পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানুষ কে?

পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানুষ কে? এ বিষয়টি জানার জন্য আপনারা অনেকেই গুগল সার্চ করে থাকেন। আজকের আর্টিকেল এর মাধ্যমে আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানুষকে সে সম্পর্কে আপনাদের জানাবো।

পৃথিবীতে অনেক ভালো মানুষই ছিলেন তবে আজকের আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব এমন একজন মানুষ সম্পর্কে যিনি পৃথিবীতে অন্যান্য মানুষের থেকে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ।

তিনি ছিলেন সত্য এবং ন্যায় পরায়ন একজন মানুষ। চলুন জেনে নেয়া যাক কে সেই মহান ব্যক্তি যিনি পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানুষ হিসেবে সকলের মন জয় করেছেন।

পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানুষ কে

এক নজরে হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনী
এক নজরে হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনী

পৃথিবীতে সবচেয়ে ভালো মানুষ হিসেবে গণ্য করা হয় আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে।

পৃথিবীর প্রায় সকল মুসলমানের কাছেই আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সবচেয়ে প্রিয় মানুষ।

পৃথিবীর সর্বকালের সেরা মানব হিসেবেও তিনি পুরো পৃথিবীতে পরিচিত।

ইন্টারনেটের গুগোলে বিশ্বসেরা মানুষ হিসেবে সার্চ করা হয় তাহলে সর্বপ্রথম স্থানে আমাদের প্রিয় নবীর নামটি আসে।

গুগলে best man, best human, best human in the world,  ‘who is the best man in the world- ইত্যাদি লিখে সার্চ করলে প্রথমেই চলে আসে হযরত মুহাম্মাদ (সা.) এর নাম।

মাইকেল হার্টসের লেখা ‘বিশ্ব সেরা ১০০ মনীষী’ গ্রন্থে সর্বপ্রথম স্থানে রাখা হয়েছে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু সাল্লাম এর নাম।

১৯৭৮ সালে এই বইটি প্রকাশিত হবার পর নানান মহলে এটি নিয়ে ব্যাপক হইচই পড়ে যায়।

গুগলের এই তথ্য বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘Best Man In The World ’Prophet Muhammad’. অর্থাৎ ‘নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বিশ্বের সেরা মহামানব’ ইত্যাদি হ্যাশট্যাগে ভাইরাল হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ

ইসলাম শব্দের অর্থ কি?

ইমান শব্দের অর্থ কি?

কুরআন শব্দের অর্থ কি?

এক নজরে হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনী

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম হলেন আখেরি জামানার নবী অর্থাৎ সর্বশেষ নবী। তিনি পৃথিবীর ইতিহাসে মানুষকে সুপথে চালানোর জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা। 

তার এই বিশেষত্বের অন্যতম কারণ হচ্ছে আধ্যাত্মিক ও জাগতিক উভয় জগতেই চূড়ান্ত সফলতা অর্জন।

তিনি আল্লাহ তালার যেমন আনুগত্য করতেন তেমনি মানুষকে সঠিক পথে আনার জন্য নেতৃত্ব প্রদান করতেন।

সমগ্র আরব বিশ্বে তিনি একজন সত্য এবং ন্যায় পরায়ণ মানুষ হিসেবে আজও মানুষের প্রিয়।

তার অন্যতম সফল আর তার মধ্যে একটি হলো তিনি আরব জনতাকে একীভূতকরণ করেছেন।

আমাদের এই প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল মাসে আরবে মা আমিনার কোলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

আমাদের এই প্রিয় নবী ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ৬৩ বছর বয়সে পৃথিবী ত্যাগ করেন।

একসময় আরববাসী ছিলেন ঘোর অন্ধকারের মধ্যে নিমজ্জিত।

তারা আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নানান খারাপ কাজে নিজেদের লিপ্ত করেছিলেন। 

সর্ব জায়গায় দেখা দিয়েছিল জুলুম অরাজগতা এবং বিশৃঙ্খলা।

সেখানে তখন মারামারি এবং হানাহানিতে মানুষ লিপ্ত হয়ে গিয়েছিল।  তখন তারা মূর্তিপূজা করতো। সে যুগকে বলা হয় “আইয়ামে জাহেলিয়াত”।

এসকল হানাহানি-মারামারি থেকে মানুষকে মুক্তি দেয়ার জন্য এবং তাদের আলোর পথে নিয়ে আসার জন্য আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে আমাদের প্রিয় নবী  হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেন।

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত রয়েছে যে,  যদি আল্লাহ তাআলা মহানবী (সা.) কে সৃষ্টি না করতো তাহলে তিনি এই পৃথিবী কে সৃষ্টি করতেন না।

আরও পড়ুনঃ

 এশার নামাজ কয় রাকাত ও কি কি?

কারবালা কোথায় অবস্থিত?

আসসালামু আলাইকুম অর্থ কি?

