বর্তমানে যারা ১৮ বছর পূর্ণ করেছেন কিন্তু এখনো ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি, তাদের জন্য সুখবর দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন ভোটার হওয়ার বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত যোগ্য নাগরিকরা নতুন ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগের ফলে হাজারো নতুন ভোটার তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার সুযোগ পাবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
আপনি যদি এখনও ভোটার না হয়ে থাকেন এবং বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়ে থাকে, তাহলে দেরি না করে এখনই আবেদন সম্পন্ন করা উচিত। কারণ নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে পরবর্তী হালনাগাদের জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।
Content Summary
- 1 কারা নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন?
- 1.1 নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন করার শেষ তারিখ
- 1.2 নতুন ভোটার হওয়ার জন্য কী কী লাগবে?
- 1.2.1 প্রয়োজনীয় তথ্য
- 1.2.2 খসড়া ভোটার তালিকা কবে প্রকাশ হবে?
- 1.2.3 খসড়া তালিকায় ভুল থাকলে কী করবেন?
- 1.2.4 চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের তারিখ
- 1.2.5 ভোটকেন্দ্রের তালিকা কবে প্রকাশ হবে?
- 1.2.6 স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হতে পারে?
- 1.2.7 বর্তমানে দেশে মোট ভোটার কত?
- 1.2.8 নতুন ভোটার হওয়ার আগে যেসব বিষয় মনে রাখবেন
- 1.2.9 কেন সময়মতো আবেদন করা জরুরি?
- 1.2.10 সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
কারা নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন?
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, যেসব নাগরিকের জন্ম ৩১ জুলাই ২০০৮ বা তার আগে, তারা নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
তবে একটি বিষয় অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে, আবেদনকারী যেন আগে কখনও ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত না হয়ে থাকেন। একই ব্যক্তি একাধিকবার আবেদন করলে আবেদন বাতিল হওয়ার পাশাপাশি আইনি জটিলতাও সৃষ্টি হতে পারে।
নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন করার শেষ তারিখ
নতুন ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন গ্রহণ চলবে ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত।
এই সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে। তাই শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব আবেদন সম্পন্ন করাই ভালো।
আরও পড়ুনঃ গ্রামীণ দরিদ্রদের কম দামে এলপিজি দেবে সরকার, ভর্তুকি পাবে যেসব পরিবার
নতুন ভোটার হওয়ার জন্য কী কী লাগবে?
আবেদন করার সময় সাধারণত নিচের তথ্য ও কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে।
প্রয়োজনীয় তথ্য
- জন্ম নিবন্ধন অথবা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য
- পিতা ও মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য
- স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা
- মোবাইল নম্বর
- শিক্ষাগত তথ্য (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
এছাড়া নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বায়োমেট্রিক তথ্য এবং ছবি সংগ্রহ করা হবে।
খসড়া ভোটার তালিকা কবে প্রকাশ হবে?
নতুন আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই শেষে ৯ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
এই তালিকা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে প্রদর্শন করা হবে, যাতে সবাই নিজের তথ্য যাচাই করতে পারেন।
আরও পড়ুনঃ এক চার্জেই চলবে ১৩০ কিলোমিটার, বাংলাদেশে রিভোর নতুন দুটি ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল
খসড়া তালিকায় ভুল থাকলে কী করবেন?
খসড়া তালিকায় যদি কারও নাম না থাকে অথবা কোনো তথ্য ভুল থাকে, তাহলে সংশোধনের সুযোগ থাকবে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী ২৪ আগস্ট পর্যন্ত তথ্য সংশোধন অথবা নতুন অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা যাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে সংশোধন করা হবে।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের তারিখ
সকল যাচাই-বাছাই ও সংশোধনের কাজ শেষ হওয়ার পর ৩১ আগস্ট নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে।
চূড়ান্ত তালিকায় যাদের নাম থাকবে, তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।
আরও পড়ুনঃ ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা: সড়কমন্ত্রী
ভোটকেন্দ্রের তালিকা কবে প্রকাশ হবে?
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী,
- ১০ আগস্ট খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হবে।
- যাচাই শেষে ২৭ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হবে।
এর মাধ্যমে ভোটাররা আগেই জানতে পারবেন তারা কোন কেন্দ্রে ভোট দেবেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হতে পারে?
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী অক্টোবর মাস থেকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন শুরু হতে পারে।
এ লক্ষ্যে আগস্ট মাসের মাঝামাঝি অথবা শেষ দিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।
বর্তমানে দেশে মোট ভোটার কত?
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন।
এর মধ্যে
- পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন
- নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন
- হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন
নতুন আবেদনকারীদের যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।
আরও পড়ুনঃ চলতি মাসেই চালু হচ্ছে প্রবাসী কার্ড, মিলবে ব্যাংকিং ও দূতাবাসের বিশেষ সুবিধা
নতুন ভোটার হওয়ার আগে যেসব বিষয় মনে রাখবেন
আবেদন করার আগে নিশ্চিত করুন যে আপনি আগে কখনও ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হননি।
সব তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করুন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন। ভুল তথ্য দিলে আবেদন বিলম্বিত হতে পারে।
বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার সময় অবশ্যই নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকতে হবে। আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর প্রয়োজনে আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করে রাখুন।
কেন সময়মতো আবেদন করা জরুরি?
ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত থাকলে আপনি শুধু ভোটাধিকারই পাবেন না, ভবিষ্যতে জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি সেবাও সহজে গ্রহণ করতে পারবেন।
তাই যারা এখনও ভোটার হননি, তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগও নিশ্চিত হবে।
আরও পড়ুনঃ প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে চালু হবে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
আগামী ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করা যাবে।
যাদের জন্ম ৩১ জুলাই ২০০৮ বা তার আগে এবং যারা এখনও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি, তারা আবেদন করতে পারবেন।
নতুন ভোটারদের খসড়া তালিকা আগামী ৯ আগস্ট প্রকাশ করা হবে।
২৪ আগস্ট পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তথ্য সংশোধনের আবেদন করা যাবে।
যাচাই-বাছাই শেষে ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।
উপসংহার
নির্বাচন কমিশনের নতুন এই উদ্যোগ দেশের তরুণ নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যদি আপনার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়ে থাকে এবং এখনও ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না হয়ে থাকে, তাহলে ৩১ জুলাইয়ের আগেই আবেদন সম্পন্ন করুন।
সময়মতো আবেদন করলে ভবিষ্যতের সব নির্বাচনেই ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত হবে।
আরও পড়ুনঃ অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর খাজনা পরিশোধের সম্পূর্ণ নিয়ম
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


