দেশে এলপি গ্যাসের নতুন সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দামেও অনেক এলাকায় সিলিন্ডার মিলছে না।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন রোববার ১২ কেজি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে ১ হাজার ৬৮৩ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বাজারে সেই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়।
রাজধানী ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও সিলেটে সরবরাহ সংকট সবচেয়ে বেশি। অনেক ডিলার বলছেন, গত কয়েকদিন ধরে সিলিন্ডার সরবরাহ পাচ্ছেন না।
বাড়তি দামেও সিলিন্ডার নেই
রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরা ও বাড্ডা এলাকার একাধিক বিক্রেতা জানিয়েছেন, বাড়তি দাম দিয়েও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না তারা।
একজন ডিলার বলেন, ‘আমরা ডিপো থেকে সিলিন্ডার পাচ্ছি না। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।’
অনেক ক্রেতা অভিযোগ করেছেন, সিলিন্ডার না থাকার অজুহাতে দোকানিরা ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাইছেন। কেউ কেউ বলছেন, ‘গ্যাস সিলিন্ডার নাই, তবে ২৫০০ দিলে ব্যবস্থা করে দেব।’
আমদানি কমেছে ২৫ শতাংশ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ টন এলপি গ্যাস আমদানি হয়েছিল। সেপ্টেম্বর মাসের ২২ তারিখ পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ টন।
অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে এলপি গ্যাসের আমদানি কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কার্গো প্রিমিয়াম ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে ঠেকেছে। ফলে অনেকেই আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ মাতৃত্বকালীন ভাতা ২০২৫-২০২৬ আবেদন, কবে দিবে, পাবেন কীভাবে
সরকারের তদন্ত ও অভিযান
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, দেশে এলপি গ্যাসের কোনো ঘাটতি নেই। তিনি বলেছেন, ‘কিছু এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে এলপি গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে।’
জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোথায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে এবং কেন নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে—তার তথ্য ও প্রমাণসহ প্রতিবেদন দিতে।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে। অভিযানে ইতিমধ্যে একাধিক ডিলারকে জরিমানা করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ নিত্যপণ্য ও এলপি গ্যাসের বাজারে অভিযান, ১০২ প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা
অপারেটরদের বক্তব্য
এলপি গ্যাস অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আমিরুল হক বলেছেন, ‘খুচরা বাজারে দাম বৃদ্ধির দায় আমদানিকারকদের নয়। কারা সংকট তৈরি করছে, তাদের চিহ্নিত করা উচিত।’
তিনি জানান, চুক্তির পরিমাণের তুলনায় ২০ থেকে ৪০ শতাংশ কম পণ্য পাচ্ছেন তারা।
এদিকে পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই ঘাটতির কারণে অনেক পরিবার পাইপলাইনের গ্যাস ছেড়ে এলপি গ্যাসের ওপর নির্ভর করছে।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


