সিরাজদিখানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। নতুন এই নির্দেশনার আওতায় উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা আর মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। একই সঙ্গে ক্লাস চলাকালে শিক্ষকদেরও মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের দাবি, শিক্ষার্থীদের মোবাইল নিষিদ্ধ করার মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধি, শ্রেণিকক্ষের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মোবাইল আসক্তির নেতিবাচক প্রভাব কমানো। এ সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের কাছে পরিপত্র আকারে পাঠানো হয়েছে।
প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোবাইল ব্যবহারের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ফলে শিক্ষা কার্যক্রমে মনোযোগ কমে যাচ্ছে এবং শ্রেণিকক্ষের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই নতুন নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা ঘোষ গত ২৬ জুলাই জারি করা এক পরিপত্রে এই নির্দেশনা দেন। সেখানে বলা হয়েছে, উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
ইউএনও গণমাধ্যমকে জানান, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী করে তোলা এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
পরিপত্রে কী কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তি দিন দিন বাড়ছে। এর ফলে তাদের পড়াশোনা, মনোযোগ এবং স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ কারণে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যবহার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও পরিপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
শিক্ষকদের জন্যও রয়েছে বিশেষ নির্দেশনা
নতুন নির্দেশনায় শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, শিক্ষকদের জন্যও কিছু বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। ক্লাস চলাকালে শিক্ষকরা যেন ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহার না করেন, সে বিষয়েও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
প্রশাসনের মতে, পাঠদানের সময় মোবাইল ব্যবহার করলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বিঘ্নিত হয় এবং পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শ্রেণিকক্ষে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য কী প্রভাব ফেলতে পারে এই সিদ্ধান্ত
প্রশাসনের আশা, নতুন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল নির্ভরতা কমবে এবং তারা পাঠ্যবিষয়ে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।
এছাড়া শ্রেণিকক্ষে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি কমে গিয়ে শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং একটি স্বাস্থ্যকর শিক্ষার পরিবেশ গড়ে উঠবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


