আমার বন্ধু শেখ রাসেল রচনা | শেখ রাসেলের জীবনী

প্রিয় পাঠকগণ আমার বন্ধু শেখ রাসেল রচনা সম্পর্কে পড়ার জন্য আপনারা অনেকে গুগলের মাধ্যমে সার্চ করেছিলেন। তাই আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমি আপনাদেরকে প্রদান করব শেখ রাসেল রচনা।

এবং এর পাশাপাশি শেখ রাসেল সম্পর্কিত সকল তথ্য আপনাদেরকে জানানোর চেষ্টা করব। শেখ রাসেল নামটি আমরা সকলেই শুনেছি এবং তার সম্পর্কে মোটামুটি আমরা সকলেই জানি।

তবে আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমি আপনাদেরকে বিস্তারিতভাবে তার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব।

শেখ রাসেল রচনা

শেখ রাসেল রচনা
শেখ রাসেল রচনা

প্রিয় পাঠকগণ আপনাদের উদ্দেশ্যে নিচে শেখ রাসেল রচনাটি উল্লেখ করা হলো-

ভূমিকা 

বাঙালির হাজার বছরের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠপুত্র হচ্ছেন শেখ রাসেল।

এই ১১ বছরের একটি ফুলকে ১৯৭৫ সালে পরিবারের সাথেই হত্যা করা হয়।

যদি তিনি আজ পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকতেন তাহলে হয়তো বাঙালি জাতির জন্য ভালো কিছুর অবদান কিনে রাখতে পারতেন।

কারণ তার জীবনের কয়েকটি বছরে পুরো বাঙালি জাতিকে এটির প্রমাণ প্রধান করেছে।

তার জীবনের কয়েকটি বছর বাঙালি ইতিহাসকে এতটাই প্রভাবিত করেছে যে,  তিনি শুধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পুত্রই নন বরং প্রতিটি বাঙালির বন্ধু হিসেবে পরিচিত। 

শেখ রাসেলের জন্ম 

আমার বন্ধু শেখ রাসেল জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৬৬৪ সালের ১৮ই অক্টোবর।

আমাদের দেশে যখন হেমন্তের ঘ্রানে ভরে আছে চারদিক।

গ্রাম্য সভ্যতার নানা অনিয়মে সেসময় কৃষকরা ঘরে তুলেছিলেন নতুন নতুন ফসল।

এমনই আনন্দমুখর একটি পরিবেশে বঙ্গবন্ধুর নিজস্ব বাড়ি ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারে মায়ের মুখ আলোকিত করে কলে আসেন আমার বন্ধু শেখ রাসেল।

বর্তমান দেশরত্ন মাননীয় শেখ হাসিনা যে ঘরে থাকতেন শেখ রাসেল সেই ঘরটিতেই হয়েছিল।

তার জন্মের কিছু সময় যেতে না যেতেই বড় বোন শেখ হাসিনা তার ভেজা মাতা ওড়না দিয়ে শুকিয়ে দেন।

জন্মের পর শেখ রাসেল ছিলেন স্বাস্থ্যবান এবং সুন্দর।

রাসেলের জন্মতে শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর পরিবারের নয় বরং পুরো বাঙালি জাতি আনন্দে ভেসেছে। 

আরও পড়ুনঃ

বঙ্গবন্ধু কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?

বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে ১০ টি বাক্য

শেখ রাসেলের নামকরণ | আমার বন্ধু শেখ রাসেল রচনা

সকলের প্রিয় শেখ রাসেলের নামকরণের পিছনে রয়েছে একটি ইতিহাস।

বঙ্গবন্ধু বরাবরই ছিলেন শান্তিপ্রিয়, অবস্থানের পক্ষে এবং যুদ্ধবিরোধী একজন মানুষ।

যার কারণে তিনি ছিলেন বিশ্ব বিখ্যাত নোবেল বিজয়ী দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল এর ভক্ত।

