প্রত্যয়ন পত্র কিভাবে লিখবো | প্রত্যয়ন পত্র লেখার সম্পূর্ণ নিয়ম জানুন

প্রত্যয়ন পত্র কিভাবে লিখবো এই সম্পর্কে আজকে জানাবো আপনাদের। প্রত্যয়ন পত্র নাম শুনেন নাই এমন কেউ আছেন? উত্তরঃ না। বিগত সবসময়েই প্রত্যয়ন পত্রের ধারাবাহিকতা চলে আসছে। প্রত্যয়ন পত্র মানুষের জীবনে অত্যন্ত দরকারি বিষয়ের একটি। প্রত্যয়ন পত্র শুধু ছাত্র বা শুধু ব্যবসায়ীদেরই লাগে বিষয়টা একদমই এমনটা নয়। 

জীবনে চলার পথে বিভিন্ন সময়ে প্রত্যয়ন পত্রের দরকার হওয়া সত্যেও প্রত্যয়ন পত্র চেয়ে আবেদন লেখার নিয়ম বা প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম আমাদের অনেকেরই জানা নেই। আজকে প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম জানবো। চলুন, সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ে জানা যাক, প্রত্যয়ন পত্র কিভাবে লিখবো… 

বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভেদে ভিন্ন রকমের প্রত্যয়ন পত্র প্রচলিত হয়ে আসছে। অন্যদিকে দরকারের ভিন্নতা অনুযায়ী প্রত্যয়ন পত্র বিভিন্ন রকমের হয়। আজকের পোস্টে প্রত্যয়ন পত্র নিয়ে এমন ভাবে আলোচনা করা হবে, যেকেউ এই পোস্টটি পড়ার পড়ে যেকোনো ধরনের প্রত্যয়ন পত্র সম্পর্কে বুঝতে পারবে। সকল প্রকার প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম বোঝা যাবে। 

প্রত্যয়ন পত্রের মধ্যে অন্যতম যেসব ক্ষেত্রে প্রত্যয়নের ব্যবহার হয় তা হলোঃ স্কুল থেকে প্রত্যয়ন পত্র, কলেজ থেকে প্রত্যয়ন পত্র, বিশ্ববিদ্যালয় প্রত্যয়ন পত্র, চাকরিতে প্রত্যয়ন পত্র, বিভিন্ন কোম্পানির প্রত্যয়ন পত্র ইত্যাদি।

নিচের সম্পূর্ণ আলোচনা থেকে এর সব ধরনের প্রত্যয়ন পত্র কিভাবে লিখবো তা   প্রত্যয়ন পত্র লেখার সম্পূর্ণ নিয়ম সম্পর্কে জানা যাবে। 

প্রত্যয়ন পত্র চেয়ে আবেদন লেখার নিয়ম জানার আগে চলুন অল্পের মধ্যে জেনে নেওয়া যাক প্রত্যয়ন পত্র কি? 

প্রত্যয়ন পত্র কি?

মুলত কোনো বিষয়ে অনাপত্তি সত্যায়ন করাকেই প্রত্যয়ন পত্র বলে। আরও সহজ ভাবে বলতে গেলে বলা যায়, যেকোনো একটি বিষয়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আপত্তি না থাকাই হচ্ছে প্রত্যয়ন পত্র প্রদানের উদ্দেশ্য। আবার কোনো কোনো সময় এর ঠিক উলটো বা বিপরীত দিক বোঝায়। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে উক্ত ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতাও বোঝায়।  

প্রত্যয়ন পত্র কিভাবে লিখবো ? – প্রশংসা পত্র কিভাবে লিখবো?

আবেদন পত্র/ প্রশংসা পত্র/ প্রত্যয়ন পত্র কিভাবে লিখবো

একটি প্রত্যয়ন পত্র তখনই সম্পূর্ণ আত্মপ্রকাশের যোগ্য হবে, যখন নিম্নোক্ত বিষয়গুলি সাবলীল ভাবে উপস্থিত থাকবে। উক্ত বিষয়গুলি হলোঃ 

১) প্রত্যয়ন পত্র সবসময় নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, অথবা সংগঠনের নিরধারিত প্যাডে প্রিন্ট অথবা লেখা কপি হতে হবে। 

২) প্রত্যয়ন পত্রের শিরোনামে “প্রত্যয়ন পত্র” লেখাটি শিরোনাম হিসেবে থাকতেই হবে। 

৩) প্রত্যয়ন পত্র প্রদানকারী অর্থাৎ যে ব্যক্তির প্রত্যয়ন পত্র নেওয়া হবে তার নাম, ঠিকানা (পূর্ণ), স্পষ্ট করে উল্লেখ থাকতে হবে। 

