জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সেবা আরও সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এখন থেকে এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধন মাঠ পর্যায়েই করা যাবে। এর ফলে জন্মতারিখ বা বয়স সংশোধনের জন্য আর ঢাকায় নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে যেতে হবে না। উপজেলা, জেলা কিংবা সংশ্লিষ্ট থানা নির্বাচন অফিস থেকেই নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
দীর্ঘদিন ধরে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষমতা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে থাকায় সাধারণ মানুষকে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হতো। অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে ঢাকায় এসে আবেদন করেও দ্রুত সমাধান পেতেন না। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এই ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করছে নির্বাচন কমিশন।
এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধন মাঠ পর্যায়েই চালুর পাশাপাশি ভোটার এলাকা পরিবর্তন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন এবং এনআইডি সেবার আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। এতে নাগরিকদের সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয় হবে।
এনআইডি সেবা সহজ করতে নির্বাচন কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যেমন এসএসসি, জেএসসি বা পিইসি পরীক্ষার সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন স্থানীয় পর্যায়েই নিষ্পত্তি করা যাবে।
উপজেলা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা এই আবেদন নিষ্পত্তি করবেন। আর বিভাগীয় শহর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় সংশ্লিষ্ট থানা নির্বাচন কর্মকর্তারা এই দায়িত্ব পালন করবেন। এর ফলে নাগরিকদের আর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যেতে হবে না।
আরও পড়ুনঃ আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে নতুন ফিচারের ছড়াছড়ি, কী কী বদল আসছে?
কেন আবার মাঠ পর্যায়ে ফিরল জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষমতা
২০২৩ সালের শেষ দিকে নিরাপত্তা ও জালিয়াতি প্রতিরোধের কারণ দেখিয়ে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষমতা মাঠ পর্যায় থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তখন এসব আবেদন শুধু নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকেই নিষ্পত্তি করা হতো।
কিন্তু এতে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। অনেক আবেদন মাসের পর মাস ঝুলে থাকায় ভোগান্তি বাড়ে। বিভিন্ন অভিযোগ এবং গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন আবারও স্থানীয় পর্যায়ে এই ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অনলাইনেই হবে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন
নতুন নিয়ম অনুযায়ী ভোটার এলাকা পরিবর্তন বা এনআইডি স্থানান্তরের আবেদনও অনলাইনের মাধ্যমে করা যাবে।
নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনলাইনের মাধ্যমেই সেটি নিষ্পত্তি করবে। ফলে এই সেবা নিতে আর নির্বাচন অফিসে বারবার যেতে হবে না। এনআইডি সংশোধনের প্রথম আবেদনের জন্য ভ্যাটসহ ১১৫ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ৪ ক্যাটাগরির পদে চাকরির সুযোগ, আবেদন শেষ ২৪ আগস্ট
প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন আরও সহজ
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়াও আগের তুলনায় সহজ করা হয়েছে।
আগে অনলাইন আবেদন ও বায়োমেট্রিক সম্পন্ন হওয়ার পর দেশে দুই ধাপে তদন্ত করা হতো। এখন আবেদন ও বায়োমেট্রিক তথ্য অনলাইনে আপলোড হওয়ার পর প্রাথমিক যাচাই শেষে তথ্য সঠিক পাওয়া গেলে সরাসরি অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এতে একটি অতিরিক্ত ধাপ বাদ যাবে এবং সময়ও কম লাগবে।
এ ছাড়া ভবিষ্যতে ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা আরও কমানো যায় কি না, সে বিষয়েও নির্বাচন কমিশন পর্যালোচনা করছে। বর্তমানে ১৬ বছর বয়স থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হলেও ভবিষ্যতে তা আরও কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
উপসংহার
এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধন মাঠ পর্যায়েই চালুর সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তির খবর। এতে সময়, অর্থ এবং অপ্রয়োজনীয় হয়রানি অনেকটাই কমে আসবে।
একই সঙ্গে অনলাইনে ভোটার এলাকা পরিবর্তন এবং প্রবাসীদের সহজ নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হলে নির্বাচন কমিশনের ডিজিটাল সেবা আরও কার্যকর হবে এবং নাগরিকরা দ্রুত প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
আরও পড়ুনঃ এনআইডি সংশোধন ও হারানো কার্ড তুলতে বাড়ছে ফি, জেনে নিন নতুন খরচ
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


