বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্যক্তিগত যাতায়াত, ব্যবসায়িক কাজ এবং দ্রুত যোগাযোগের জন্য মোটরসাইকেল এখন অন্যতম জনপ্রিয় বাহন। তবে এখনও অনেক মোটরসাইকেল প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ছাড়া সড়কে চলাচল করছে।
এ অবস্থায় অবৈধ মোটরসাইকেল বৈধ করতে আবেদন করলে রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় বাজেট অধিবেশনে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করলে নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেলকে বৈধ করার সুযোগ রয়েছে। ফলে যেসব মোটরসাইকেল মালিক এখনও রেজিস্ট্রেশন নেননি, তারা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বৈধতা অর্জন করতে পারবেন।
Content Summary
দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের বর্তমান সংখ্যা
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের তথ্যভান্ডারে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৯ লাখ ৯৭ হাজার ৯০টি।
গত কয়েক বছরে মোটরসাইকেলের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে শহর ও জেলা পর্যায়ে ব্যক্তিগত যানবাহন হিসেবে মোটরসাইকেলের চাহিদা বেড়েছে। রাইড শেয়ারিং সেবা, অনলাইন ডেলিভারি এবং ব্যবসায়িক কাজে মোটরসাইকেলের ব্যবহার বাড়ার ফলে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
অবৈধ মোটরসাইকেল বৈধ করার সুযোগ
সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, যেসব মোটরসাইকেল এখনও বিআরটিএ থেকে নিবন্ধন গ্রহণ করেনি, সেসব মোটরসাইকেল মালিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করলে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।
অর্থাৎ মোটরসাইকেলটি যদি বৈধভাবে কেনা হয়ে থাকে এবং মালিকানা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি থাকে, তাহলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করে রেজিস্ট্রেশন নেওয়া সম্ভব হবে।
এ সিদ্ধান্তের ফলে অনেক মোটরসাইকেল মালিক বৈধভাবে যানবাহন নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন এবং সড়কে আইনগত জটিলতা এড়াতে পারবেন।
আরও পড়ুনঃ ডিজিটাল হচ্ছে বিয়ে নিবন্ধন প্রক্রিয়া, কী সুবিধা পাবেন নাগরিকরা?
মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের জন্য যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে
অবৈধ মোটরসাইকেল বৈধ করার ক্ষেত্রে সাধারণত কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। এর মধ্যে থাকতে পারে:
ক্রয় রসিদ বা ইনভয়েস
মোটরসাইকেল কেনার প্রমাণ হিসেবে ক্রয় রসিদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জাতীয় পরিচয়পত্র
মালিকের জাতীয় পরিচয়পত্র বা পরিচয় সংক্রান্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে।
আমদানি বা উৎপাদন সংক্রান্ত কাগজপত্র
মোটরসাইকেলের উৎস এবং বৈধতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হতে পারে।
কর ও ফি পরিশোধের প্রমাণ
নির্ধারিত সরকারি ফি ও কর পরিশোধের রসিদ প্রয়োজন হতে পারে।
তবে সুনির্দিষ্ট কাগজপত্রের তালিকা বিআরটিএর সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
আরও পড়ুনঃ ঢাকার তিন বাস টার্মিনাল সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, কমবে রাজধানীর যানজট?
সড়কে অবৈধ মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে
মন্ত্রী জানিয়েছেন, সড়ক ও মহাসড়কে অবৈধভাবে চলাচলকারী মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
রেজিস্ট্রেশনবিহীন, নম্বরপ্লেটবিহীন বা আইন লঙ্ঘনকারী মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাই মোটরসাইকেল মালিকদের দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রেজিস্ট্রেশন কেন গুরুত্বপূর্ণ
মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন শুধু আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, এটি মালিকের নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
রেজিস্ট্রেশন থাকলে যানবাহনের মালিকানা সহজে প্রমাণ করা যায়। দুর্ঘটনা, চুরি বা আইনি জটিলতার ক্ষেত্রে নিবন্ধিত মোটরসাইকেল মালিকেরা প্রয়োজনীয় সুবিধা পান। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেও নিবন্ধন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও পড়ুনঃ জি-মেইলের পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে যা করবেন
উপসংহার
অবৈধ মোটরসাইকেল বৈধ করতে আবেদন করলে রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত অনেক মোটরসাইকেল মালিকের জন্য স্বস্তির খবর।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিবন্ধন গ্রহণের মাধ্যমে মালিকরা তাদের মোটরসাইকেলকে সম্পূর্ণ বৈধ করতে পারবেন।
সড়কে নিরাপদ ও আইনসম্মত চলাচল নিশ্চিত করতে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাই যাদের মোটরসাইকেল এখনও নিবন্ধিত নয়, তাদের দ্রুত বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন করার প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুনঃ গণপরিবহনে বাধ্যতামূলক চালু হচ্ছে জিপিএস,
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