৪) প্রত্যয়ন পত্রটি দুইটি অংশে ভাগ হয়ে থাকে, যার মাধ্যমে মনের সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ হয়ে থাকে।

৫) প্রত্যয়ন পত্রে স্বাক্ষর করা ব্যক্তির নাম এবং সম্পৃক্ততা উল্লেখ করা থাকতে হবে। 

৬) এছাড়াও প্রত্যয়ন পত্র প্রদানকারী ব্যক্তির সীল, সম্পৃক্ত উক্ত কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের সিলমোহর স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। 

প্রত্যয়ন পত্র নমুনা দেখার আগে অবশ্যই এই অব্ধি উপরোক্ত নিয়ম সহ অবশ্যই জানতে এবং বুঝতে হবে। 

চলুন জেনে নেওয়া যাক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়ন পত্র লেখার নমুনা নিয়ম- 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়ন পত্র মূলত দরকার হয় বিভিন্ন দরকারে। তার মধ্যে, এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনার জন্য অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পদার্পণ করার জন্য আগের শিক্ষাপ্রতিস্থান থেকে প্রত্যয়ন পত্র সংগ্রহ করতে হয়।  

যারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়ন পত্র লেখা শিখতে চান বা লিখতে জানেন না তাদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নের প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম নমুনা আকারে নিচে তুলে ধরা হলোঃ 

                                                 প্রত্যয়ন পত্র 

                                        সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম 

তারিখ:(দিন .মাস. বছর)

এই মর্মে প্রত্যয়ন করা যাচ্ছে যে, নাম; শেখ মোস্তাফিজ, পিতা; শেখ আব্দুল জলিল, মাতা; নাসরিন সুলতানা, আমার প্রতিষ্ঠানের একজন আদর্শ ছাত্র হিসেবে বিদ্যা অর্জন করেছেন।

সে আমার প্রতিষ্ঠানের এর একজন নিয়মিত ছাত্র। তার অর্জিত ফলাফল সব সময়ই সন্তোষজনক এবং সাফল্যময় ছিলো। আমি তার ভবিষ্যৎ জীবনের সফলতা এবং সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করছি।

সাক্ষর: (শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের স্বাক্ষর)

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্বারা প্রতিষ্ঠান প্রধানের সিলমোহর

জানা হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম। এবার জানা যাক চাকরির ক্ষেত্রে কোম্পানির প্রত্যয়ন পত্র লেখা সম্পর্কে। 

কোম্পানির প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম 

কোনো চাকরিজীবীর প্রয়োজনে তার কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান থেকে যে প্রত্যয়ন প্রদান করা হয় তাকে কোম্পানির প্রত্যয়ন পত্র বলা হয়। এই প্রত্যয়ন পত্র নিজস্ব কোম্পানি থেকে তাদের প্যাডে লিখে বা তাইপ করে প্রদান করা হয়। 

কোনো চাকরিজীবীর পেশাগত প্রমান এবং পেশাগত সনদ হিসেবে প্রত্যয়ন পত্র ব্যবহার করে থাকে। 

কোম্পানির প্রত্যয়ন পত্র নিয়ে ধারণা হলো। এবার আসা যাক চাকরির প্রত্যয়ন পত্রের দিকে। প্রকৃত অর্থে চাকরির প্রত্যয়ন পত্র এবং কোম্পানির প্রত্যয়ন পত্র একই। 

চাকরির প্রত্যয়ন পত্র সাধারণত কোম্পানি থেকেই দেওয়া হয়ে থাকে। তাই কোম্পানির বা চাকরির প্রত্যয়ন পত্র একদম একই বিষয়।

আরও পড়ুনঃ

এবার ইংরেজিতে প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম সম্পর্কে জানা যাক।  

বাংলা এবং ইংরেজিতে প্রত্যয়ন পত্র লেখা কি এক? উত্তরঃ হ্যাঁ একদমই এক, শুধু ভাষা ছাড়া। 

বাংলা এবং ইংরেজি, মূলত দুই ভাষাতে প্রত্যয়ন পত্র একই। শুধুমাত্র বাংলায় হলে বাংলা ভাষায় লিখতে হবে।

এবং ইংরেজিতে হলে সাধারণত স্বাভাবিক সহজ ইংরেজিতে লিখতে হবে। কিন্তু বিষয় মুল বডি লেখা সবই এক থাকে। 

