১৫ আগস্ট মোট কতজন শহীদ হন । ১৫ আগস্ট নিয়ে কিছু কথা ও বিবরন

১৫ আগস্ট মোট কতজন শহীদ হন আপনি জানেন কি? মুক্তি কামী বাঙ্গালীর স্বাধীনতার রূপকারকে ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশ ও পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্যতম হত্যাক্যান্ডের একটি হচ্ছে ১৫ই আগস্ট ১৯৭৫ সালে।

সাল ১৯৭৫ এর ১৫ ই আগস্ট, বাংলাদেশের জন্য আরও একটি কালো রাত। সেদিন ঘাতকদের মূল  উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তার আত্মীয়-স্বজনদের হত্যা করা। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি সহ তার আশেপাশে বাড়িগুলোতে ঐদিন হত্যাযজ্ঞ চালায় ঘাতকরা ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার স্ত্রী বেগম ফজিলতুন্নেছা মুজিবসহ তার পরিবারের মোট ২৬ জনকে হত্যা করা হয় সেই দিন।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহেনা তখন ছিলেন পশ্চিম জার্মানিতে সেখানে থাকায় তারা দুজন প্রানে বেঁচে যান।

সেই সময় তাদের উপর দেশে আশার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিলো।

Contents hide
1 ১৫ ই আগস্ট মোট কতজন শহীদ হন? – সেই কালো রাতে যারা শহীদ হয়

১৫ ই আগস্ট মোট কতজন শহীদ হন? – সেই কালো রাতে যারা শহীদ হয়

১৫ আগস্ট মোট কতজন শহীদ হন
১৫ আগস্ট মোট কতজন শহীদ হন

১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট এর সেই কালো রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব,তার পুত্র শেখ কামাল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামাল, শেখ জামালের স্ত্রী রোজী জামাল, শেখ রাসেল, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের কর্নেল জামিল, এসবি অফিসার সিদ্দিকুর রহমান, সেনা সদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হক।

একই সময়ে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে যুবলীগ নেতা ফজলুল হক মনি এবং তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি।

বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় হামলা করা হয় সেখানে আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার কন্যা বেবী, নাতি সুকান্ত বাবু, আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং একজন নিকটস্থ আত্মীয় বেন্টু খানকে হত্যা করা হয়।

১৫ আগস্ট এর যাদের হত্যা করা হয়েছে তাদের জীবন বা পরিচয় সম্পর্কে আমরা সংক্ষিপ্ত আকারে কিছু জানার চেষ্টা করবো।

১৫ই আগস্ট ১৯৭৫, শহিদের পরিচিতি

১৫ ই আগস্ট মোট শহীদ হয়েছিল ২৬ জন।

তাদের মধ্যে বেশিরভাগই বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্য।

তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা (বর্তমান প্রধান মন্ত্রী) ও শেখ রেহেনা বিদেশ এ থাকার কারনে বেঁচে যান।

চলুন দেখে নেই ১৫ ই আগস্ট মোট কতজন শহীদ হন তাদের পরিচিতি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 

শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই মার্চ (৩রা চৈত্র ১৩২৭ বঙ্গাব্দ) রাত ৮টায় তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্ভুক্ত ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের বাইগার নদী তীরবর্তী টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 

তিনি শেখ বংশের গোড়াপত্তনকারী শেখ বোরহানউদ্দিনের বংশধর।

15 ই আগস্ট 1975 সালে ঘাতক বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে হত্যার উদ্দেশ্যেই ধানমন্ডির 32 নম্বর বাড়িতে সশস্ত্র প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিল। 

তবে তারা শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি তারা একে একে 26 টি প্রাণ নিয়েছে ওই রাতে।

শেখ কামাল (বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে)

জন্ম : টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ, ৫ই আগস্ট, ১৯৪৯ সাল।

শেখ কামাল ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে। শেখ কামাল ঢাকার শাহীন স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন।

তারপর তিনি ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করে।

উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিএ অনার্স করেন। 

ছায়ানটে তিনি ছিলেন  সেতার বাদন বিভাগের ছাত্র। শেখ কামাল ছিলেন সাংস্কৃতিক, নাটক ও মঞ্চ অনুষ্ঠানের একনিষ্ঠ  সংগঠক।

