কৃষকদের জন্য নতুন ডিজিটাল পরিচয়পত্র ‘কৃষক কার্ড’ আসছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা এক কার্ডেই ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন, যার মধ্যে রয়েছে সরাসরি নগদ সহায়তা, ভর্তুকি মূল্যে কৃষি উপকরণ এবং সহজ শর্তে কৃষিঋণ।
কৃষি ও মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, চলতি বছর ৪৩ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাইলট পর্যায়ের উদ্বোধনী দিনে ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক কৃষি উপকরণ বাবদ ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন।
পাইলট কর্মসূচির উদ্বোধন হবে ১ অক্টোবর ২০২৬, ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। দেশের ৫৬টি জেলার ৭৭টি উপজেলা এই অনুষ্ঠানে যুক্ত থাকবে।
কৃষক কার্ড কীভাবে কাজ করবে
কৃষক কার্ড হলো একটি বিশেষায়িত ডিজিটাল পরিচয়পত্র, যা কৃষকের তথ্য—যেমন জমির মালিকানা, ফসলের ধরন এবং মাটির স্বাস্থ্য—একটি নিরাপদ কিউআর-ভিত্তিক সিস্টেমে সংযুক্ত করে।
এই কার্ডের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি সুবিধা, ভর্তুকি, বীজ, সার এবং আর্থিক প্রণোদনা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
কার্ডটি ডেবিট কার্ড হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। কৃষকরা এই কার্ড দিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা এবং লেনদেন করতে পারবেন।
আরও পড়ুনঃ অক্টোবরে অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম, ফার্নেস অয়েল বাড়ল
কারা কৃষক কার্ড পাবেন
ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা এই কার্ডের মূল লক্ষ্যভুক্ত। এছাড়া মৎস্যজীবী, খামারি এবং লবণচাষীরাও এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন, দলীয় বিবেচনায় কাউকে কার্ড দেওয়া হবে না। প্রকৃত কৃষকদের যাচাই-বাছাই করে কার্ড দেওয়া হবে।
কৃষক কার্ডে যেসব সুবিধা মিলবে
কার্ডধারীরা সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাবেন। ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা বছরে অন্তত ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।
এছাড়া ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ, স্বল্পমূল্যে কৃষিযন্ত্র, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, শস্য ও কৃষি বিমা, সেচ সুবিধা এবং প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ মিলবে।
কার্ডধারীরা মোবাইলের মাধ্যমে বাজারদর, আবহাওয়ার তথ্য এবং কৃষি পরামর্শও পাবেন।
আরও পড়ুনঃ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘটকালি সেবা
আবেদন করতে যা লাগবে
কৃষক কার্ড পেতে প্রয়োজন হবে এনআইডি কার্ডের কপি, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, মোবাইল নম্বর, জমির দলিল বা ভাগে চাষিদের জন্য প্রমাণপত্র এবং ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট নম্বর।
নিবন্ধন প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে স্থানীয় কৃষি অফিসের মাধ্যমে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রাথমিক তালিকা তৈরি করবেন এবং তথ্য যাচাই করে ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করা হবে।
কৃষক কার্ডের প্রাক-পাইলট পর্যায়ে ইতিমধ্যে ২২ হাজারের বেশি কৃষক সফলভাবে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে মিলছে না এলপিজি, ডিসিদের মাঠে নামার নির্দেশ
পরবর্তী পরিকল্পনা
সরকারের পরিকল্পনা হলো আগামী আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের সব কৃষককে কৃষক কার্ডের আওতায় আনা। পাঁচ বছরের মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, প্রি-পাইলটিং শেষে পাইলট প্রকল্প চালু করে আগামী কয়েক বছরে সারা দেশে এই কার্ড বিতরণ ও পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হবে।
আরও পড়ুনঃ গ্যাস সিলিন্ডার নাই, তবে ২৩০০ দিলে বাসায় দিয়ে আসবো
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