আপনার যে ধরনের প্রত্যয়ন পত্রের দরকারই হোক তার জন্য আপনাকে আবেদন করতে হবে।

সেক্ষেত্রে আবেদনের মধ্যে যার জন্য প্রত্যয়ন পত্র দরকার তার নাম সহ তার বাবার মায়ের নাম এবং বর্তমান ঠিকানা সম্পূর্ণ উল্লেখ করে প্রত্যয়ন পত্রের জন্য প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি প্রধান বা দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে আবেদন পত্র লিখতে হবে।

তবে, অতি পরিচিত বা বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আবেদন করার প্রয়োজন হয় না। মুখোমুখি বললেই পাওয়া যায় প্রত্যয়ন পত্র।

তখন শুধু মাত্র নিজ নাম বাবা মায়ের নাম এবং সম্পূর্ণ ঠিকানা মুখে মুখে বলে দিতে হয়। তা না হলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

আমরা এর আগে শিখেছি কিভাবে একটি আবেদন লিখতে হয়। আপনি আবেদন পত্র লেখার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আবেদন পত্র লেখার নিয়ম সম্পর্কে জেনে নিন। 

আপনি যদি নতুন কোনো পরিবেশে যান তখন সেইখানের পরিবেশ প্রথম প্রথম নতুন এবং আন ইজি লাগবেহ। ঠিক তেমনই আপনি নতুন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হহলেন বা নতুন কোনো কোম্পানিতে চাকরির জন্য গেলেন।

তখন আপনাকেও ওই প্রতিষ্ঠানের নতুন নতুন মনে হবে কেমন কেমন। 

এমতাবস্থায়, আপনাকে চিনতে বা বুঝতে আপনার পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া প্রত্যয়ন পত্র আপনাকে আপনার নতুন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা করবে।

যা আপনার উপর একটি পজেটিভ দিক হিসেবে কাজ করবে।   

এই প্রত্যয়ন পত্র থেকে আপনার নতুন প্রতিষ্ঠান আপনার মেধা, সততা, দক্ষতা সম্পর্কে প্রাথমিক অবস্থায় একটি ধারণা নিতে পারবেন।

যা থেকে আপনি পর্যায়ক্রমে আপনার সততা দক্ষতা মেধা দিয়ে আপনাকে প্রমান করার সুযোগ পাবেন।

প্রত্যয়ন পত্র কিভাবে লিখবো FAQS

প্রত্যয়ন পত্র কিভাবে লিখবো?

একে আবেদন পত্রও বলা হয়। প্রত্যয়ন পত্র লিখতে নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, অথবা সংগঠনের নিরধারিত প্যাডে প্রিন্ট অথবা লেখা কপি হতে হবে। 

প্রত্যয়ন পত্র উঠানোর জন্য কি আমাকে কোনো ফি দিতে হবে?

এটি নির্ভর করবে আপনি কোথা থেকে প্রত্যয়ন পত্র উঠাচ্ছেন বা উঠাবেন। বেসরকারি চাকুরিরত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রত্যয়ন পত্র উঠান তাহলে এমন কিছু লাগবে না বলে আমরা জান। কিন্তু সরকারি কোন সংস্থা থেকে প্রত্যয়ন পত্র উঠাতে হলে তাদের নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে। যদিও তার পরিমাণ খুব অল্প।

‘প্রত্যয়ন’ এর সাইট থেকে কি সনদের সফট কপি নামাতে পারবো?

হাঁ। জি পারবেন।

আরও পড়ুনঃ

উপসংহার

সর্বশেষে বলতে চাই, আজকে সম্পূর্ণ আর্টিকেলের মাঝে আপনাদের ধারণা দিতে চেষ্টা করেছি প্রত্যয়ন পত্র কিভাবে লিখবো – প্রত্যয়ন পত্র লেখার সম্পূর্ণ নিয়ম জানুন সম্পর্কে।

কলেজ থেকে প্রত্যয়ন পত্র চেয়ে আবেদন ও প্রত্যয়ন পত্র নমুনা pdf নয় লিখে জানাতে চেষ্টা করেছি কিভাবে প্রত্যয়ন পত্রের জন্য আবেদন পত্র লিখে আবেদন করতে হয় সংশ্লিষ্ট মহলে। 

আশা করছি আপনি সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ে একটু হলেও উপকৃত হয়েছেন।

পরবর্তী লেখা পেতে চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইটএ এবং আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে। 

ধন্যবাদ। 

Leave a Comment

2 × three =