শেখ কামাল ছিলেন ঢাকা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যাঙ্গনে অভিনেতা হিসেবে শেখ কামাল ছিলেন দুর্দান্ত। ছোটবেলা থেকেই শেখ কামাল ছিলেন খেলা প্রিয় একজন মানুষ। আবাহনী ক্রীড়া চক্রের প্রতিষ্ঠাতা শেখ কামাল।

বিশেষ করে শেখ রাসেল ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার মানোন্নয়ন করবার জন্য প্রচুর কষ্ট এবং শ্রম দিয়েছেন।

নতুন খেলোয়াড় তৈরি করবার জন্য শেখ রাসেল মাঠের মধ্যে যত বেশি সময় পারতেন অনুশীলন করাতেন। 

১৮ জুলাই ১৯৭৫ সালে সুলতান খুকুর সঙ্গে তার বিবাহ সম্পন্ন হয়।

শেখ রাসেল ছাত্রলীগের একজন সফল সংগঠক হিসেবে ৬৬- এর স্বত্বাধিকার আন্দোলন, ৬৯- এর গণ আন্দোলন ও ৭১- এর অসহযোগ আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা  পালন করেছিলেন।

25 শে মার্চ ১৯৭১ সালে যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা বাংলাদেশের ওপর আক্রমণ করে ওই রাতেই শেখ রাসেল মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য বাড়ি থেকে  বেরিয়ে পড়েন। 

তিনি লেফটেন্যান্ট হিসেবে কর্নেল ওসমানীর এডিসি ছিলেন।

১৫ ই আগস্ট ১৯৭৫ সালে নিহত হওয়ার আগে তিনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এমএ শেষ পর্বের পরীক্ষা দিয়েছিলেন।

ঐদিন ভোররাতে যখন তাদের হত্যা করার জন্য ঘাতকরা বাড়ি ঘেরাও করেছিল তখন তিনি সবার আগে নিচে নেমে এসেছিলেন এবং তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।

শেখ জামাল বঙ্গবন্ধুর (দ্বিতীয় ছেলে)

জন্ম ২৮ এপ্রিল ১৯৫৪ গোপালগঞ্জ টুংগীপাড়া

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মেজ সন্তান।

শেখ কামালের মতো শেখ জামাল শৈশবে শাহীন স্কুলে পড়তেন পরে তিনি রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা পাস করেন।

তিনি একটি সংগীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে গিটার বাজানো শিখতেন। শেখ জামাল ক্রিকেট খেলতেন আবাহনীর মাঠে। 

জুলাই ১৯৭১ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে ধানমন্ডি ১৮ নং রোডের বাড়িতে মায়ের সঙ্গে বন্দী অবস্থায় ছিলেন শেখ জামাল।

সেখান থেকে একদিন তিনি গোপনে পালিয়ে যান কালীগঞ্জ হয়ে মুক্তাঞ্চলে চলে যান এবং পরবর্তীতে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

শেখ কামাল এর মতো শেখ জামাল ও ঢাকা কলেজে পড়াশোনা করেন। ঢাকা কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় যুগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট মার্শাল জোসেফ আমন্ত্রণে সেদেশে তিনি সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে চলে যান।

পরে তিনি লন্ডনের সাউন্ড আর্মি একাডেমি থেকে সেনা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন । তিনি যখন দেশে ফিরেন তখন তিনি দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট যাঙ কে যোগ দেন। 

১৭ জুলাই ১৯৭৫ সালে তার আপন ফুফাতো বোনের সঙ্গে তার বিবাহ সম্পন্ন হয়। ১৫ আগস্ট ভোররাতে তাদের দুজনকে একসাথে গুলি করে হত্যা করা হয়।

শেখ রাসেল (বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র)

জন্ম : ঢাকা, ১৮ অক্টোবর ১৯৬৪ সাল।

বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে কনিষ্ঠ পুত্র ছিলেন শেখ রাসেল। শেখ রাসেল ছোট ছেলে হওয়ায় তিনি সকলের আদরের ছিলেন। শেখ রাসেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরী হাই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ছিল।