এবং বঙ্গবন্ধুর সেই বিখ্যাত লোকের সাথে মিল রেখে তার কনিষ্ঠ পুত্রের নামকরণ করেন।

শেখ রাসেলের ছেলেবেলা 

শেখ রাসেল ছোটবেলা থেকেই ছিলেন খুব শান্তশিষ্ট এবং সুন্দর মনের একজন মানুষ।

জন্মের পর থেকে তিনি তেমন বেশি বাবার সঙ্গ পাননি।

রাজনৈতিক নানান ব্যস্ততায় এবং দেশের পরিস্থিতির নানান উত্তাপে বঙ্গবন্ধু ব্যস্ত থাকায় শেখ রাসেল তার বাবাকে কাছে পাননি।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উৎসব হওয়ার পর পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে।

যদিও সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধুকে ঢাকা কারাগারে রাখা হয়েছিল কিন্তু পরবর্তীতে তাকে পাকিস্তানের স্থানান্তর করা হয়।

শেখ রাসেল পড়াশোনা শুরু করেন ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজে।

যখন ঘাতকরা তাকে মাত্র ১১ বছর বয়সে নির্মমভাবে হত্যা করে সেসময় তিনি মাত্র চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন।

নির্মম হত্যাকান্ড | শেখ রাসেলের জীবনী 

১৫ আগস্ট ১৯৭৫ এর কথা আমাদের সকলেরই কমবেশি জানা আছে।

সেটি ছিল একটি অভিশপ্ত রাত এবং বাঙালি জাতির জন্য কলঙ্কিত একটি রাত।

সেই অভিশপ্ত রাতে বঙ্গবন্ধু সহ তার পুরো পরিবারকে একদল বিপথগামী সেনা সদস্যরা নির্মমভাবে হত্যা করে।

সেদিনের সেই ঘটনা বাঙালি জাতির কখনোই ভুলতে পারবেনা।

সে সময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ছোট বোন শেখ রেহানা বিদেশে পড়াশোনার জন্য গিয়েছিলেন।

শেখ রাসেলসহ বঙ্গবন্ধুর পুরো পরিবার সেদিন ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

সেসময় বিপথগামী সেনা সদস্যরা বাড়ির চারিদিক দিয়ে ঘিরে ফেলে এবং পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু সহ সকল কে হত্যা করেন।

সেই হত্যাযজ্ঞের মধ্যে শেখ রাসেল কেও তারা বাদ দেয়নি।

আরও পড়ুনঃ

বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিভাগের ছাত্র ছিলেন?

বঙ্গবন্ধুর জীবনী সম্পর্কে বক্তৃতা

আমার বন্ধু শেখ রাসেল | শেখ রাসেল রচনা

আমার বন্ধু শেখ রাসেল
আমার বন্ধু শেখ রাসেল

এখন আপনাদের মাঝে প্রশ্ন জাগতে পারে যে শেখ রাসেল কেন আমাদের বন্ধু?

যদি এ বিষয়ে জানতে হয় তাহলে ফিরে যেতে হবে শেখ রাসেলের ছেলেবেলার জীবনে।

তার ছেলেবেলা দিনগুলো সম্পর্কে যতটুকু জানা সম্ভব হয়েছে সেটি হচ্ছে তিনি ছোটবেলায় ছিলেন খুবই শান্ত শিষ্ট এবং সুন্দর প্রকৃতির।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসায় টমি নামের একটি কুকুর ছিল যার সাথে শেখ রাসেল সারাক্ষণ খেলতেন।

এরকমই খেলার সময় কুকুরটি কোন কারনে জোরে ডেকে ওঠে এবং শেখ রাসেল মনে করেন কুকুরটি তাকে বকেছে।

তিনি সরাসরি তার আফা শেখ রেহানার কাছে জোরে যান এবং কান্না করতে থাকেন।

এছাড়াও আরও জানা গিয়েছে যে, শেখ রাসেলের শখ ছিল মাছ ধরা এবং তিনি মাছ ধরে আবার সেটিকে ছেড়ে দিতেন।

বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় যখন জন্মগ্রহণ করেন সেই সময় রাসেল সারাক্ষণ তার সাথে খেলতেন।

শেখ রাসেল ছিলেন খুবই দুরন্ত এবং তার দুরন্তপনার সঙ্গী ছিল একটি বাইসাইকেল। 

তার ছোটবেলার এই সকল স্মৃতিগুলো আমাদেরকে বারবার ফিরিয়ে নিয়ে যায় সেই শৈশব কালে।

তার এই গল্পের মাঝে আমরা খুঁজে পাই নিজেদেরকে।

পড়াশোনা খেলাধুলা এবং দুরন্তপনার নিয়ে রাসেল আমাদের সকলের কাছেই হয়ে ওঠে একজন আদর্শ শৈশব।

