মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সামনে এসেছে। বিকাশ, নগদ ও রকেটের সার্ভিস চার্জ নিয়ে হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেছেন। গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ও স্বেচ্ছাচারী সার্ভিস চার্জ আদায় কেন অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং আইনবিরোধী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন আদালত।
বর্তমানে দেশের লাখো মানুষ প্রতিদিন অর্থ লেনদেনে বিকাশ, নগদ ও রকেট ব্যবহার করেন। তাই বিকাশ নগদ রকেট সার্ভিস চার্জ নিয়ে আদালতের এই পদক্ষেপ সাধারণ গ্রাহকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে সার্ভিস চার্জ নির্ধারণে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
রবিবার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। পাশাপাশি গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পৃথক মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আদালত। সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বিকাশ নগদ রকেট সার্ভিস চার্জ নিয়ে কী বলেছে হাইকোর্ট
হাইকোর্ট জানতে চেয়েছেন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানগুলোর অতিরিক্ত ও স্বেচ্ছাচারী সার্ভিস চার্জ আদায় কেন অবৈধ ও আইনবিরোধী ঘোষণা করা হবে না।
একই সঙ্গে আদালত জানতে চেয়েছেন, গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় সার্ভিস চার্জ নির্ধারণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর নীতিমালা নিশ্চিত করতে কেন একটি স্বতন্ত্র মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস আইন প্রণয়ন করা হবে না।
আরও পড়ুনঃ যাত্রী টানাটানির দিন কি শেষ, রাজধানীতে আসছে নতুন বাস রুট ব্যবস্থা
গ্রাহকদের জন্য কী ধরনের নির্দেশনা চেয়েছেন আদালত
রুলে দরিদ্র ও ব্যাংকিং সেবাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তিসঙ্গত, ন্যায্য এবং সাশ্রয়ী সার্ভিস চার্জ নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।
এর মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার খরচ আরও গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে আনার বিষয়ে ভবিষ্যতে নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন আইন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুনঃ ফেসবুকে এবার ফ্রিতেই ভেরিফায়েড ব্যাজ, কিভাবে পাবেন
রিট আবেদন ও পরবর্তী কার্যক্রম
জনস্বার্থে এই রিট আবেদন দায়ের করেন অ্যাডভোকেট ওবায়দুল্লাহ আল মামুন সাকিব। তার আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেন।
আদালত অর্থসচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের জবাব পাওয়ার পর আদালত পরবর্তী শুনানির মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।
আরও পড়ুনঃ কন্টেন্ট নির্মাতাদের জন্য বড় দুঃসংবাদ দিল ইউটিউব
গ্রাহকদের জন্য এই রুলের গুরুত্ব
বাংলাদেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এখন দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। টাকা পাঠানো, বিল পরিশোধ, মোবাইল রিচার্জ এবং বিভিন্ন আর্থিক সেবায় কোটি কোটি মানুষ এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন।
এ অবস্থায় সার্ভিস চার্জ নির্ধারণে স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে সাধারণ গ্রাহক সরাসরি উপকৃত হতে পারেন। তবে হাইকোর্ট এখনো কোনো চূড়ান্ত রায় দেননি। এটি একটি রুল, যার জবাব পাওয়ার পর আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
আরও পড়ুনঃ নতুন সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ৩৫ দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