রাজনৈতিক পরিবেশ এবং সংকটের মাঝেও তিনি তাঁর সঙ্গী হিসেবে যে সাইকেল ছিল তা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে শেখ রাসেলের পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার পাশে থাকতে পারেনি।

দীর্ঘ ৯ মাসে পিতা কে না দেখার কারণে পিতার প্রতি এতটাই ভাব প্রবন হয়ে পড়ে যে যুদ্ধের পর সবসময় সে বঙ্গবন্ধুর কাছাকাছি থাকার যে ধরত।

১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট এ সকলকে হত্যা করবার পর শেখ রাসেলকে তাদের লাশ গুলো দেখিয়ে তারপর তাকে হত্যা করা হয়।

শেখ রাসেলকে কাজের লোকজনরা পেছনের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নিয়ে যায়। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি ঘাতকরা তাদের দেখে ফেলে। তাকে হত্যা করার পূর্বে তার কাছে তার শেষ ইচ্ছা জানতে চাওয়া হয়।

সে তার মায়ের কাছে যেতে চাই এবং তার মায়ের রক্তাক্ত লাশ দেখার পর সে ঘাতকদের কাছে মিনতি করে তাকে যেন হাসু আপার (শেখ হাসিনা)  কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু ঘাতকরা তাকেও রেহাই দেয়নি। ওখানে হত্যা করা হয় তাকে।

সুলতানা কামাল খুকু (শেখ কামালের স্ত্রী)

জন্মঃ ঢাকা,১৯৫১।

সুলতানা কামাল খুকু ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী দবির উদ্দিন আহমেদ এর কনিষ্ঠ কন্যা।

সুলতানা কামাল খুকু মুসলিম গার্লস স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান  বিভাগ থেকে অনার্স পাশ করেছিলেন।

এবং ১৯৭৫ সালে এম.এ পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি খেলাধুলা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ছিলেন দারুন পারদর্শন।

তিনি স্কুল থেকে আন্তঃ খেলাধুলার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে তার প্রতিভার নিদর্শন রাখেন। বিশেষ করে তিনি পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় লংজাম্পে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন।

১৯৬৬ সালে মোহামেডান ক্লাবের হয়ে পাকিস্তান অলম্পিক প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। 

১৯৬৮ সালে পাকিস্তান অলিম্পিকে ঢাকার মাঠে লংজাম্পে ১৬ ফুট দূরত্ব অতিক্রম করার রেকর্ড গড়েন এবং স্বর্ণপদক লাভ করেন।

এর আগে তিনি ১৯৬৯-৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিনিধিত্ব করে জাতীয় ক্রীড়ায় অংশ নিয়ে স্বর্ণপদক লাভ করেন।

নিখিল পাকিস্তান মহিলা এথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় ১৯৭০ সালে তিনি রেকর্ড সহ স্বর্ণ পদক লাভ করেন। ১৯৭৩-ও লংজাম্পে স্বর্ণ পদক লাভ করেন তিনি।

১৯৭৪ সালে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় সুলতানা কামাল লংজাম্প ছাড়াও ১০০ মিটার হার্ডলসে রেকর্ড গড়ে স্বর্ণপদক লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশের একজন শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন।

তিনি বাড়ির বড় বউ হওয়ায় তার সমাধান ছিল প্রচুর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের বিবাহের আগে আশীর্বাদ করেছিলেন।

পারভীন জামাল রোজী(শেখ জামালের স্ত্রী)

জন্মঃ১৯৫৬ সাল,সিলেট।

সার্ভেন্ট জামাল রোজী ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট বোন খাদিজা হোসেনের মেয়ে।তার পিতা সৈয়দ হোসেন ছিলেন বঙ্গবন্ধু সরকারের সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সচিব।

তিনি ধানমন্ডির গার্লস স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন এবং বদরুন্নেসা আহমেদ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল তার।তার বিবাহিত জীবন ছিল মাত্র ৩০ দিন।

বেগম মুজিবকে হত্যা করার পর জামালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রোজিও সুলতানাকে একসঙ্গে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। তাদের দুই বধুর যেমন আগমন হয়েছিল একসাথে তেমনি বিদায়ও হয়েছিল একসাথে।

