দেশের লাখো মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ব্যবহারকারীর জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। সরকার মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ওপর প্রস্তাবিত অগ্রিম আয়কর আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। ফলে আগামী অর্থবছরে এসব যানবাহনের মালিকদের নতুন কোনো কর দিতে হবে না।
সাম্প্রতিক সময়ে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের মধ্যে সম্ভাব্য কর নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ চালকদের প্রতিবাদের পর বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা হয়।
সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত এই যানবাহনের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানো হবে না। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
Content Summary
কেন কর আরোপের পরিকল্পনা করা হয়েছিল
রাজস্ব আদায় বাড়ানোর লক্ষ্যেই মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে করের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছিল।
এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, এই খাত থেকে বছরে প্রায় দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা ছিল।
বিশেষ করে দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় এটিকে সম্ভাবনাময় কর উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।
তবে জনস্বার্থ ও সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
আরও পড়ুনঃ এলপি গ্যাসের নতুন দাম ঘোষণা, ১২ কেজি সিলিন্ডারে কমলো ৫৫ টাকা
মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের আপত্তির কারণ
মোটরসাইকেল এখন শুধু ব্যক্তিগত বাহন নয়, অনেকের জীবিকা ও দৈনন্দিন যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম।
রাইড শেয়ার চালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং চাকরিজীবীরা নিয়মিত মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন।
ব্যবহারকারীরা দাবি করেন, তারা ইতোমধ্যে নিবন্ধন ফি, রোড ট্যাক্স, বীমা এবং জ্বালানির ওপর বিভিন্ন ধরনের কর পরিশোধ করছেন।
নতুন অগ্রিম আয়কর যুক্ত হলে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতো বলে তারা মনে করেন।
আরও পড়ুনঃ তিন কোটি খুচরা দোকান আসছে করের আওতায়, নতুন পরিকল্পনায় এনবিআর
কত টাকা কর নির্ধারণের প্রস্তাব ছিল
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ক্ষমতা অনুযায়ী কর নির্ধারণের চিন্তা করা হয়েছিল।
১১১ থেকে ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলের জন্য বছরে দুই হাজার টাকা করের প্রস্তাব ছিল।
১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি মোটরসাইকেলের জন্য পাঁচ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের জন্য ১০ হাজার টাকা কর নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে করের হার কমানোর আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত পুরো প্রস্তাবই বাতিল করা হয়েছে।
১৫০ সিসির বেশি মোটরসাইকেলে নতুন শর্ত
কর বাতিল হলেও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে একটি নতুন শর্ত বহাল রাখা হয়েছে।
১৫০ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের মালিকদের করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন গ্রহণ করতে হবে।
সরকারের লক্ষ্য হলো উচ্চমূল্যের যানবাহন ব্যবহারকারীদের কর নেটওয়ার্কের আওতায় আনা।
তবে এই শর্তের সঙ্গে কোনো নতুন অগ্রিম আয়কর যুক্ত করা হয়নি।
আরও পড়ুনঃ ফেসবুকে কনটেন্ট কপিক্যাট বন্ধে নতুন নিয়ম, আসল ক্রিয়েটরদের জন্য বড় সুবিধা
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার করও বাতিল
মোটরসাইকেলের পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ওপরও নতুন কর আরোপের পরিকল্পনা ছিল।
সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং ইউনিয়নভেদে এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছিল।
দেশে বিপুল সংখ্যক অটোরিকশা চালক ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবিকা এই খাতের ওপর নির্ভরশীল।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এই করও বাতিল করা হয়েছে।
উপসংহার
মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় কর নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তির বার্তা হিসেবে এসেছে।
সরকার প্রস্তাবিত অগ্রিম আয়কর বাতিল করায় লাখো মোটরসাইকেল মালিক ও অটোরিকশা চালক বাড়তি ব্যয় থেকে মুক্ত থাকবেন।
বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর সম্ভাব্য আর্থিক চাপ কমবে।
তবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক হওয়ায় কর ব্যবস্থার আওতা ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হবে।
আরও পড়ুনঃ সিম রিপ্লেসমেন্ট ও মালিকানা বদলে বড় পরিবর্তন, নতুন নির্দেশনা দিল বিটিআরসি
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


