চাকরির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম বাংলায় | চাকরির দরখাস্ত লেখার নিয়ম

চাকরির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম বাংলায় লেখা সম্পর্কে এখন অনেকেই জানতে চান। একটি চাকরি কে না চায়? আর এই একটি চাকরি পাওয়ার প্রাথমিক এবং অন্যতম ধাপ হচ্ছে চাকরির জন্য সঠিক ভাবে একটি আবেদনপত্র লেখা। এবং আবেদনপত্রটি নির্ধারিত মহলে সাবমিট করা। কোনো সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অথবা ব্যবসায়িক কোম্পানি বা যেকোনো ক্ষেত্রে কাজ পাওয়ার উদ্দেশ্যে মূলত চাকরির আবেদনপত্র লেখা হয়। 

একটি আবেদনপত্র আপনার চাকরি পেতে অনেকখানি ভুমিকা রাখে। তাই এটিকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নাই। বরং আবেদনপত্রটি যত সুন্দর এবং সাবলীল ভাষায় স্পষ্ট লেখা যাবে চাকরি প্রার্থীর চাকরিটি পেতে অনেকটা সহজ হয়ে যাবে। 

আজ জেনে নেওয়া যাক চাকরির আবেদনপত্রে সথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সহ খুঁটিনাটি আদ্দপান্থ। আমাদের চেষ্টা হচ্ছে যেন চাকরির আবেদনপত্র লিখতে ভোগান্তি না হয় কারো।

চাকরির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম বাংলা ২০২২

চাকরির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম বাংলা
স্কুলে চাকরির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম বাংলা

আপনি চাকরির আবেদন পত্র বাংলা ভাষায় লিখেন আর ইংরেজি ভাষায় লেখেন  বেসিক নিয়মাবলি গুলো কিন্তু একই, এখানে শুধুমাত্র ভাষা রূপান্তর মাত্র। 

আমরা এখানে আপনাকে বাংলা ভাষায় যে কোন চাকরির জন্য আবেদন করার নিয়ম সম্পর্কে জানাবো।

চাকরির ক্ষেত্রে আবেদনপত্র লেখার সময় যে বিষয়ের দিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খেয়াল রাখতে হবে। 

ভাষাঃ প্রথমেই আবেদনপত্রের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ভাষার দিকে সর্বাধিক বার লক্ষ্য রাখতে হবে। যেন একটি শব্দ ও অস্পষ্ট বা অর্থহীন এবং বানান ভুল না থাকে। চাকরির ক্ষেত্রে ভাষাগত দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। সে ক্ষেত্রে স্পষ্ট আবেদনপত্র আপনার ভাষাগত দক্ষতার একটি বহিঃপ্রকাশ হিসেবে কাজ করবে।

তারিখঃ চাকরির জন্য আবেদনপত্র লেখার একদম প্রথমে বাম দিকে লেখার দিনের তারিখ লিখতে হবে। উল্লেখিত তারিখ দুই ফর্মেটেই লেখা যেতে পারে। উদাহরণঃ ১২/০৬/২০২২ অথবা ১২ জুন ২০২২। 

শুরুঃ তারিখের পর “বরাবর” লিখতে হবে প্রারম্ভিক শব্দ হিসেবে। সম্মান, শ্রদ্ধা, অর্থে বোঝানো হয়ে থাকে যা চাকরির আবেদনপত্রে চাকরির জন্য অত্যন্ত ভুমিকা রাখে। 

প্রাপকঃ আবেদনপত্রের এই অংশে “প্রাপক” অর্থাৎ যার কাছে এই আবেদনপত্রটি প্রেরণ করবেন তার নাম, পদবি এবং ঠিকানা উল্লেখ থাকে।  

অনেক সময়ে দেখা যায়, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিষ্ঠানের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য ঠিকানার পরিবর্তে পোস্ট বক্স নাম্বার উল্লেখ করে থাকে। অথবা কোনো পত্রিকা বা অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে আবেদনের আহ্বান করে থাকে। 

এমন হলে, তখন ঠিকানার জায়গায় পোস্ট বক্স নাম্বার উল্লেখ করতে হবে এবং আহ্বান করা পত্রিকার ঠিকানায় আবেদনপত্রটি পাঠাতে হবে। বর্তমানে বেশিরভাগ জব বা চাকরির আবেদন আহ্বানে এমন পদ্ধতি দেখা যায়। এতে ভয় বা গাবরে যাওয়ার কিছু নাই। 

বিষয়ঃ

প্রাপকের যাবতীয় তথ্য লেখা শেষে চাকরির জন্য প্রার্থিত পদের নামকে বিষয় হিসেবে উল্লেখ করতে হবে। 