রাসেলের মাঝে খুব ছোটবেলা থেকে ফুটে উঠেছিল বঙ্গবন্ধুর আচরণ এবং নৈতিকতা।

তার ছোটবেলা থেকেই পশুপাখি এবং মানুষের জন্য অগাধ ভালোবাসা ছিল।

সবার সাথে সুন্দরভাবে কথা বলা এবং সবার কাছে গিয়ে সম্মান প্রদর্শন করা এই সকল বিষয়গুলো বঙ্গবন্ধুর আচরণ কে তার মাঝে ফুটিয়ে তোলে। 

যার কারণে সব সময় শেখ রাসেল আমাদের একজন বন্ধু।

শেখ রাসেলের জীবনী | শেখ রাসেল রচনা

শেখ রাসেলের জীবনী
শেখ রাসেলের জীবনী

ইতিমধ্যে আমরা আলোচনার মধ্যে শেখ রাসেলের জীবনী সম্পর্কে বিস্তারিত আপনাদের কে জানিয়েছি। 

তবুও সে এমন একজন মানুষ যার সম্পর্কে কখনোই বলে শেষ করা। 

আজ যদি শেখ রাসেল জীবিত থাকতেন তাহলে বাংলাদেশের জন্য তিনি একজন আদর্শ নেতা হিসেবে নেতৃত্ব প্রদান করতেন।

আমরা আরও একজন বঙ্গবন্ধুকে পেয়ে যেতাম।

কিন্তু সেদিনের সেই অমানবিক হত্যাকাণ্ডের কারণে আজ বাঙালি জাতির কাছে নতুন একজন বঙ্গবন্ধু নেই।

নেই বঙ্গবন্ধুর দেখানো সেই স্বপ্ন, বঙ্গবন্ধুর মতো সেই কঠিন সুরে বক্তব্য।

ছোটবেলা থেকে শেখ রাসেল বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে বড় হচ্ছিলেন। যদিও বঙ্গবন্ধুকে তিনি খুব একটা বেশি তার কাছে পাননি। 

রাজনৈতিক বিভিন্ন চাপের কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ রাসেলের কাছাকাছি থাকতে পারেননি।

আমরা শেখ রাসেলসহ বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সকল সদস্যদের জানাই গভীর শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা।

আরও পড়ুনঃ

বঙ্গবন্ধু দ্বীপ কোথায় অবস্থিত?

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ কোথায় অবস্থিত?

আমার বন্ধু শেখ রাসেল রচনা FAQS

শেখ রাসেল কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?

শেখ রাসেল ১৬৬৪ সালের ১৮ই অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন।

হত্যার সময় শেখ রাসেল কোন শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন?

হত্যার সময় শেখ রাসেল চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন।

উপসংহার 

প্রিয় পাঠকগণ আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আমার বন্ধু শেখ রাসেল রচনা আপনাদেরকে প্রদান করা হয়েছে।

আশা করছি আজকের এই আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লাগবে এবং আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনারা শেখ রাসেলের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন।

মূলত বাঙালি জাতির জন্য এটি সবচেয়ে বেশি দুঃখজনক যে শেখ রাসেল আজ আমাদের মাঝে উপস্থিত নেই। 

তবে আমরা সকলে তার জন্য দোয়া করব এর পাশাপাশি তার প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা থাকবে।

আপনাদের যদি শেখ রাসেল সম্পর্কিত আরো কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকে তাহলে সেটি আমাদেরকে কমেন্টের মাধ্যমে জানান।

অনলাইন থেকে ঘরে বসে টাকা আয় সংক্রান্ত আর্টিকেল গুলো পড়তে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।

আমরা সম্পূর্ণ গাইড লাইন সহ অনলাইন থেকে কিভাবে আয় করতে হয় সে সম্পর্কে আর্টিকেল তৈরি করেছি।

আমাদের ওয়েবসাইট সংক্রান্ত সকল আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে জয়েন করুন। 

Leave a Comment

one × two =