গ্রামীণ দরিদ্রদের কম দামে এলপিজি দেবে সরকার, ভর্তুকি পাবে যেসব পরিবার

গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কম দামে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। রান্নার কাজে কাঠ, খড়কুটো ও ঘুঁটের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে শিগগিরই এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হতে পারে।

বর্তমানে দেশের অধিকাংশ গ্রামীণ পরিবার রান্নার জন্য এখনও প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। এতে যেমন বন উজাড় হচ্ছে, তেমনি চুলার ধোঁয়ার কারণে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। তাই সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দরিদ্র মানুষের জন্য নিরাপদ জ্বালানি ব্যবহার আরও সহজ হবে।

এছাড়া ভর্তুকির মাধ্যমে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন সরকার কম দামে এলপিজি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে

দেশের গ্রামীণ অঞ্চলে এখনও বিপুলসংখ্যক মানুষ রান্নার জন্য কাঠ, খড়কুটো, বাঁশ কিংবা ঘুঁটা ব্যবহার করেন। এসব জ্বালানি ব্যবহারের ফলে বনাঞ্চল ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি ঘরের ভেতরে ধোঁয়া জমে নারী ও শিশুদের শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের রোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।

এসব সমস্যা কমাতে সরকার ভর্তুকির মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের হাতে সাশ্রয়ী মূল্যে এলপিজি পৌঁছে দিতে চায়। এতে পরিবেশ রক্ষা যেমন সম্ভব হবে, তেমনি মানুষের জীবনমানও উন্নত হবে।

কারা এই সুবিধা পেতে পারেন

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী মূল লক্ষ্য থাকবে গ্রামের অসচ্ছল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। যেসব পরিবার নিয়মিত এলপিজি ব্যবহার করতে পারেন না বা জ্বালানি কাঠের ওপর নির্ভরশীল, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু গ্রামীণ দরিদ্র নয়, শহরের বস্তিতে বসবাসকারী দরিদ্র পরিবারগুলোকেও এই কর্মসূচির আওতায় আনা হলে এর সুফল আরও বেশি মানুষ পাবে।

আরও পড়ুনঃ এক চার্জেই চলবে ১৩০ কিলোমিটার, বাংলাদেশে রিভোর নতুন দুটি ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল

কীভাবে ভর্তুকি কার্যকর হতে পারে

এখনও পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রকাশ হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

প্রথমত, প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলোকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে। এজন্য একটি নির্ভুল ও স্বচ্ছ ডাটাবেস তৈরি করা প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত, ভর্তুকিপ্রাপ্ত সিলিন্ডার যেন বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার বা কালোবাজারে বিক্রি না হয়, সেজন্য কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

বর্তমানে দেশে এলপিজির বাজার পরিস্থিতি

বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে ১৫ লাখ টনেরও বেশি এলপিজি ব্যবহার হয়। এর প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহার হয় গৃহস্থালির রান্নার কাজে।

দেশে সরবরাহ হওয়া এলপিজির প্রায় ৯৮ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আমদানি ও বাজারজাত করে। সরকারি সরবরাহ মাত্র ২ শতাংশের মতো।

সরকারি কোম্পানির সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য দীর্ঘদিন ধরে ৮২৫ টাকা থাকলেও বাজারে এটি সহজে পাওয়া যায় না। অন্যদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সিলিন্ডারের দাম অনেক সময় নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বেশি নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা: সড়কমন্ত্রী

ভারত ও পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা

ভারত দরিদ্র পরিবারের জন্য বিশ্বের অন্যতম সফল এলপিজি ভর্তুকি কর্মসূচি পরিচালনা করছে। সেখানে গ্রাহকরা বাজারমূল্যে সিলিন্ডার কিনলেও সরকার নির্ধারিত ভর্তুকির অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেয়। ফলে দুর্নীতি ও মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কমে যায়।

পাকিস্তানেও শীত মৌসুমে অনেক সময় অসচ্ছল পরিবারের জন্য কম দামে এলপিজি সরবরাহের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এসব মডেল বিবেচনায় আনা হতে পারে।

সরকারের এই উদ্যোগের সম্ভাব্য সুফল

এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে একাধিক ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

প্রথমত, গ্রামীণ এলাকায় কাঠের ব্যবহার কমে বন সংরক্ষণ সহজ হবে।

দ্বিতীয়ত, রান্নার ধোঁয়া কমে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস পাবে।

তৃতীয়ত, দরিদ্র পরিবার নিরাপদ জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ পাবে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

চতুর্থত, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণও কমানো সম্ভব হবে।

আরও পড়ুনঃ চলতি মাসেই চালু হচ্ছে প্রবাসী কার্ড, মিলবে ব্যাংকিং ও দূতাবাসের বিশেষ সুবিধা

সাধারণ জিজ্ঞাসা

গ্রামীণ দরিদ্রদের জন্য এলপিজি ভর্তুকি কবে চালু হবে?

সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট তারিখ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

কারা এই সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে?

প্রাথমিকভাবে গ্রামের অসচ্ছল ও প্রান্তিক পরিবারগুলোকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে সরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কত?

সরকারি কোম্পানির সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য বর্তমানে ৮২৫ টাকা।

কেন এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে?

কাঠ ও খড়কুটোর ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ রান্নার জ্বালানি নিশ্চিত করা, বন সংরক্ষণ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ভর্তুকির অর্থ কীভাবে দেওয়া হতে পারে?

চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশ না হলেও বিশেষজ্ঞরা ভারতের মতো সরাসরি সুবিধাভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভর্তুকি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

উপসংহার

গ্রামীণ দরিদ্রদের জন্য কম দামে এলপিজি সরবরাহের সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের জ্বালানি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

তবে প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্বাচন, স্বচ্ছ বিতরণ ব্যবস্থা এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এই উদ্যোগ পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।

আরও পড়ুনঃ প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে চালু হবে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ

WhatsApp Group Join Now
ALL SIM Offer Update Group Join Now
Telegram Group Join Now
আপনি কি কমদামে মিনিট, ইন্টারনেট ও বান্ডেল অফার খুঁজছেন!

ভিজিট করুন 👉

━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━

ডিজিটাল টাচ
ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে
Sharing Is Caring:

আমি শেখ মোঃ আমিনুল ইসলাম (সুজন)। ডিজিটাল টাচ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। এইচএসসি (বিজ্ঞান); চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Comment