বিজ্ঞপ্তির সূত্রঃ বরাবরের পর জনাব বা মহোদয় লিখে যথাযথ সম্বোধন করতে হবে। এর পরে চাকরির বিজ্ঞপ্তির বিশ্বস্ত সূত্র এবং তারিখ উল্লেখ করে লিখতে হবে। 

সকল তথ্যাদিঃ চাকরির আবেদন লেখার এই পর্যায়ে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত সকল তথ্য যেমন, (নিজের নাম, পিতা এবং মাতার নাম, জন্ম তারিখ, ধর্মীয় পরিচয়, জাতীয়তা, বৈবাহিক তথ্য, স্থায়ী এবং বর্তমান ঠিকানা, যোগাযোগের জন্য- মোবাইল নাম্বার, ইমেইল আইডি, পরিবারের যেকারোর একজনের সচল মোবাইল নাম্বার, শিক্ষাগত যোগ্যতা ( সার্টিফিকেট সহ ) এবং কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সকল তথ্য সঠিক ও সাবলীল ভাবে উল্লেখ করতে হবে। 

যদি থাকেঃ যে সকল তথ্য দরকার তা ইতিমধ্যে উপরের প্যারায় উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এর বাহিরে যদি অতিরিক্ত বা বাড়তি কোনো অভিজ্ঞতা যেমন, কোনো বিশেষ বিষয়ে প্রশিক্ষণ, ভাষিক দক্ষতা, খেলাধুলা বিষয়ে পারদর্শী, গানবাজনা বিষয়ে আগ্রহি এগুলো উল্লেখ করতে হয়। তবে খেলাধুলা এবং গানবাজনা এই দুইটি অভিজ্ঞতা শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদনে উল্লেখ করাই শ্রেয়।  

অতিরিক্ত যোগ্যতার অন্যতম একটি হল আইসিটি বা কম্পিউটার বিষয়ে কতটা পারদর্শী। এটা সব চাকরির আবেদনে বর্তমান সময়ে বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে গণ্য করা হয়। বিশেষ করে এক্সএল, মাইক্রোসফট অফিস এই কাজগুলি জানা ভীষণ জরুরি।  

অনুরক্তি বা সংযুক্তিঃ সবশেষ চাকরির জন্য আবেদন পত্র লেখা। এখন আবেদনপত্রে উল্লেখিত তথ্যের প্রমাণাদি হিসেবে সকল পরিক্ষার সনদপত্র, প্রশাংসাপত্র এবং নম্বর পত্রের সত্যায়িত কপি, অল্প দিনের মধ্যে তোলা পাসপোর্ট আকারের দুই কপি ছবি,  গেজেটেড কর্মকর্তার দ্বারা সত্যায়িত করা চারিত্রিক সনদপত্র সংযুক্ত করতে হবে। 

এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের চাহিদা এবং উল্লেখ সাপেক্ষে অন্যান্য বিষয়ের প্রমানপত্র উল্লেখ করতে হবে। যেমন; একজন স্বনামধন্য ব্যক্তির কাছ থেকে প্রশাংসাপত্র। 

আরও পড়ুনঃ

জন্ম তারিখ দিয়ে জন্ম সনদ

Surokkha Gov BD Vaccine Certificate Download

যেকোনো চাকরির জন্য আবেদনপত্র লেখার খুঁটিনাটি সকল বিষয়ে জানা হলো। এখন চাকরির জন্য একটি আবেদনপত্রের নমুনা দেখে নেওয়া যাকঃ

চাকরির দরখাস্ত লেখার নিয়ম
চাকরির দরখাস্ত লেখার নিয়ম

মনে করি, জনাব নাজমুল সাহেব দেশের অন্যতম একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পিসি কলেজ বাগেরহাটে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে উল্লেখিত কলেজ প্রিন্সিপাল মহোদয়ের কাছে একটি আবেদনপত্র লিখবেন। দেখে নেওয়া যাক নাজমুল সাহেবের লেখা চাকরির আবেদনপত্রটি; 

বরাবর,

অধ্যক্ষ মহোদয় 

সরকারি পিসি কলেজ, বাগেরহাট।

বিষয়ঃ ইংরেজি বিষয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে নিয়োগের জন্য আবেদন ।

জনাব

যথাবিহিত সম্মান প্রদর্শনপূর্বক নিবেদন এই যে, গত ২৮.০২৪.২০২২ তারিখে “দৈনিক কণ্ঠ”-এ বিজ্ঞপ্তির সুবাদে অবগত হয়েছি যে, আপনার প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি বিষয়ে কয়েকজন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। আমি উক্ত পদের একজন প্রার্থী হিসেবে আমার যােগ্যতা ও অভিজ্ঞতা আপনার সুবিবেচনার জন্য নিচে উপস্থাপন করছি 