শেখ আবু নাসের (বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই)

শেখ আবু নাসের লেখাপড়া করেন টুংগীপাড়া এবং গোপালগঞ্জে। বাবার অসুস্থতার কারণে এবং বড় ভাইয়ের রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকার কারণে তাকে খুব অল্প বয়সে পিতার সঙ্গে পরিবারের কাজকর্মে ও ব্যবসায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন।

এই কারণে তিনি খুলনা শহরে থাকতেন। তারপর তিনি খুলনার একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন।

১৯৭৫ সালে যখন তাদের হত্যা করা হয় তখন তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার বাড়িতে তারা অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী এবং তার চার ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গিয়েছিলেন।

আবদুর রব সেরনিয়াবাত (বঙ্গবন্ধুর সেজ বোনের স্বামী)

জন্ম : বরিশাল, ১৪ই চৈত্র ১৩২৭ বাংলা।

আবদূর  রব সেরনিয়াবাত বরিশাল জেলা থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেন।এবং এসএসসি পাশের পর কলকাতা ইসলামিয়া কলেজের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে  ক্লাস সহপাঠী ছিলেন। তারা দুজন বেকার হোস্টেলের একসঙ্গে থাকতেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেজ বোন আমেনা বেগমের সঙ্গে তার বিবাহ  সম্পন্ন হয়।  কলকাতা থেকে আই.এ এবং বি.এ পাস করার পর বাংলাদেশে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবি বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হন।

তারপর তিনি বরিশালের একজন প্রতিষ্ঠত আইনজীবী ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সম্মাননা পান।আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি ১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৭১ সালে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের শেষ ১৯৭২ সালের ১২ এপ্রিল তিনি কৃষি মন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন।

তিনি আবার ১৯৭৩ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করেন পরবর্তীতে তাকে বঙ্গবন্ধু সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ দেন।

বঙ্গবন্ধু সরকারের কৃষি ক্ষেত্রে আব্দুর রব সেরনিয়াবাত কৃষকদের কৃষি সংস্কার ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে তার ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

তিনি ছিলেন একজন সৎ এবং নিষ্ঠাবান ব্যক্তি যার কারণে সব মহলের তার ব্যক্তিত্ব ছিল প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

শেখ ফজলুল হক মনি (বঙ্গবন্ধুর মেজো বোনের বড় ছেলে)

জন্ম : টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ ৪ঠা ডিসেম্বর, ১৯৩৯ সাল

শেখ ফজলুল হক মনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ অনুসারী।

তিনি ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।

তিনি আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, দৈনিক বাংলার বাণী ও বাংলাদেশ টাইমস সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, সাপ্তাহিক ‘সিনেমা’ ও মধুমতি মুদ্রণালয়ের প্রতিষ্ঠাতা।

আরও পড়ুন

কম দামে ভালো ফোন 2022 বাংলাদেশ | Low Price Mobile in Bangladesh

বীর উত্তম কতজন ২০২২ | বীর উত্তম উপাধী কেন দেয়া হয়েছিল

শেখ ফজলুল হক মনি ছাত্র জীবন

১৯৫৬ সালে শেখ ফজলুল হক মনি ঢাকার নবকুমার স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। ১৯৫৮ সালে তিনি ঢাকার জগন্নাথ কলেজ থেকে অনার্স পাস করেন।

১৯৬০ সালে তিনে বরিশাল জেলার বি.এম কলেজ থেকে বি.এ পাস করেন।

এবং তিনি ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ বং করেন পরবর্তী সময়ে তিনি এলএলবি পাস করেন।

১৯৬৬ সালে শেখ ফজলুল হক মনি ছয় দফা আন্দোলন অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত যে আন্দোলন করেছিলেন সেই আন্দোলনে বাঙালির স্বাধিকার এর সনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলনে ফজলুল হক মনির ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

সেসময় ছয় দফা আন্দোলনে শ্রমিক গঠন করা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ  কাজে  শেখ ফজলুল হক মনির  অবদান ছিল অপরিসীম।

