বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুমে বন্যা একটি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আগাম প্রস্তুতি থাকলে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই পরিবার ও নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগে থেকেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
এই লেখায় বন্যা মোকাবেলায় করণীয়, বন্যার আগের প্রস্তুতি, জরুরি খাবার, কাগজপত্র সংরক্ষণ, আশ্রয়কেন্দ্র সম্পর্কে জানা এবং জরুরি সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
Content Summary
বন্যার আগের প্রস্তুতি
বন্যার পূর্বাভাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করা উচিত। শেষ মুহূর্তের অপেক্ষা না করে আগে থেকেই পরিবারকে নিরাপদ রাখার পরিকল্পনা করুন।
বাড়ির সবাইকে জরুরি পরিস্থিতিতে কী করতে হবে তা জানিয়ে রাখুন। শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ সদস্যদের জন্য আলাদা প্রস্তুতি রাখুন।
শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করা
বন্যার সময় বাজার বা দোকানে যাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে। তাই অন্তত কয়েক দিনের জন্য শুকনো খাবার মজুত রাখুন।
সংগ্রহে রাখতে পারেন
- চিঁড়া
- মুড়ি
- বিস্কুট
- গুড়
- দুধের গুঁড়া
- শিশু খাদ্য
- পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানীয় পানি
সম্ভব হলে পানিশোধক ট্যাবলেট বা পানি ফুটিয়ে সংরক্ষণ করুন।
আরও পড়ুনঃ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য রেশন সুবিধা, ১২ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মীরা
ভিজবে না এমন ব্যাগে জরুরি কাগজপত্র রাখা
জরুরি কাগজপত্র সবসময় জলরোধী ব্যাগে সংরক্ষণ করুন।
যেসব কাগজপত্র রাখবেন
- জাতীয় পরিচয়পত্র
- জন্ম নিবন্ধন
- পাসপোর্ট
- জমির কাগজ
- ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ নথি
- শিক্ষা সনদ
- বীমা সংক্রান্ত কাগজপত্র
প্রয়োজন হলে এসব কাগজের ডিজিটাল কপিও মোবাইল বা ক্লাউডে সংরক্ষণ করুন।
কাছাকাছি আশ্রয়কেন্দ্র কোথায় জেনে রাখা
আপনার এলাকার নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্র কোথায় রয়েছে তা আগে থেকেই জেনে রাখুন।
প্রয়োজনে
- ইউনিয়ন পরিষদ
- উপজেলা প্রশাসন
- স্থানীয় জনপ্রতিনিধি
- স্বেচ্ছাসেবক দল
এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন।
পরিবারের সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে দিন।
আরও পড়ুনঃ ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যে সকারের নতুন উদ্যোগ
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের লাইন বন্ধ করা শিখে রাখা
বন্যার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া এবং গ্যাস দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বাড়ি ছাড়ার আগে
- বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ করুন।
- গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করুন।
- যদি নিরাপদ না হয় তাহলে নিজে ঝুঁকি না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিন।
ফোন পাওয়ার ব্যাংক ও টর্চলাইট চার্জ রাখা
বন্যার সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। তাই আগে থেকেই মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ চার্জ করুন।
সঙ্গে রাখুন
- পাওয়ার ব্যাংক
- টর্চলাইট
- অতিরিক্ত ব্যাটারি
- জরুরি নম্বর সংরক্ষিত মোবাইল
ব্যাটারিচালিত রেডিও থাকলে সেটিও প্রস্তুত রাখুন যাতে সরকারি সতর্কবার্তা শোনা যায়।
আরও পড়ুনঃ রাজধানীর যানজট কমাতে কাঁচপুরে যাচ্ছে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল
বন্যার সময় আরও যেসব বিষয় মনে রাখবেন
- অপ্রয়োজনীয়ভাবে বন্যার পানিতে নামবেন না।
- বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার থেকে দূরে থাকুন।
- শিশুদের সবসময় নজরে রাখুন।
- সাপ বা অন্যান্য প্রাণীর উপস্থিতির বিষয়ে সতর্ক থাকুন।
- সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
- গুজব বা ভুয়া তথ্য বিশ্বাস করবেন না।
জরুরি ব্যাগে যা যা রাখবেন
- শুকনো খাবার
- বিশুদ্ধ পানি
- প্রয়োজনীয় ওষুধ
- প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স
- টর্চলাইট
- পাওয়ার ব্যাংক
- মোবাইল চার্জার
- জরুরি কাগজপত্র
- অতিরিক্ত পোশাক
- শিশুর প্রয়োজনীয় সামগ্রী
আরও পড়ুনঃ রাজধানীর আরও ২০০ স্থানে বসছে এআই ট্রাফিক ক্যামেরা, যেসব এলাকায় আগে চালু হবে
প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, জরুরি কাগজপত্র, মোবাইল, পাওয়ার ব্যাংক এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রস্তুত রাখতে হবে।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমাতে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ রাখা উচিত।
জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপদ স্থানে যেতে আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থান জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব কাগজপত্র জলরোধী ব্যাগ বা প্লাস্টিক ফোল্ডারে সংরক্ষণ করুন এবং সম্ভব হলে ডিজিটাল কপি রাখুন।
চিঁড়া, মুড়ি, বিস্কুট, গুড়, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য এবং পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি সংরক্ষণ করা উচিত।
উপসংহার
বন্যা একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও আগাম প্রস্তুতির মাধ্যমে জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
তাই বন্যা মোকাবেলায় করণীয় বিষয়গুলো আগে থেকেই জেনে রাখুন এবং পরিবারের সবাইকে সচেতন করুন। সঠিক প্রস্তুতিই নিরাপদ থাকার সবচেয়ে বড় উপায়।
আরও পড়ুনঃ ১৫ বছর পূর্ণ হলেই বাধ্যতামূলক হচ্ছে এনআইডি নবায়ন,
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


