রাজধানীতে অপ্রয়োজনীয় হর্ন বন্ধে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। শব্দদূষণ কমানো এবং নগরবাসীর জন্য আরও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে নীরব এলাকায় গাড়ির অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানো নিরুৎসাহিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
রাজধানীতে অপ্রয়োজনীয় হর্ন বন্ধের উদ্যোগের অংশ হিসেবে নীরব এলাকাগুলোতে স্পষ্ট সাইনবোর্ড স্থাপন এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে মনে করা হচ্ছে, চালকদের সচেতন করার পাশাপাশি সড়কে নিয়মিত নজরদারি থাকলে অপ্রয়োজনীয় হর্নের ব্যবহার কমানো সম্ভব হবে।
গত ১৯ জুলাই ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় যানজট নিয়ন্ত্রণ, সড়কে শৃঙ্খলা, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম এবং নাগরিকসেবার মান উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলো শুনে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন ডিএমপি কমিশনার।
নীরব এলাকায় হর্ন নিয়ন্ত্রণে ডিএমপির উদ্যোগ
নীরব এলাকায় সাইনবোর্ড স্থাপনের নির্দেশ
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, শব্দদূষণ পরিবেশের পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুতর হুমকি তৈরি করে। তাই নীরব এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে স্পষ্ট ও দৃশ্যমান সাইনবোর্ড স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সাইনবোর্ডের মাধ্যমে চালকদের নীরব এলাকার বিষয়ে আগে থেকেই জানানো হবে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহার কমানো এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা তৈরি করা সহজ হবে বলে মনে করছে ডিএমপি।
আরও পড়ুনঃ চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৮০০টি ইলেকট্রিক বাস কিনছে সরকার
জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব
শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছে ডিএমপি। এজন্য চালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নীরব এলাকায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে হর্ন না বাজানোর বিষয়ে সবাইকে সচেতন করতে হবে।
ডিএমপি কমিশনার ট্রাফিক কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর, আধুনিক এবং নাগরিকবান্ধব করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ব্যক্তি পর্যায়ে এনআইডি যাচাইয়ে নতুন অ্যাপ আনছে ইসি
যানজট ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ
মতবিনিময় সভায় রাজধানীর যানজট নিরসন এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং জনসেবার মান উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্য শোনার পর ডিএমপি কমিশনার কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, নগরবাসীকে আরও উন্নত ও মানসম্মত ট্রাফিকসেবা দিতে হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। শব্দদূষণ কমানোর পাশাপাশি রাজধানীর সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক মো. আনিছুর রহমানসহ ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুনঃ বিআরটিসির বহরে যুক্ত হচ্ছে ২০০ ইলেকট্রিক বাস, থাকছে চার্জিং স্টেশন
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