এবং তিনি ঐতিহাসিক ৭ই জুনের হরতাল সফল করার জন্য তার ভূমিকা ছিল অনেক।

ঐ সময় কালে তখনকার সরকার শেখ মনির বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করেন।১৯৬৬ সালের জুলাই মাসে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় করা হয়।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর যুবসমাজ ও মুক্তিযোদ্ধা সংগঠিত করে নিজেকে দেশের উন্নয়নে নিয়োজিত করার লক্ষ্যে শেখ মনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ১১ ই নভেম্বর ১৯৭২ সালে আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন।

আওয়ামী লীগ যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়।

শেখ ফজলুল হক মনি তেজগাঁও আঞ্চলিক শ্রমিকলীগের সভাপতি হিসেবে মনি শ্রমিক লীগ ও আওয়ামীলীগের বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজে অংশ নেন।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করলেন সেখানে শেখ মনি অন্যতম সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন।

১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালের সেই বিভীষিকাময় রাতে শেখ ফজলুল হক মনি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মনিকে হত্যা করে ঘাতকরা।

সেই রাতে শেখ মনির জ্যেষ্ঠপুত্র শেখ ফজলে শামস পরশ ও কনিষ্ঠপুত্র শেখ ফজলে নূর তাপস  রক্ষা পেয়ে যায় আলৌকিক ভাবে।

শেখ ফজলে শামস পরশের বয়স ছিল পাঁচ বছর এবং শেখ ফজলে নূর তাপসের মাত্র তিন বছর।

বেগম আরজু মনি (শেখ ফজলুল হক মনির স্ত্রী)

জন্ম : বরিশাল, ১৫ মার্চ ১৯৪৭ সাল।

বেগম আরজু মনি বরিশাল সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। 

বরিশাল বিএম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং একই কলেজ থেকে . এ. পাস করেন।

বেগম আরজু মনি ছিলেন আবদুর রব সেরনিয়াবাত এর জ্যেষ্ঠ কন্যা।শেখ ফজলুল হক মনি ছিলেন তার খালতো ভাই।

১৯৭০ সালে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিলো।অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্হায় দুই সন্তান এর মা আরজু মনিকে তার স্বামী শেখ ফজলুল হক মনির সাথে একসাথে হত্যা করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ হতে তিনি পরীক্ষা দেন  ১৯৭৫ সালে।

কর্ণেল জামিল উদ্দিন আহমেদ (বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা অফিসার)

জন্ম : গোপালগঞ্জ, ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৩ সাল।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্ণেল জামিল উদ্দিন আহমেদ ১৯৫২ সালে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দান করেন এবং ১৯৫৫ সালে তিনি কমিশনপ্রাপ্ত হন।

তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সচিবালয়ে যোগ দেন পাকিস্তান থেকে ফিরে আসার পর।

১৯৭৩ সালে  বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট তাকে ভোর ৫ টার সময় বঙ্গবন্ধু লাল টেলিফোনে তাকে জানানো হয় বঙ্গবন্ধুর বাসভবন ঘাতকরা ঘেরাও করে ফেলেছে।

একথা জানার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের দিকে রওনা হন।

কিন্তু সোহানবাগ মসজিদের সামনে ঘাতকরা তাকে হত্যা করে ফেলে।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে তিনি ১৯৫২ সালে ক্যাডেট ক্যারি হিসেবে যোগদান করেন।এবং তিনি ১৯৫৫ সালে কমিশনপ্রাপ্ত হন।

বেবী সেরনিয়াবাত (আবদুর রব সেরনিয়াবাতের ছোট মেয়ে)

জন্ম : বরিশাল, ২০ মে ১৯৬০ সাল।

বেবী সেরনিয়াবাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরী হাইস্কুলের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন।

যখন তাকে হত্যা করা হয় তখন তিনি আবদুর রব সেরনিয়াবাত এর কাছেই ছিলেন।

আরও পড়ুন

সত্যায়িত মানে কি? | কিভাবে সত্যায়িত করতে হয়

ইতিহাস পাঠ করা প্রয়োজন কেন? । বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা

থাইরয়েড কি খেলে ভালো হয় । থাইরয়েড রোগের লক্ষণ কি?