নামঃ শেখ নাজমুল ইসলাম।

পিতার নামঃ শেখ আব্দুল জলিল। 

মাতার নামঃ নাসরিন সুলতানা।

বর্তমান ঠিকানাঃ গোপালগঞ্জ সদর, গোপালগঞ্জ, ঢাকা। 

স্থায়ী ঠিকানাঃ গ্রাম; উত্তর কচুবুনিয়া, পোস্ট; কচুবুনিয়া, উপজেলা; মোরেলগঞ্জ, জেলা; বাগেরহাট।

জন্ম তারিখঃ১০-১০-১৯৯৫।

জাতীয়তাঃ বাংলাদেশী। 

বৈবাহিক অবস্থাঃ অবিবাহিত। 

ধর্মঃ ইসলাম। 

যোগাযোগের জন্যঃ 

মোবাইলঃ ০১৭********

ফোনঃ ০৯৬৮*****

ইমেইলঃ [email protected]

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ

পরীক্ষাবিষয় / বিভাগসালগ্রেড পয়েন্টবোর্ড / প্রতিষ্ঠান
এস এস সিবিজ্ঞান২০১০৫.০০ঢাকা বোর্ড
এইচ এস সিমানবিক২০১২৫.০০ঢাকা বোর্ড
স্নাতকইংরেজি২০১৭৩.৭৫বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
স্নাতকোত্তরইংরেজি২০১৯৩.৬৫বরিশাাল বিশ্ববিদ্যালয়

অভিজ্ঞতা

১. দীর্ঘ ২ বছরের অধিক সময় একটি বেসরকারি কলেজের ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত আছি।  

২. ১ বছর একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালইয়ে ইংরেজি পড়িয়েছি।

অতএব, জনাবের আমার আকুল আবেদন এই যে, আমকে আপনার প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ পেতে আপনার একান্ত মর্জি হয়।

তারিখঃ ১২-০৫-২০২২

নিবেদক,

একান্ত অনুগত নিয়োগ প্রার্থী

শেখ নাজমুল ইসলাম। 

সংযুক্তি 

১) সকল পরীক্ষার সনদের সত্যায়িত ফটোকপি। 

)  সকল প্রশংসাপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি। 

৩) অভিজ্ঞতা সনদের ফটোকপি। 

৪) গেজেটেড কর্মকর্তা (প্রথম শ্রেণীর) প্রদত্ত চারিত্রিক সনদ। 

৫)  সদ্যতােলা পাসপাের্ট আকারের দুই কপি ছবি।

চাকরির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম বাংলায় এভাবে লিখতে হয়। এনজিও, বিমা, ব্যাংকে চাকরির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম হচ্ছে ঐ আবেদনে আপনার চাকরির অভিজ্ঞতা ও যাবতীয় তথ্য প্রমাণ সহ উপস্থাপন করা।

আরও পড়ুনঃ

স্কুলে চাকরির জন্য আবেদন পত্র

আমরা উপরে যে চাকরির জন্য আবেদন পত্র লেখার নিয়ম আপনাদের জানিয়েছি এই আবেদনপত্রটি আপনি স্কুলে চাকরির জন্য আবেদন পত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।

এখানে উল্লেখিত তথ্যগুলো তে আপনি আপনার নাম এবং আপনার ডকুমেন্টস তথ্য পূরণ করে সহজেই চাকরির জন্য আবেদন পত্র হিসেবে জমা দিতে পারবেন।

চাকরির দরখাস্ত লেখার নিয়ম

প্রিয় পাঠক চাকরির দরখাস্ত লেখার নিয়ম বা চাকরির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম যাই বলুন না কেন অর্থ কিন্তু একি।

চাকরির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম বাংলা লিখার প্রয়োজন হলে আপনি এই দরখাস্ত লেখার নিয়মটি অনুসরন করতে পারবেন।

কোম্পানির চাকরির আবেদন পত্র সহ যে কোন চাকরিতে আপনি এই পদ্দতিতে লিখতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ

গ্রামীণ ব্যাংকে চাকরির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম কি?

গ্রামীণ ব্যাংকে চাকরির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম জানতে আপনি আমাদের চাকরির দরখাস্ত লেখার নিয়ম পোস্ট পড়ুন।

এনজিও চাকরির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম কি?

আপনি এনজিও চাকরির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম সম্পর্কে জানতে এই পোস্ট সম্পূর্ণ পড়ুন।

উপসংহার,

আশা করি আপনি চাকরির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম বাংলা ২০২২ সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। চাকরির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম বা চাকরির দরখাস্ত লেখার নিয়ম সম্পর্কে আপনার আরও জানার থাকলে আমাদের কমেন্ট করে জানান।

অনলাইনে টাকা আয়, ইন্টারনেট সম্পর্কে জানতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

Leave a Comment

16 + 13 =