফি লাগে না। কেউ টাকা দাবি করলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ করা যাবে।
আরও পড়ুনঃ বাড়লো প্রবাসীদের পাসপোর্ট সংশোধনের সময়, মিলবে বিশেষ সুবিধা
আবেদনের অবস্থা যাচাই
আবেদনের অবস্থা ইউপি বা পৌরসভা থেকে জানতে পারবেন। জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর দিয়ে সার্চ করে সিস্টেমে আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করা যাবে।
অনুমোদন হয়েছে কি না, সুপারিশ হয়েছে কি না—এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে জানা যাবে।
ভাতা কবে দেওয়া হবে
নির্বাচিত উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ভাতা বিতরণ শুরু হয়। সাধারণত আবেদন ও যাচাই প্রক্রিয়া শেষে কয়েক মাসের মধ্যে প্রথম কিস্তি পাওয়া যায়।
ভাতার টাকা প্রতি ৬ মাস পরপর কিস্তিতে প্রদান করা হয়। তাই নির্দিষ্ট মাসে টাকা পাওয়ার জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হয়।
যেহেতু কর্মসূচির নাম, মেয়াদ ও শর্তাবলি সময়ে সময়ে হালনাগাদ হয়, তাই আবেদনের আগে নিজের এলাকার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়া ভালো।
আরও পড়ুনঃ আগামী জুনের মধ্যে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