আরিফ সেরনিয়াবাত (আবদুর রব সেরনিয়াবাতের কনিষ্ঠ পুত্র)

জন্ম : ২৭ মার্চ, ১৯৬৪ সাল।

আরিফ সেরনিয়াবাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন।

যখন তাকে হত্যা করা হয় তখন তিনিও তার বাবা  আবদুর রব সেরনিয়াবাত এর কাছেই ছিলেন।

সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবু (আবদুর রব সেরনিয়াবাতের নাতি)

জন্ম : গৌরনদী, বরিশাল, ২২ জুন ১৯৭১ সাল।

সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবু হলেন আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বড় ছেলে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর জ্যেষ্ঠ পুত্র।

সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবু নিহত হওয়ার সময় তার বয়স ছিল ৪ বছর এবং ঢাকায় তিনি তার দাদার বাসায় বেড়াতে এসেছিল।

শহীদ সেরনিয়াবাত (আবদুর রব সেরনিয়াবাতের ভাইয়ের ছেলে)

জন্ম : বরিশাল, ২৬ মার্চ ১৯৪০ সাল।

শহীদ সেরনিয়াবাত বরিশালের বি এম স্কুল থেকে এস সি সি পাস করেন। এবং বি এম  কলেজ থেকেই  আই. এ. ও বি. এ. পাস করেন।

তিনি ঢাকা থেকে আইন বিভাগে পাস করে বরিশালে কোর্টে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ ছিলেন।

শহীদ সেরনিয়াবাত দৈনিক বাংলা পত্রিকার বরিশালের সংবাদদাতা ছিলেন। ১৫ আগস্ট এর দিন তিনি চাচার বাসায় অবস্থানকালে নিহত হন।

আবদুল নঈম খান রিন্টু (আওয়ামী লীগ নেতা আমীর হোসেন আমুর খালাতো ভাই)

জন্ম : বরিশাল, ১ ডিসেম্বর ১৯৫৭ সাল।

আবদুল নঈম খান রিন্টু বরিশাল জেলা স্কুল থেকে এস এস সি পাস করেন।তিনি বরিশালের একটি সাংস্কৃতিক দলের সঙ্গে ঢাকায় এসেছিলেন।

এবং তখনকার কৃষিমন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় থাকা অবস্থায় ১৫ই আগস্ট নিহত হন।

আড়ও পড়ুনঃ

হিসাব বিজ্ঞান কাকে বলে? হিসাববিজ্ঞানকে ব্যবসায়ের ভাষা বলা হয় কেন

এমবি ট্রান্সফার করার নিয়ম । GP, BL, Robi MB Transfer Rules 

সত্যায়িত মানে কি? | কিভাবে সত্যায়িত করতে হয়

১৫ ই আগস্ট মোট কতজন শহীদ হন FAQS

১৫ ই আগস্ট মোট কতজন শহীদ হন?

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট মোট ২৬ জন শহীদ হন।

কারা ১৫ ই আগস্ট শহীদ হয়েছিল?

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার এর সদস্য এবং আরও অনেকে।

১৫ আগস্ট ১৯৭৫ শেখ হাসিনা কোথায় ছিলেন?

পড়া লেখার উদ্দেশ্যে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ শেখ হাসিনা ছিলেন পশ্চিম জার্মানিতে। শেখ হাসিনা ছাড়া ঐ সময়ে বাংলাদেশের বাইরে বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানাও ছিলেন।

উপসংহার

আশা করছি ১৫ ই আগস্ট মোট কতজন শহীদ হন এই সম্পর্কে আপনাদের সঠিক তথ্য দিতে পেরেছি।

১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট আমাদের বাঙালি জাতির জন্য খুবই দুঃখজনক একটি দিন ছিল।

আমাদের পক্ষ থেকে সেদিন যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের জানাই গভীর শ্রদ্ধা।

তারপরও যদি আপনার কোনো মতামত থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করবেন। 

সব বিষয়ে নিত্য নতুন আর্টিকেল পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট।

চোখ রাখুন আমাদের ফেসবুক পেজে।    

Leave a Comment

thirteen − 6 =