নারীদের মর্যাদাবানে বিশ্বনবী

নারীদের মর্যাদাবানে বিশ্বনবী
নারীদের মর্যাদাবানে বিশ্বনবী

আগে ইসলামের জাহেলী আরব সমাজের মধ্যে নারীদের মর্যাদাপূর্ণ কোন অবস্থান ছিলনা। তাদের শুধুমাত্র পুরুষের ভোগের বস্তু হিসেবে গণ্য করা হতো।

নারী ছিল রাতের কবিতার আসর আর মদের আড্ডার বিশেষ অনুষঙ্গ।

সমাজে এবং নিজের জীবনে তাদেরকে বড়জোর তাদের স্বামী বা তারা যেখানে কাজ করেছি মনিবের মনোরঞ্জন উপকরণ হিসেবে গণ্য করা হতো তার চেয়ে বেশি কিছু মনে করা হতো না।

নারীদেরকে পরিবার সমাজ এবং তাদের বংশের অসম্মান এবং অভিশপ্ত হিসেবে মনে করা হতো। 

এমনকি সামাজিক নানান লজ্জার ভয়ে মা-বাবা তাদের কন্যা সন্তান হলে জীবন্ত কবর দিয়ে দিত। 

সমাজে এতটাই জুলুম এবং নিপীড়ন বেড়ে গিয়েছিল যে তাদের কন্যা সন্তান হলে নানানভাবে তাদেরকে অসম্মান করা হতো। নারীদেরকে এমনভাবে গণ্য করা হতো যেন তারা মানুষই নয়।

নারীর অধিকার আদায়

পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে পুরুষের সঙ্গে নারীদেরও সম্পত্তির উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করা হয়েছে।

একইভাবে মায়েদের, স্ত্রীদের, কন্যাদের, স্বামীদের সম্পত্তির এবং বিশেষ অবস্থায় বোনদের-ভাইদের সম্পত্তির উত্তরাধিকার সাব্যস্ত করা হয়েছে।

একসময় ওয়াইস করনী (রা.) হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর কাছে খবর পাঠালেন হে আল্লাহর রাসূল আপনার সঙ্গে আমার দেখা করার খুব ইচ্ছে রয়েছে, কিন্তু আমার মা খুব অসুস্থ,  এখন আমি কি করতে পারি?

হযরত মুহাম্মদ (সা.) উত্তর পাঠালেন, আপনার আমার কাছে আসতে হবে না। 

আমার সঙ্গে সাক্ষাতের চেয়ে নিজের মায়ের সেবা করা বেশি জরুরি।

তিনি মায়ের সেবা করার কারণে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা।) এর যুগে থেকেও তার সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেনি।   

রাসূল (সা.) বলেন- যে ব্যক্তির তিনটি কন্যাসন্তান আছে যাদের সে লালন পালন করে এবং তাদের সঙ্গে সদয় আচরণ করে, তার জন্য অবশ্যই জান্নাত ওয়াজিব।

সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি দুটি মেয়ে থাকে? নবীজি বললেন, দুটি থাকলেও (বুখারি : ২৪৮১)।

আরও পড়ুনঃ

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্ম কি?

ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন এর অর্থ

পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানুষ কে FAQS

পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানুষ কে?

সর্ব কালের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানুষ হলেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)।

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) কত খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেছিলেন?

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল মাসে আরবে মা আমিনার কোলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) কাদের জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠিত করেন?

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) নারিদের জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠিত করেন।

উপসংহার

আমাদের সকলের প্রিয় নবী  হযরত মুহাম্মদ (সা.) চিরকাল পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত থাকবেন।

তার মতো মানুষ কখনো তৈরি হয়নি আর হবেও না। তিনি আমাদেরকে সুপথে চলার নির্দেশ দিয়েছেন।

তার দেখানো পথ অনুসরণ করে আমরা যদি আমাদের জীবন কাটাতে পারি তাহলে আমরা আখেরাতে ভালো কিছু পাবো।

আমাদের প্রিয়নবী কখনোই তার নিজের কথা চিন্তা করেননি সব সময় তার উম্মতদের কথা তার মাথায় ছিল। 

অর্থাৎ সব সময় তিনি আমাদের ভালো-মন্দ নিয়ে চিন্তা করতেন।

প্রিয় পাঠক আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানুষকে সে সম্পর্কে আপনারা জেনেছেন। আশা করছি আজকের এই আর্টিকেলটি আপনাদের ভাল লেগেছে।

আমরা সকলেই চেষ্টা করব আমাদের প্রিয় নবীর পথ অনুসরণ করে চলতে।

আপনাদের যদি এ বিষয়ে কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন।

 প্রিয় পাঠকগণ আপনারা যদি অনলাইন থেকে ঘরে বসে টাকা ইনকাম করতে চান এবং নানান ইসলামিক ও শিক্ষামূলক পোস্ট সম্পর্কে জানতে চাই তাহলে অবশ্যই আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। 

অনলাইন থেকে আপনি কিভাবে টাকা আয় করবেন এবং আপনার ক্যারিয়ার কিভাবে অনলাইনের মাধ্যমে করবেন সে সকল বিষয়ে আমাদের ওয়েবসাইটে ইতিমধ্যে অনেকগুলো আর্টিকেল প্রদান করা হয়েছে।

আপনারা চাইলে সেগুলো পড়ে আপনাদের কিভাবে টাকা উৎস পাওয়া যায় তা বেছে নিতে পারেন। 

আমাদের ওয়েব সম্পর্কিত সকল তথ্য পেতে চোখ রাখুন আমাদের ফেসবুক পেজটি

ধন্যবাদ।

Leave a Comment

fifteen + 15 =