বাংলাদেশে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারকারীদের জন্য জুলাই মাসে এসেছে স্বস্তির খবর। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন নতুন করে এলপিজির দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। ফলে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
অনেকেই জানতে চাইছেন কেন কমেছে এলপিজির দাম, বর্তমানে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম কত, কীভাবে এই দাম নির্ধারণ করা হয় এবং কেন বাংলাদেশে এলপিজির দাম প্রতিবেশী দেশের তুলনায় বেশি।
এই পোস্টে এলপিজির দাম কমার প্রকৃত কারণ, বর্তমান মূল্য, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব এবং বিইআরসি কীভাবে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে তা সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
যে কারণে কমেছে এলপিজির দাম?
জুলাই মাসে এলপিজির দাম কমানোর প্রধান কারণ হলো আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া।
বাংলাদেশে ব্যবহৃত এলপিজির অধিকাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে সৌদি আরামকো প্রোপেন ও বিউটেনের আন্তর্জাতিক মূল্য প্রকাশ করে। এই মূল্যকে সৌদি সিপি বলা হয়। জুন মাসে যেখানে গড় সৌদি সিপি ছিল প্রতি মেট্রিক টন ৬৮০ মার্কিন ডলার, সেখানে জুলাই মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৯১ মার্কিন ডলারে। অর্থাৎ মাত্র এক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে ৮৯ মার্কিন ডলার কমেছে।
এই আন্তর্জাতিক মূল্য কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারে। ফলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন জুলাই মাসের জন্য নতুন মূল্য নির্ধারণ করে এলপিজির দাম কমিয়েছে।
বর্তমানে ১২ কেজি এলপিজির সিলিন্ডারের দাম কত টাকা
জুলাই ২০২৬ মাসের জন্য দেশের বেসরকারি খাতের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫২৮ টাকা।
এর আগে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৮৮৫ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে দাম কমেছে ৩৫৭ টাকা।
এছাড়া
প্রতি কেজিতে মূল্য কমেছে প্রায় ২৯ টাকা ৭৬ পয়সা
অটোগ্যাসের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ৭০ টাকা ৮০ পয়সা
সরকারি ১২ দশমিক ৫ কেজি এলপিজির মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা
এটি সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজি ব্যবহারকারীদের জন্য অন্যতম বড় মূল্যহ্রাস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভারত পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশে এলপিজির দাম বেশি কেন?
অনেকেই প্রশ্ন করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও বাংলাদেশে এলপিজির দাম ভারত বা পাকিস্তানের তুলনায় বেশি কেন।
এর পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।
- বাংলাদেশ সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওপর নির্ভর করতে হয়।
- আমদানি ব্যয় এবং সমুদ্রপথে পরিবহন খরচ যুক্ত হয়।
- ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি পেলে এলপিজির আমদানি ব্যয়ও বেড়ে যায়।
- বন্দর চার্জ, সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ, পরিবহন ও বিপণন ব্যয় যুক্ত হয়।
- সরকার নির্ধারিত ভ্যাট ও অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয়ও চূড়ান্ত দামে প্রভাব ফেলে।
এই কারণগুলো মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও বাংলাদেশে খুচরা মূল্য তুলনামূলক বেশি থাকে।
আরও পড়ুনঃ টেলিটক পেশাজীবী সিমের দাম কত? কলরেট, বান্ডল ও ইন্টারনেট প্যাক
জুন মাসের এলপিজির দাম
জুন মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ছিল ১ হাজার ৮৮৫ টাকা।
তার আগে এপ্রিল মাসে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এলপিজির দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এপ্রিল মাসে দুই দফায় দাম বেড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের মূল্য দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১ হাজার ৯৪০ টাকা।
পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় জুন মাসে প্রথম দফায় এবং জুলাই মাসে আরও বড় পরিসরে মূল্য কমানো হয়েছে।
এলপিজির দাম কিভাবে নির্ধারণ করা হয়
বাংলাদেশে ২০২১ সালের এপ্রিল মাস থেকে প্রতি মাসে এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।
দাম নির্ধারণের সময় কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়।
প্রথমে সৌদি আরামকোর প্রকাশিত প্রোপেন ও বিউটেনের আন্তর্জাতিক মূল্য বিবেচনা করা হয়।
এরপর যুক্ত করা হয়
- ডলারের বিনিময় হার
- আমদানি ব্যয়
- আন্তর্জাতিক পরিবহন খরচ
- বন্দর চার্জ
- বোতলজাতকরণ ব্যয়
- সংরক্ষণ ব্যয়
- বিপণন ব্যয়
- ডিলার কমিশন
এরপর এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে বিইআরসি প্রতি মাসের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ঘোষণা করে।
জুলাই মাসে এলপিজি ব্যবহারকারীদের জন্য কী সুবিধা
বর্তমান মূল্য কমে যাওয়ায় পরিবার ও ব্যবসায়িক ব্যবহারকারীরা উল্লেখযোগ্যভাবে কম খরচে এলপিজি কিনতে পারবেন।
অটোগ্যাস ব্যবহারকারীরাও প্রতি লিটারে কম দামে গ্যাস পাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কম থাকলে আগামী মাসগুলোতেও মূল্য স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে পুনরায় মূল্য বৃদ্ধি পেলে দেশীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
এলপিজির দাম কমার ফলে কারা সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন
এলপিজির নতুন মূল্য সবচেয়ে বেশি সুবিধা দেবে
- গৃহস্থালি ব্যবহারকারী পরিবার
- হোটেল ও রেস্টুরেন্ট
- ক্যাটারিং ব্যবসা
- ছোট শিল্প প্রতিষ্ঠান
- অটোগ্যাস ব্যবহারকারী যানবাহনের মালিক
- গ্রামীণ অঞ্চলের এলপিজি নির্ভর পরিবার
এতে মাসিক জ্বালানি ব্যয় কিছুটা কমবে এবং সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপও হ্রাস পাবে।
আরও পড়ুনঃ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য রেশন সুবিধা, ১২ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মীরা
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস কমে যাওয়ায় বাংলাদেশে জুলাই মাসে এলপিজির দাম কমানো হয়েছে।
বর্তমানে বেসরকারি খাতের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৫২৮ টাকা।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে।
না। সরকারি ১২ দশমিক ৫ কেজি এলপিজির মূল্য ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা অপরিবর্তিত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি সিপি কমতে থাকলে ভবিষ্যতেও এলপিজির দাম আরও কমতে পারে। তবে এটি পুরোপুরি বিশ্ববাজারের ওপর নির্ভরশীল।
উপসংহার
জুলাই মাসে এলপিজির দাম কমার মূল কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইসের উল্লেখযোগ্য পতন। এর ফলে বাংলাদেশে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ৩৫৭ টাকা কমেছে।
যেহেতু বাংলাদেশ সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর, তাই আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য, ডলারের বিনিময় হার এবং আমদানি ব্যয়ের ওপর ভবিষ্যতের দাম নির্ভর করবে।
নিয়মিত বিইআরসির মাসিক মূল্য ঘোষণা অনুসরণ করলে এলপিজির সর্বশেষ দাম সম্পর্কে সহজেই জানা যাবে।
আরও পড়ুনঃ টেলিটকের নতুন পেশাজীবী প্যাকেজ চালু, মাত্র ৪৫ পয়সায় কল
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


