চলতি বছর ৪৩ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাইলট পর্যায়ের প্রথম ধাপে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষক এই কার্ডের আওতায় আসছেন।
কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘পাইলট পর্যায়ের উদ্বোধনী দিনে ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক কৃষি উপকরণ বাবদ ২ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রণোদনা পাবেন।’
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ফেনী জেলার ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কৃষক কার্ড কী ও কারা পাবেন
কৃষক কার্ড হলো কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি ডিজিটাল উদ্যোগ। এটি একটি বিশেষায়িত পরিচয়পত্র, যা কৃষকের জমির মালিকানা, ফসলের ধরন এবং মাটির স্বাস্থ্য—সব তথ্য একটি নিরাপদ কিউআর-ভিত্তিক সিস্টেমে সংযুক্ত করে।
এই কার্ডের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি ভর্তুকি, বীজ, সার এবং আর্থিক প্রণোদনা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড়—সব শ্রেণির প্রকৃত কৃষক এই কার্ডের আওতায় আসবেন। এছাড়া মৎস্যজীবী, খামারি এবং লবণচাষীরাও এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হবেন।
আরও পড়ুনঃ এক ওয়ানডেতে পাঁচ সেঞ্চুরির বিশ্ব রেকর্ড
কৃষক কার্ডে যেসব সুবিধা মিলবে
কার্ডধারীরা সরাসরি সরকারি ভর্তুকি ও আর্থিক প্রণোদনা পাবেন। ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক সংগ্রহের সুবিধা মিলবে।
সহজ শর্তে কৃষিঋণ, শস্য ও কৃষি বিমা, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্য সরাসরি বিক্রির সুযোগও থাকবে।
এছাড়া আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির সহায়তা, উন্নত চাষাবাদের প্রশিক্ষণ এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও রোগবালাই দমনে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ পাবেন কার্ডধারীরা।
ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা বছরে অন্তত ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন, যা সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে জমা হবে।
আরও পড়ুনঃ নৌপথের ভাড়া বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি, ১০০ কিলোমিটারে ভাড়া ৩ টাকা ১৭ পয়সা
আবেদন করতে যা লাগবে
কৃষক কার্ড পেতে প্রয়োজন হবে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর এবং জমির দলিল বা ভাগে চাষিদের জন্য প্রমাণপত্র।
ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট নম্বরও দিতে হবে। নিবন্ধন প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে স্থানীয় কৃষি অফিসের মাধ্যমে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রাথমিক তালিকা তৈরি করবেন এবং তথ্য যাচাই করে ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করা হবে। কার্ডটি বিনামূল্যে পাওয়া যাবে, এর জন্য কোনো টাকা লাগবে না।
আরও পড়ুনঃ কৃষকদের জন্য আসছে নতুন ব্যবস্থা, এক কার্ডেই মিলবে ১০ ধরনের সুবিধা
পাইলট উদ্বোধন ও পরবর্তী পরিকল্পনা
১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কৃষক কার্ড পাইলট কর্মসূচির উদ্বোধন হবে। দেশের ৫৬টি জেলার ৭৭টি উপজেলা এই অনুষ্ঠানে যুক্ত থাকবে।
এর মধ্যে ১৩টি উপজেলার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ থাকবে এবং বাকি ৬৪ উপজেলা ভার্চুয়ালি যুক্ত হবে। ফেনী জেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক কার্ডের মুদ্রিত কপি পাবেন।
সরকারের পরিকল্পনা হলো আগামী আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের সব কৃষককে কৃষক কার্ডের আওতায় আনা। পাঁচ বছরের মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ অক্টোবরে অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম, ফার্নেস অয়েল বাড়ল
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


